আর্টিকেল নাইনটিনের সভায় অভিমত
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করতে হলে নীতির প্রশ্নে সব সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিজ্ঞজন। এর পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য সহায়ক কর্মপরিবেশ তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
গতকাল সোমবার ডেইলি স্টার ভবনে ‘মিডিয়া এনগেজমেন্ট অন মনিটরিং ইউপিআর আউটকাম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভায় এ বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সভা থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বানও জানানো হয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন এ সভার আয়োজন করে। সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সলের সভাপতিত্বে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বলেন, দেশে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করতে হলে নীতির প্রশ্নে সব সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং পেশাগত দায়বদ্ধতার জায়গাটিও ঠিক রাখতে হবে। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ নিপীড়ন বন্ধে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় বিদ্যমান যেসব আইন মানা হচ্ছে তা সরকার মনিটর করতে পারে।
প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, আগে মানহানির মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন বা জামিন লাভের সুযোগ একজন সংবাদকর্মীর ছিল। বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলেই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে সব সরকারের আমলেই সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীরা বৈরী দৃষ্টিভঙ্গির শিকার হয়ে আসছেন। এ ধারা বর্তমানেও অব্যাহত আছে।
বক্তারা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিল। সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা সাংবাদিকদের জানানো প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, নিজ প্রতিষ্ঠানে হয়রানি-নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।
ফারুখ ফয়সল বলেন, নাগরিক সংগঠনগুলো সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, সহযোগী। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ মানবাধিকারের বিভিন্ন ইস্যুতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা সম্ভব। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কাউকে পেছনে না রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের কথা বলা হয়েছে। সেই সমাজে মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ সকল প্রকার মানবাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সভায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, রিপোর্টার্স উইদআউট বর্ডারের বাংলাদেশ প্রতিনিধি সেলিম সামাদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র সাংবাদিক খায়রুজ্জামান কামাল, বিবিসি বাংলার প্রতিনিধি ফারহানা পারভীন, সমকালের সাংবাদিক আবু সালেহ রনি, কালের কণ্ঠের প্রধান প্রতিবেদক আজিজুল পারভেজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় সরকার গৃহীত ইউপিআর সুপারিশসমূহের বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের (মনিটরিং) একটি খসড়া কাঠামো উপস্থাপন করা হয়।