এক ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড, অন্য দুইজনের যাবজ্জীবন

ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ব্যবসায়ী নবাব আলীকে হত্যার দায়ে এক ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে অন্য দুই ছিনতাইকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম কুদ্দুস জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও একমাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
 
এ বিষয়ে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী খোন্দকার আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. বাচ্চু মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার আব্দুল হালিমের ছেলে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পারগেন্ডারিয়া এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে মো. সজল ও কুমিল্লার দেবীদ্বারের রাজা মোহার এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. সুমন ওরফে মেসি। আসামিদের মধ্যে রায় ঘোষণার আগে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বাচ্চুকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মৃত্যু পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি হাই কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন। মামলায় ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
 
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কেরাণীগঞ্জের জিনজিরার বটতলা এলাকায় বেরিবাঁধের ওপর নবাব আলীকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নবাবের ভগ্নিপতি মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে বাচ্চুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাচ্চু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 
 
জবানবন্দিতে বাচ্চু বলেন, আমি (বাচ্চু), সজল ও সুমন প্রথমে তিনজন মিলে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করি। পরে চকবাজার থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু কিনি। রাতে ছিনতাই করার জন্য জিনজিরার বটতলায় যাই। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর দেখি একজন মোল্ল-মুসল্লি আসতেছে। তাকে আটকাই এবং বলি যা আছে দে। তখন ব্যাগ দিয়ে সজলকে ওই লোক বাড়ি দেয়। এসময় আমি ওই লোকটাকে চাকু দিয়ে পার দেই। রক্ত দেখে দৌড় দেই। আর মোবাইল নেয় সজল। পরে ৫০০ টাকা সেই মোবাইল বিক্রি করে।  
 
কেরাণীগঞ্জের গুলজারবাগ এলাকায় থেকে নবাব আলী ফেরি করে চশমা বিক্রি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনার আমতলী থানার ছোনাউটা।
 
ইত্তেফাক/এমআই