জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দেশে যদি শান্তি না থাকে, নৈরাজ্য সৃষ্টি হয় তাহলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। তাই আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি সচেতন হই তাহলে উন্নয়ন তরান্বিত হবে।
গতকাল শনিবার রাতে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার চিড়াপাড়া গ্রামের ফরাজি বাড়িতে এক উঠান বৈঠকে স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সক্রিয় হলে এবং গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিলে প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত থাকে না। উঠান বৈঠকের মতো এ রকম পদ্ধতিতে আমি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে কথা বলে আগামীতেও তাদের অভাব-অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাই। আমি যতদিন বেঁচে থাকব তত দিন সাধারণ মানুষের সাথে এভাবে সরাসরি কথা বলে আপনাদের সমস্যা সমাধান করব। তিনি বলেন, অনেক সময় আমরা গ্রামের বাসিন্দাদের সমস্যার কথা জানতে পারি না। আমাদের দেশে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠে, পৃথিবীর অন্য কোথাও এ ধরণের ব্যবস্থা দেখা যায় না। আমাদের শৃঙ্খলার মাধ্যমে কাজ করে সমস্যার সমাধান করতে হবে। ৩২ বছর আগে আমি যখন এখানে এসেছি তখন এ অঞ্চলে কোন রাস্তা-ঘাট ছিল না। ১৭ বছর সরকারে থাকাসহ দীর্ঘ ৩২ বছরে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার ফলে এই পশ্চাদপদ অঞ্চলের দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন ঘটেছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে এই উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উপর আলোচনা হয়। মো. সিরাজুল ইসলাম ফরাজির সভাপতিত্বে এ উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ খান খোকন, ইউপি সদস্য কাজী সালাউদ্দিন ও হেমায়েত হোসেন তালুকদার, শিক্ষক বিপুল ঘোষ, লিটন চন্দ্র পাল ও মনিরা খান শিল্পী, মত্স্যজীবী নেতা আব্দুল জলিল, পাটি শিল্পী পলাশ পাটিকার, কহিনুর বেগম, নূপুর আক্তার, মালা খানম, দেলোয়ার হোসেন মাষ্টার, আব্দুল বারেক, হুমায়ুন আহমেদ রোমান, জাকির হোসেন, তৈয়ব আলী হাওলাদার, রেজা তালুকদার, জিয়াউল হক, শামীম হোসেন, শওকত হোসেন, সজল ঘারামী, বেল্লাল হাওলাদার, সরোয়ার মোল্লা প্রমুখ।
উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, কাউখালীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধবী রায়, কেন্দ্রীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, কাউখালী উপজেলা জেপি’র সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু, ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, কাউখালী উপজেলা জেপি’র নেতা ও সয়না-রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনু, শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান সিকদার দেলোয়ার হোসেন, ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী, কাউখালীর জেপি নেতা বজলুর রহমান নান্নু, কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুনীল চন্দ্র কুন্ড, পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য শাহজাদি রেবেকা শাহীন চৈতি, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও মামুন হোসেন বাবলু জোমাদ্দার।
ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল দুপুরে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর এর নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার কোয়ার্টার, তত্ত্বাবধায়ক কোয়ার্টার, নার্সেস কোয়ার্টার ও গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এইচ এম জহিরুল ইসলাম সভায় জানান। সভায় জানানো হয় ভান্ডারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটার সুসজ্জিতকরণের জন্য অটোক্লেভ মেশিন, ডায়াথরমি মেশিন, ওটি লাইট ইত্যাদি বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য চিকিত্সকের আটটি শূন্য পদপূরণ, ডেন্টাল ইউনিট স্থাপন, ট্রেনিং সেন্টার কাম কনফারেন্স রুম স্থাপন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন স্থাপন প্রয়োজন বলে সভায় জানানো হয়।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি সভায় সভাপতির বক্তব্যে বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। সাধারণ মানুষকে যাতে চিকিত্সার জন্য বড় শহরে যেতে না হয় তার জন্য আমাদেরকে আরও উদ্যোগ নিতে হবে। ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালু হলে এখানে বসেই গ্রামের দরিদ্র মানুষ কাঙ্খিতমানের চিকিত্সা সেবা পাবেন।
সভায় পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ফারুক আলম ছাড়াও ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ভান্ডারিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, জেপি উপজেলা সদস্য সচিব ও ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, আওয়ামী লীগে টুঙ্গীপাড়া উপজেলা দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও চিকিত্সকগণ সভায় অংশ নেন।
ইত্তেফাক/নূহু