প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে চেয়ারম্যান উধাও, স্বামীর মৃত্যু

 
প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে মো. সাইদ আনোয়ার (৪২) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
ঘটনার পর গ্রাম্য সালিস বসে। এতে চেয়ারম্যানের লোকজন গৃহবধূর স্বামীকে (৪৫) আইনের আশ্রয় না নেওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে অপবাদ দেয়।
 
চেয়ারম্যানের লোকজন ও মাতুব্বরদের দেওয়া অপবাদ সইতে না পেরে স্বামী আবুল হোসেন মারা যান। সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১২নং তরফপুর ইউনিয়নে তরফপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
 
আবুল হোসেনের মৃত্যুর পর প্রতারক চেয়ারম্যান ও তার সহযোগিসহ মাতুব্বরদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
 
মঙ্গলবার এলাকাবাসী জানায়, তরফপুর মধ্যপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল হোসেনের স্ত্রী রোজিনা বেগম। স্বামী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় রোজিনা বেগম ১২নং তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. সাইদ আনোয়ারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে প্রেম বিনিময় চলে আসছিল। তাদের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিক সালিসও হয়েছে বলে জানা গেছে।
 
স্ত্রীর এমন অনৈতিক ঘটনা জানতে পেরে আবুল হোসেন সম্প্রতি দেশে ফিরে আসেন। ২৯ সেপ্টেম্বর  রোজিনা বেগম দুই সন্তানের মধ্যে একজনকে নিয়ে টাঙ্গাইলে কেনাকাটা করতে যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরে রোজিনা  সন্তানসহ চেয়ারম্যান মো. সাইদ আনোয়ারের সঙ্গে উধাও হয়ে যান বলে অভিযোগ উঠে।
 
এদিকে স্ত্রী ও সন্তান ফিরে পাওয়ার দাবীতে আবুল হোসেন থানায় অভিযোগ দিতে গেলে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল চেয়ারম্যানের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে নানা ভাবে হুমকি দেখিয়ে মামলা করতে দেয়নি।
 
এদিকে রবিবার তরফপুর মধ্যপাড়া গ্রামের তারা মোল্লার বাড়িতে এ নিয়ে এক গ্রাম্য সালিস বসে। এতে মাতুব্বর ও আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম মোল্লা, শাহআলম, ফরহাদ, আরজুসহ চেয়ারম্যানের লোকজন গৃহবধূর স্বামী আবুল হোসেনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখালে তিনি অসুস্থ্ হয়ে পরেন।
 
বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে রবিবার রাতে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে সোমবার তিনি মারা যান। আবুল হোসেন মারা যাওয়ার পর একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পুলিশকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
মির্জাপুর থানার ওসি একেএম মিজানুল হক মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তিনি শুনেছেন।লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইদ আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/ আরকেজি