একাধিক বয়ফ্রেন্ড থাকায় পরিবারের সম্মান রক্ষায় নিজের মেয়েকে খুন করল বাবা-মা। ভারতের তামিলনাড়ু প্রদেশের মাদুরাই জেলার থিরুমঙ্গলমে এলাকায় সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যেমের সূত্রের জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবরে আনালক্ষ্মীর (১৬) লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তার ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়। সেখানে বলা হয়- পেটে অসহ্য যন্ত্রণা হওয়ায় দশম শ্রেণির পরীক্ষা দিতে পারেনি ওই কিশোরী। সেই কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই। ফেল করার ভয়েই আত্মহত্যা করেছে বলে সুইসাইড নোটে বলা হয়েছিল। পরীক্ষায় ফেল করার কারণেই মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন বাবা-মাও। কিন্তু ময়নাতদন্তে উঠে আসে অন্য তথ্য।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যায়, কিশোরীর গলায় যে আঘাত চিহ্ণ রয়েছে তা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করার জন্য নয়। পরিবারের মান বাঁচাতে মেয়েকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করেছে বাবা-মা-ই। গ্রেপ্তার করা হয় বাবা আর গ্নানাভেল ও মা সীতালক্ষ্মীকে।
জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বাবা-মা। স্বীকারোক্তিতে তারা জানিয়েছেন, মেয়ের লাইফস্টাইল নিয়ে তারা অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে ছেলে-বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা তাদের পছন্দ ছিল না। অনেক ছেলেবন্ধু থাকার কারণে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল মেয়ে। ছেলে বন্ধুদের মধ্যে দলিত শ্রেণির বন্ধুরাও ছিল। প্রতিবেশীরাও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন কথা বলতো। পরিবারের সম্মান বাঁচাতে মেয়েকে শেষ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। তাই খুন করে আত্মহত্যার গল্প সাজিয়ে বাড়ির মধ্যেই মৃত মেয়েকে ঝুলিয়ে দেয় তারা।
ইত্তেফাক/ইউবি