সংযোগ সড়কের অভাবে চালু হচ্ছে না মাগুরার এই সেতুটি

 
নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার চারমাস পেরিয়ে গেলেও মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরে মধুমতি নদীর উপর নির্মিত সেতুটি সংযোগ সড়কের অভাবে চালু হচ্ছে না।
 
প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬শ' মিটার লম্বা সেতুটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নির্মাণ করা হয়েছে। এ সেতুটি ২০১৩ সালে নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করে এ বছর জুলাই মাসে নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু সেতুর পশ্চিম পাড়ের এ্যাপ্রোচ রোডের জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। পূর্বপাশের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হলেও পশ্চিম পাশে কিছু পরিবারের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুই হয়নি। ফলে দুই তীরের হাজারো মানুষের স্বপ্নের এ বিশাল স্থাপনাটি কোন কাজেই লাগছে না। এ নিয়ে এলাকা বাসির মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
 
ব্রিজের অধিগ্রহণের জন্য অন্তর্ভুক্ত জাঙ্গালিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিরু মিয়া, মিজানুর রহমানসহ একাধিক ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন- সেতু তৈরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর। এর পর থেকে তারা জমি অধিগ্রহণের নোটিশ পেয়ে তাদের জমির সকল কাগজপত্র  প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাদের কাগজের যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে সেটি আগেই বলে সংশোধন করা উচিত ছিল। কিন্তু তিন বছর ধরে গড়িমসি করে তাদের জমি ও ঘরবাড়ির ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা হস্তান্তর করা হয়নি। এখন ব্রিজ সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের জমি সংক্রান্ত নতুন নতুন কাগজপত্রের জন্য তাগাদা দিচ্ছে। এ অবস্থায় তারা ক্ষতিপূরণের টাকা না পেলে কিভাবে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র যাবে?  ইতিমধ্যে ব্রিজ এর কাজ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তারা ক্ষতিপূরণ এর টাকা বুঝে পাননি। ফলে বাড়িঘর সরাতে পারছেন না। ব্রিজও চালু হচ্ছে না। ব্রিজ দ্রুত চালু হোক তা অন্যরা যেমন চান, তারাও চান।
 
এ প্রসঙ্গে সেতুটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এলজিইডি'র মহম্মদপুর উপজেলা প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র নন্দী জানান- ১৫০টি পাইলের উপর ১৫টি স্প্যান ও ৭৫টি গার্ডার বসিয়ে এ সেতুটি তৈরির নির্ধারিত তারিখ ছিল এ বছরের ১১ই মে। দুমাস বেশি সময় বাড়িয়ে জুলাই মাসেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্রিজের পূর্ব পাশে এ্যাপ্রোচ রোডও তৈরি হয়ে গেছে। শুধুমাত্র পশ্চিম পাশের  এপ্রোচ রোডটি তৈরি সম্পন্ন হলেই দ্রুত ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে।
 
মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজমুল হক জানান- ভুক্তভোগীরা সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে প্রশাসনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া হবে। ইতিমধ্যে বেশকিছু ভুক্তভোগী তাদের টাকা বুঝে পেয়েছেন। এজন্য তিনি কাউকে কোন ঘুষ বা অতিরিক্ত টাকা না দেয়ার আহ্বান জানান। অচিরেই ভুক্তভোগীদের টাকা বুঝিয়ে দিয়ে এপ্রোচ রোডের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 
ইত্তেফাক/জামান