পদ্মা-যমুনায় চলমান ইলিশ রক্ষা অভিযানে ২৩১ জনের দণ্ড

 

পদ্মা-যমুনা নদীতে সরকার ঘোষিত আইন অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে গতকাল শনিবার আরো ৪ জেলেকে আটক করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে এযাবৎ ২৩১ শিকারি আটক ও ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।

 

চলমান যৌথ অভিযানে আটককৃত ইলিশ শিকারিদের মধ্যে ১১৩ জনের এক বছর করে জেল ও ১১৮ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শিবালয় ইউএনও কামাল মোহাম্মদ রাশেদ ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এ রায় প্রদান করেন। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, থানা ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযান আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

 

জানা গেছে, মানিকগঞ্জের শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা-যমুনা বক্ষে অন্তত দেড়শ’ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় মা’ ইলিশ বিচরণের ক্ষেত্র রয়েছে। এ সুবাদে একশ্রেণীর মৌসুমি মৎস্য শিকারি সরকার ঘোষিত আইন অমান্য করে নদীতে জাল ফেলে ইলিশ শিকারে মেতে উঠেছে। এদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিলেও অনেকেই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

 

পাটুরিয়া নৌ-পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনূল ইসলাম জানান, অভিযান সফল করতে স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। অভিযানে আটককৃতরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ভোগ করছে।

 

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল আলম জানান, চলতি অভিযানে আটক প্রায় ১৯ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দু’কোটি টাকা। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ইলিশ মজুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে একটি বরফকল জব্দ করার ৩ দিন পর তা স্থানীয়দের সুপারিশে খুলে দেয়া হয়। জেলেদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা-মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জাসহ দরিদ্র লোকজনের মাঝে বিতরণ করা হয়।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, আইন অমান্য করে ইলিশ নিধনের অভিযোগে আটককৃতদের কারা ও অর্থ দণ্ড দেয়া হচ্ছে। অব্যাহত অভিযানে গতকাল শনিবার আটক ৪ জেলেকে ৩ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকার ঘোষিত আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

 

এদিকে চলতি অভিযান নিয়ে থানা পুলিশ ও জনৈক জনপ্রতিনিধির ভূমিকায় বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। থানা পুলিশের হাতে জেলে-জাল, নৌকা আটক ও ইলিশ জব্দ করা হলেও তা জোড় তদবির ও মোটা টাকার বিনিময়ে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক সরকারি কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, থানা পুলিশ জেলে ও মাছ আটকে বাণিজ্যে নেমেছে। যা এখন ‘ওপেন-সিক্রেট’ হয়ে পড়েছে। এদের এহেনও ভূমিকায় জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সরকার ঘোষিত আইন বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে শিবালয় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, সরকার ঘোষিত আইন বাস্তবায়নে পুলিশ নিরলশ কাজ করে আসছে। তবে, জাল-জেলে আটক ও ইলিশ জব্দের ক্ষেত্রে কোন অনিয়মের অভিযোগ উঠলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

ইত্তেফাক/এমআর