হলফনামা বাতিল চাওয়ায় টিআইবির উদ্বেগ

উচ্চ আদালতের নির্দেশ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) আইন, ২০০৯ এ সুর্নির্দিষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় প্রার্থীদের হলফনামা দাখিলের বিধান বাতিল চেয়ে অভিমত প্রকাশ করেছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। 
 
একইসঙ্গে আগামী সংসদ নির্বাচনে আইনানুগভাবে প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য যাচাই-বাছাই করে জনসম্মুখে তা প্রকাশ করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী সংগঠনটি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পরিপন্থী পশ্চাৎ-মুখী এ ধরনের অবস্থান থেকে সরে আসার জন্য দলটির প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে তারা। 
 
শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় অন্যতম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেশের আপামর জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন অনুযায়ী সকল রজিনৈতিক দল ও অংশীজনের অংশগ্রহণে প্রণীত এবং সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) আইন ২০০৯- এ জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অন্যতম উপায় হিসেবে বিধানটি প্রতিষ্ঠা হয়। 
 
এ ছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি রাজনৈতিক দল গত ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় হলফনামার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধান বাতিল চেয়ে যে অভিমত প্রকাশ করেছে, তা সত্যিই হতাশাজনক ও অনভিপ্রেত।
 
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিৎ হবে এ ধরনের অযাচিত প্রস্তাবের প্রতি কোনো গুরুত্ব না দেয়া। পাশাপাশি আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা হলফনামায় যেসব তথ্য প্রদান করবেন, আইন অনুযায়ী তা যাচাই-বাছাই করে কমিশনের ওয়েবসাইটে জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা। একইসাথে, যাচাই-বাছাইপর্বে যদি কোনো প্রার্থীর হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের সাথে বাস্তবতার অমিল খুজে পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে তার প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণাসহ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি