নওগাঁর বদলগাছীতে প্রায় দুই শতাধিক যুবক মাদকের ভয়াবহতায় আছে। তারা না পারছে কাজ কর্ম করতে, না পারছে নিজের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন কারো বাবা-মা আবার কারো স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে। এসব মাদকসেবীরাই শিশু-কিশোরদের মধ্যে মাদকের বীজ বুনছে। এর জন্য মাসুল দিতে হচ্ছে তাদের পরিবার সহ পুরো সমাজকে।
মাদক এখন ওই এলাকায় যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়েছে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ফেনসিডিল, প্যাথেডিন সহ সকল প্রকার মাদক। যারা মাদক ব্যবসায়ী তারা মাদকের বিষাক্ত ছোবলে সমাজকে বিষিয়ে গড়ে তুলছে। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে পড়েছে মাদক সেবীরা। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হচ্ছে মাদক সেবীরা চোলাইমদ, গাজা, ফেনসিডিল, হেরোইনতো সেবন করছেই তার সাথে নিজে নিজে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্যাথেডিন গ্রহণ করছে।
উপজেলার মথুরাপুর ইউপির মামুদপুর গ্রামের আ. জব্বারের ছেলে নিশাত হোসেন (২৫) মাদকের বিষাক্ত ছোবলে জর্জরিত হয়ে বাবা-মাকে মারপিট করছে আ. জব্বার কেঁদে কেঁদে বলেন, আমাকে ও তার মাকে বেশ কয়েক দিন লাঠি দিয়ে মার ধর করেছে নেশার টাকা দিতে না চাইলে আমাদের মার পিট করে এমনকি বাড়ির চাল, ডাল, হাড়ি পাতিল যা পাবে তাই নিয়ে বিক্রয় করে নেশা করে। আব্দুল জব্বার গত ৮অক্টোবর বিকেলে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় নিশাতকে ধরে থানায় এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে। এর মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) সুজিৎত দেবনাথ। যুবক বয়সের ছেলেরা নেশার টাকা হাতে না পেলে চুরি, ডাকাতি সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে উপজেলায় শতশত মাদক সেবীর অভিভাবকরা তাদের ছেলে, কেউ স্বামী কেউ ভাই, আবার কেউ জামায় নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
বদলগাছীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. রুহুল আমিন জানান, প্যাথেডিন গ্রহণ করার ফলে গ্রহণকারীর শরীরের ইন্দ্রিয়গুলি দুর্বল হয়ে পড়ে।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জালাল উদ্দীন বলেন, আমরা প্রতিদিনই মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করছি এবং মামলা দায়ের করছি মাদকের ক্ষেত্রে কোন রকম ছাড় দেওয়া হবে না।
ইত্তেফাক/জামান