আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের আঘাতে যুবকের মৃত্যু, আহত ১২

 
কালাই উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামের শাহ পাড়ায় আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের অস্ত্রের আঘাতে সাইদুল ইসলাম (৩৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা  বিক্ষোভ শুরু করে।
 
তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৫৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত এসআই রফিকুল ইসলাম, পিএসআই আসাদুজ্জামানসহ ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালাই থানার এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি শাপলা হোসেনকে (২৮) ধরার জন্য সোমবার ভোরে তার বাড়িতে যায়।
 
IMG0
 
পুলিশ এ সময় দরজায় ধাক্কা-ধাক্কি  শুরু করে। অভিযুক্ত শাপলার চাচা সাইদুল ইসলাম (৩৪)  পুলিশের সামনে এসে দরজায় ধাক্কা-ধাক্কি করার কারণ জানতে চান। তখন সাইদুল ও পুলিশের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সাইদুলের মাথায় পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করেন এসআই রফিক । এরপর তাকে মারধর করা হয়। এতে সাইদুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুলিশ অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  নিয়ে যায়।
 
কর্তব্যরত চিকিৎসক মৌসুমী আকতার তাকে মৃত্ ঘোষণা করেন।
 
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে উপস্থিত হয়। এসআই রফিক ও  এসআই আসাদকে তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। জনতা এক পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের গেট ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করেন। এরমধ্যে জয়পুরহাট থেকে দাঙ্গা পুলিশ গিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ ৫৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন।
 
আহতদের মধ্যে ৫জনকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও ২জনকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
 
IMG1
 
এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার জন্য কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন, ইউএনও আফাজ উদ্দিনসহ জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
 
মিনফুজুর রহমান মিলন বলেন,  এটি কোন ক্রমেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বিষয়টির তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
 
ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, ভোরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। পুলিশের পিস্তলের আঘাতেই সাইদুলের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন।
 
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত এসআই রফিকুল ইসলাম রফিক, এসআই আসাদুজ্জামান আসাদ, কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম (নং ৩১৯) এবং কনস্টেবল ফারুক হোসেনকে (নং ৬০৪) সাময়িক সাসপেন্ড করা হয়েছে ।
 
পুলিশ সুপার মো. রশীদুল হাসান জানান, পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। তাই পুলিশের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হতে পারে। তবে কেউ চাইলে আদালতেও মামলা করতে পারেন।
 
অপরদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহেল বাকীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
কমিটির অপর সদস্যরা হচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ মোবারক জুলেয়। আগামী ৭কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
 
জেলা প্রশাসক মো. মোকাম্মেল হক জানান, ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের আঘাতে নিহত সাইদুল ইসলামের জেলা আধুনিক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন।
 
ইত্তেফাক/ আরকেজি