গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা: ওটিসি ড্রাগ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি

একমাত্র সচেতনতাই ক্রেতাদের সুপারিশকৃত ঔষধ আর ওটিসি ড্রাগের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করবে। আর এ কাজে ড্রাগ কেমিস্ট এসোসিয়েশন থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারক সহ সমস্ত ঔষধ শিল্পের সকলের অংশগ্রহণ জরুরি।
 
রবিবার রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ঔষধ ভবনের ডিজিডিএ সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্বব্যাপী ওটিসি ড্রাগ নীতিমালা পরিস্থিতি: বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক এক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
 
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (ডিজিডিএ)আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশে ‘ওভার দ্যা কাউন্টার’ ড্রাগের বর্তমান পরিস্থিতি ও সুবিধাসমূহ। আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা ‘ওটিসি’ ড্রাগ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির প্রয়োজপনীয়তা তুলে ধরেন।  
 
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (ডিজিডিএ)- এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোদাসসের আলী। 
 
সভায় অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোদাসসের আলী বলেন, আমাদের দেশ বর্তমানে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে এবং আমি মনে করি, এক্ষেত্রে ৭০% অবদানই গণমাধ্যম কর্মীদের। যদিও আমাদের দেশের ঔষধ নীতিমালা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালা থেকেও শক্তিশালী, এরপরও বর্তমানে আমাদের দেশের প্রায় সব ঔষধই ‘ওভার দ্যা কাউন্টার’ ড্রাগে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে রাতারাতি উত্তরণ সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এই সমস্যা দূর করতে পারে ঔষধ গ্রাহকদের সাথে চিকিৎসকদের যথাযথ যোগাযোগ। সবাইকে সাথে না পেলে সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়।
 
সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে আজকের এই আয়োজন সফল করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ২০ হাজার লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসী চালু আছে। আমরা এসব ফার্মেসী বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মধ্যে ৪০টি ফার্মেসীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা ধীরে ধীরে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। 
 
তারা আরো বলেন, স্বল্প মেয়াদী ঔষধগুলো সম্পর্কে আমাদের যথাযথ মাত্রায় স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক শিক্ষা থাকা প্রয়োজনে, তাহলে ক্রেতারা ওটিসি ড্রাগের প্রভাব সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারবে। বাংলাদেশে শক্তিশালী ও সুচিন্তিত নীতিমালা কাঠামো নির্ধারণ করতে বিশ্ব বাজারের অন্যান্য ড্রাগ সম্পর্কিত তথ্য আমাদের প্রয়োজন।
 
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডিজিডিএ-এর এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মোঃ সালাউদ্দিন, ডিরেক্টর মোঃ রুহুল আমিন, গ্লোব্যাল রেগুলেটরি ইনটেলিজেন্স এন্ড পলিসি (জিএসকে- আমেরিকা, ভারত, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য)- এর ম্যানেজার বেঞ্জামিন এ চ্যাকো সহ আরও অনেকে। 
 
ইত্তেফাক/রেজা