দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট: ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট

 
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ৫টি ফেরি বিকল হয়ে পড়ায় যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে।  শনিবার বিকেল পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা থেকে প্রায়  ৩কিলোমিটার র্দীঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
 
বিআইডব্লিউটিসির সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজারের অধিক যানবাহন পারাপার করা হয়ে থাকে। এ নৌরুটে ছোট-বড় মিলে মোট ১৮টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটিতে ৫টি ফেরি বিকল হয়ে এর সংখ্যা শনিবার ১৩টিতে এসে দাঁড়িয়েছে।
 
শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে একে একে রোরো (বড়) ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, ভাষা শহীদ বরকত, কে-টাইপ ফেরি কাবেরী, ইউটিলিটি ফেরি বনলতা ও রজনীগন্ধা ফেরি বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যায় বিকল হয়ে পড়ে। ফেরিগুলো মেরামতের জন্য পাটুরিয়া ভাসমান কারখানায় রাখা হয়েছে। এরমধ্যে রোরো ফেরি ভাষা শহীদ বরকতের বড় ধরণের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ ফেরিটি মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হবে।
পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতির প্রকৌশলী এনামুল হক জানান, রোরো ফেরি ভাষা শহীদ বরকতের যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা মধুমতিতে সংস্কার করা সম্ভব না। তাই ফেরিটিকে মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া অপর ফেরিগুলো সংস্কার কাজ শেষে শনিবারের মধ্যেই ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরো বলেন, চলাচলকারী ফেরিগুলো বেশ পুরনো হওয়ায় ঘন ঘন বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটছে। একটি ফেরি মেরামত শেষ করে অপারেশনে যেতে না যেতেই আরেক ফেরি বিকল হয়ে কারখানায় আসছে।
ফেরি সংকটের কারণে শনিবার বিকেল ৪টা নাগাদ দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকে পরে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্তত ৫ শতাধিক যানবাহন। গাড়ির সারি দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারি পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। সময় বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
 
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও কয়েকটি ফেরি বিকল থাকায় ঘাট এলাকায় কিছু যানবাহন আটকা পড়েছে। যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস পারাপার করা হচ্ছে। এতে করে পণ্যবাহী  ট্রাকের সংখ্যা বাড়ছে।
 
ইত্তেফাক/ আরকেজি