বগুড়ায় মা-মেয়ে নির্যাতন: তুফানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

 
বগুড়ায় কলেজে ভর্তির আশ্বাস দিয়ে  শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও পরে তাকেসহ তার  মাকে  নির্যাতন করে মাথা ন্যাড়া করার বহুল আলোচিত ঘটনায় দায়ের হওয়া  দুটি মামলার তদন্ত শেষে বগুড়ার শহর শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক তুফান সরকারসহ ১৩জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র  (চার্জশিট) দাখিল করেছে  পুলিশ। মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা  বগুড়া  সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক  (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তুফান সরকারসহ ১৩জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলারই চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন । মা- মেয়ে নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে ধর্ষণের ঘটনায় তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান রুনু ও নাপিত জীবন রবিদাস ও আনজুয়ারার বিরুদ্ধে কোন সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকায় তাদেরকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে । ফলে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে মোট ১০ জনকে ।
 
যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে তারা হচ্ছে বহিষ্কৃত শহর শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার, তার স্ত্রী আশা খাতুন, স্ত্রীর বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি, শাশুড়ি রুমি খাতুন, তুফান বাহিনীর সদস্য আতিক, মুন্না, আলী আজম দিপু, রূপম, শিমুল, জিতু, রুমকির সহযোগী আনজুয়ারা ও  নাপিত জীবন রবিদাস ।  এদের মধ্যে শিমুল পলাতক রয়েছে ।  বাকি সকল আসামিকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে ।  আনজুয়ারা, নাপিত জীবন ও রুনু এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না ।  মা- মেয়েকে রুমকির বাসায় নিয়ে নির্যাতন ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এই ১৩ জনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে ।
তবে ধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মোট ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে । এই মামলা থেকে জামিলুর রহমান রুনু ও নাপিত জীবন রবিদাস ও আনজুয়ারার  বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করে তাদের অব্যাহতি দানের সুপারিশ করছেন তদন্ত কর্মকর্তা ।
আসামিদের মধ্যে তুফান বগুড়া জেলে মাদক সেবন করায় তাকে কাশিমপুর কারাগারের হাইসিকিউরিটি সেলে পাঠানো হয়েছে। তার শ্বশুর রুনু একটি মামলায় জামিন পেলেও অপরটিতে জামিন পাননি । ফলে রুনুসহ  ৯জন বগুড়া কারাগারে আছেন। 
 
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে , তুফানের সহযোগী আতিক, দিপু এবং  নাপিত জীবন আদালতে মা ও মেয়েকে ন্যাড়া এবং নির্যাতনের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়াও তদন্তকারী কর্মকর্তা তুফান, আশা, রুমকি ও রুমি বেগম সহ অন্যদের কয়েকদফা রিমান্ডে নিয়েও স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারেননি। তবে ভিকটিম ছাত্রীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে  । এছাড়াও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখসহ  ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীকে নাবালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।
 
মামলার অবিভযোগপত্রে মোট ১৬জন সাক্ষী রাখা হয়েছে। এছাড়া আলামত হিসেবে তুফানের প্রাইভেট কার, দুটি ক্ষুর, দুটি কাঁচি, ভিকটিমদের স্বাক্ষর নেওয়া কাউন্সিলর রুমকির পৌরসভার প্যাডের পাতা, নির্যাতনের এসএস পাইপ, মা ও মেয়ের কেটে ফেলা চুল আছে।
 
তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান , দুটি মামলায় প্রধান অভিযুক্ত তুফান । ধর্ষণের ঘটনায় রুনু , নাপিত জীবন ও আনজুয়ারার সম্পৃক্ততার সাক্ষ্য প্রমাণ মেলেনি । তাই ঐ মামলা থেকে ৩ জনকে অব্যাহতি দানের সুপারিশ করা হয়েছে । তবে মা- মেয়েকে নির্যাতন ও মাথা ন্যাড়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তুফানসহ ১৩ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যাদের সকলের বিরুদ্ধেই  আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। পলাতক আসামি শিমুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।  এজাহারে নাম না থাকলেও ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ থাকায় তুফানের শ্বশুর ও নাপিত জীবন রবিদাস ও রুমকির সহযোগী আনজুয়ারাকে এই মামলার চার্জশিটে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ।
 
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, মামলা দুটির অভিযোপত্র মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালতের জিআরও শাজাহান মিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে । বুধবার আদালতে উপস্থাপন হবে ।
 
ইত্তেফাক/ আরকেজি