সোহেলের মৃত্যুতে পরিবারের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যত্

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ও ইটনা সংবাদদাতা

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া সাহসী  ফায়ারম্যান সোহেল রানার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। গতকাল সোমবার সকাল ৮টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে সোহেল রানার মামাত ভাই শফিকুল ইসলাম ফোন করে সোহেলের ছোটভাই রুবেলকে প্রথমে তার মৃত্যু সংবাদটি দেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সোহেল রানার  কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার কেওরুলা গ্রামের বাড়িতে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা জড়ো হতে থাকেন। বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। পিতামাতা, ভাইবোন ও আত্মীয়স্বজনদের আহাজারিতে এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। মা হালিমা খাতুন বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছিলেন। পিতা নূরুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ। ছেলের মৃত্যু সংবাদ শুনে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে বোন সেলিনা আক্তার সবার বড়ো। বিবাহিত সেলিনা আক্তার স্থানীয় একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ভাইদের মধ্যে সোহেল রানা ছিলেন সবার বড়ো। ভাইদের মধ্যে  দুইজন কলেজে, একজন স্কুলে লেখাপড়া করছে। সোহেল রানার উপার্জনের ওপরেই সংসারটি নির্ভরশীল ছিল। তার অবর্তমানে সংসার চালানো এবং ভাইদের লেখাপড়ার ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

সোহেল রানা ২০১০ সালে চৌগংগা শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৪ সালে করিমগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসচি পাস করেন। চৌগংগা শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান খোকন জানান, লেখাপড়ার প্রতি সোহেল রানার খুব আগ্রহ ছিল। আর্থিক অনটন থাকায় তিনি এবং বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা তাকে আর্থিকসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। এসএসসি পাসের পর তিনি সংসারের হাল ধরার জন্য অটো চালাতে শুরু করেন। পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০১৫ সালে তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে যোগদান করেন। তিনি কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনে ফায়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ গত ২৩ মার্চ ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। ফেরার সময় মাকে বলে গিয়েছিলেন যে, ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে তিনি শিগগিরই আবার বাড়িতে আসবেন। কিন্তু তার আর বাড়ি ফেরা হলো না। জীবন থেকেই একেবারে ছুটি নিলেন তিনি।