পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এক স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ প্রচারসহ প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখানোয় মঙ্গলবার সে আত্মহত্যা পথ বেছে নেয়।
বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে সোনিয়ার লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। ওই রাতেই ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পরিবারের লোকজন থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা রেকর্ড করেনি। ঘটনার পরপরই ওই দুই ধর্ষক গা ঢাকা দিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও উপজেলার কালারাম জোত গ্রামের পাথর শ্রমিক জাহেরুল ইসলামের কন্যা রহিমা আক্তার সোনিয়া। সোনিয়াকে তিনমাস আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ডবয় মনসুর আলম রাজন এবং বাংলালিংঙ্কের কাস্টমার কেয়ারের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান আতিক বাসায় নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে রাজন ও পরে আতিক তাকে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সেই ভিডিও ফুটেজ প্রচার ও কাউকে জানালে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে গত তিন মাস থেকে তারা সোনিয়াকে ধর্ষণ করে আসছে।
সে সোমবার ঘটনাটি তার মা ও মামাকে জানায়। সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম ও মামা ফারুক ধর্ষকদের সাথে কথা বলেন। বিষয়টি ফাঁস করে দেয়ায় রাজন ও আতিক মোবাইল ফোনে সোনিয়াকে অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ প্রচারের ভয় দেখায় এবং নানা রকম হুমকি দিতে থাকে। আর অপমান সহ্য করতে না পেরে মঙ্গলবার অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয় সোনিয়া।
সোনিয়ার বাবা জাহেরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে রাজন ও আতিকের নামে তেতুলিয়া থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেনি। আসামিও ধরেনি। সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম বলেন, রাজন ও আতিক আমার মেয়েকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
তেতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক নাজিমউদ্দিন জানান, ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে বাধ্য করেছে আত্মহত্যা করতে। পুলিশ এ ঘটনায় ভালো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।তেঁতুলিয়া থানার ওসি সরেস চন্দ্র জানান, সোনিয়া আত্মহত্যা করেছে সংবাদ শুনে আমরা একটি ইউডি মামলা রেকর্ড করেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে যদি কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে তাহলে আমরা যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব।
ইত্তেফাক/আরকেজি