ইঁদুরের যম মাগুরার হান্নান!

ইঁদুরের যম মাগুরার আব্দুল হান্নান।  শুধু মাগুরা নয় গোটা দেশকে ইঁদুরমুক্ত করার ইচ্ছে তার। এ লক্ষ্যেই ২০০৭ সালে তার যাত্রা শুরু মাগুরা জেলার বড় খড়ি গ্রাম থেকে। মিলেছে দুটি জাতীয় পুরস্কার। হান্নানের মতে, ১২ বছরে কমপক্ষে ২০ লাখ ইঁদুর মেরেছেন তিনি। তবে এত ইঁদুর নিধনের পক্ষে সঠিক কোনো তথ্য দেখাতে পারেনি।

আব্দুল হান্নান জানান, ২০০৭ সালে মাঠ থেকে ধান কেটে বাড়ির উঠানে রাখার ৭ দিন পর মাড়াই করার সময় দেখেন ইঁদুর ধান কেটে নষ্ট করে ফেলেছে। তখন থেকে মনে চেপে বসে ভয়ানক জেদ। এরপর থেকেই ইঁদুর নিধন অভিযানে নামেন তিনি। প্রথমদিকে নিজের কাঠের কারখানায় ইঁদুর নিধনের প্রচলিত কয়েকটি বক্স বানান তিনি। এর মধ্যে সংযোজন করেন স্প্রিংয়ের দরজা। এই বক্সের স্প্রিং ফাঁদে পড়ে মাত্র কয়েকদিনেই মারা যায় তার বাড়ির সব ইঁদুর। নিজ বাড়িকে ইঁদুরমুক্ত করার এই গল্প নিজ মুখে ছড়িয়ে দেন আশেপাশের এলাকায়। বাড়তে থাকে হান্নানের কদর। বাড়ি, দোকান ঘর, ফসলি মাঠ ইঁদুরমুক্ত করতে হান্নানের সহযোগিতা নিতে থাকে সবাই। ইঁদুর নিধনে নানা রকম ফাঁদ সরবরাহ করতে থাকেন তিনি সর্বত্র। যেখানেই ইঁদুর নিধনের প্রয়োজন সেখানেই ডাক পড়ে হান্নানের।

মাগুরা শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কাটাখালি বাজারে হান্নানের রয়েছে ভ্যান তৈরির কারখানা। মধু, গুড়, জিংক ফসফেট দিয়ে তৈরি করেছেন তরল বিষটোপ। এই টোপ হান্নান হাটেবাজারে লোক মারফত বিক্রি করেন। যার দাম সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা। তবে কাঠ, বাঁশ, তারের জালি ও ইলেকট্রিক সার্কিট দিয়ে তৈরি ফাঁদসহ ছোট সাইজের বিষটোপের প্যাকেট হান্নান বিনামূল্যে মানুষকে ব্যবহার করতে দেন। যার প্রয়োজন হয় তিনি হান্নানের দোকান থেকে সংগ্রহ করেন। ইঁদুর নিধন শেষে যন্ত্রগুলো আবার ফেরত দিয়ে যান তারা।

আব্দুল হান্নানের দাবি, ইঁদুর নিধনে রয়েছে তার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। যার মাধ্যমে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা প্রতিদিন কমপক্ষে দুই হাজার স্পটে ইঁদুর নিধনের ফাঁদ ও বিষটোপ প্রয়োগ করে থাকেন। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০টি ইঁদুর মারা পড়ে। ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪০টি ইঁদুরের লেজ দেখিয়ে ২০০৯ সালে ইঁদুর নিধনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন হান্নান। ২ লাখ ৩০ হাজার ১০২টি ইঁদুর নিধনের জন্য ২০১৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে পেয়েছেন প্রথম পুরস্কার।

ভ্যান বডি মিস্ত্রির কাজে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করেন তিনি।

বিল অকসি গ্রামের রজব আলী ও শেখ পাড়া গ্রামের ওমর আলী জানান, হান্নানের কাছ থেকে ইঁদুর মারার যন্ত্র নিয়ে তারা ইঁদুর মেরেছেন।

মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, ‘তার এই কাজ আমাদের জন্য অনেক সহায়ক হচ্ছে। তাকে এ সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে আমরা সহযোগিতা করছি। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তিনি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন’।