জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ ছেড়ে দিবে এমন কথা বলে ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তার প্রেক্ষিতে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার রাতে পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আইনজীবী সমিতির সামনে ওই গ্রেপ্তারের ঘটনায় পরিবারের লোকজন ডিবির বিরুদ্ধে ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তখন তারা টাকার জন্য বিক্ষোভ দেখান। এমনকি ডিবির গাড়িতে ওড়না পেচিয়ে বিক্ষোভ দেখান এক নারী। বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়।
ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ডিবি পুলিশের তিন এসআই হলেন আসাদুজ্জামান আসাদ, মোল্লা টুটুল ও মো. আশরাফ।
তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে গত বুধবার রাতে ইসহাক ও জসিম নামে দুই ব্যক্তিকে জাল টাকাসহ গ্রেফতার করে জেলা ডিবির উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান ও উপপরিদর্শক মোল্লা টুটুল। এরপর গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দিতে কয়েক লাখ টাকা দাবিতে রাতভর দেনদরবার চলে। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার ইসহাকের স্ত্রীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ৭০ হাজার টাকা। কথা ছিল টাকার বিনিময়ে ইসহাককে ছেড়ে দেবে ডিবির ওই দুই কর্মকর্তা।
কিন্তু কথামতো না ছেড়ে জাল টাকার মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসহাক ও জসিমকে আদালতে প্রেরণ করে ডিবি। বিষয়টি জানতে পেরে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় এসে ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মোল্লা টুটুল ও উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান শেখের ওপর ফুঁসে উঠেন ইসহাকের স্ত্রী বিউটি। তার স্বামীকে ছেড়ে দেয়ার নামে হাতিয়ে নেয়া সেই ৭০ হাজার টাকা ফেরত চায়। এ নিয়ে ডিবির ওই দুই অফিসার ক্ষিপ্ত হলে শিশু সন্তানসহ ডিবির গাড়িতে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বিউটি।
এ সময় আদালতপাড়ায় উপস্থিত লোকজন ছুটে এসে ডিবির গাড়ি ঘিরে ফেলে। এতে বাধ্য হয়ে ৭০ হাজার টাকা ফেরৎ দেয় ডিবির উপপরিদর্শক মোল্লা টুটুল।
ইত্তেফাক/নূহু