দেশের পূর্বাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের বৃহত্ পাইকারি মোকাম আশুগঞ্জে দিন দিন কমছে ধানের আমদানি। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এই মোকামে ধানের আমদানি এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। হাওড়ে ধান নেই, তাই আমদানি নেই আশুগঞ্জ মোকামে। আর আমদানি কমে যাওয়ায় এবার ধানের দামও যেনো আকাশছোঁয়া।
এদিকে ধান সংকটের কারণে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলার দেড় শতাধিক চাতালকল। যাদের কাছে আগে থেকেই ধান মজুদ রয়েছে তাদের অধিকাংশ মিলই এখন সচল রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যে ধান সংকটের কারণে চাতাল কলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ধান-চাল ব্যবসায়ীরা।
মোকামের ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের পূর্বাঞ্চলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলের উত্পাদিত ধান আশুগঞ্জ মোকামে বেচা-কেনা হয়। আর হাওরাঞ্চলের উত্পাদিত ধান দিয়েই চলে আশুগঞ্জ উপজেলার অর্ধ সহস্রাধিক চাতাল কল। অন্যান্য বছর আশ্বিন মাসে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০টি নৌকা দিয়ে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার মণ ধান বাজারে বেচা-কেনা হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি নৌকা দিয়ে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার মণ ধান আসছে এ মোকামে। যা গত বছরের তুলনায় এক তৃতাংশেরও কম। আর এ কারণে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় সবচেয়ে বড় পাইকারি মোকাম আশুগঞ্জে বেড়েছে চালের দাম।
আশুগঞ্জের ধান চাল ব্যবসায়ী মো. কামরুজ্জামান রিপন বলেন, ধানের দাম বেশি হলে স্বাভাবিকভাবে চালের দামও বেশি হয়। বর্তমানে চাল বিআর-২৯ প্রতি ৫০ কেজির বস্তা ২২৫০ থেকে ২২৭০ টাকা আর মোটা চাল ১৮শ টাকা থেকে ১৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা চাতাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, হাওরাঞ্চলের বৃহত্ এই মোকামে ধানের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আগামী ১৫ দিন পর বাজারে আর ধান পাওয়া যাবে না। আর ধান সংকটের কারণে আগামী এক মাসের মধ্যে জেলার অর্ধ সহস্রাধিক চাতালকলের মধ্যে অধিকাংশই বন্ধ হয়ে যাবে। মিল কিছু চালু রাখতে হলে উত্তরাঞ্চলের ধানের উপর নির্ভর করতে হবে।
ইত্তেফাক/নূহু