রোহিঙ্গা বিষয়ে সংবাদ প্রচারে আরো সচেতন হতে হবে

মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকট। এটি অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট। তাই রোহিঙ্গা বিষয়ক সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরো সচেতন হওয়ায় আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, গণমাধ্যমে এমন কোনো শব্দ বা ছবি ব্যবহার করা উচিত না যা সমস্যাকে উসকে দেয়। তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে বিতারিত করা কোনো ধর্মীয় ইস্যু নয়, এটি জাতিগত ইস্যু। গণমাধ্যমে ‘রোহিঙ্গামুসলিম বিতারিত’ প্রচার করে দেশের বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের বিপর্যস্ত না করার আহ্বান জানান তারা।

গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা: প্রেক্ষিত, রোহিঙ্গা সঙ্কট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তারা।

বুদ্ধিস্ট জার্নাল এন্ড অনলাইন মিডিয়া ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়ের সভাপতিত্বে বৈঠকে বক্তব্য রাখেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর,  জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, একুশে টিভির সিইও ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের কারেন্ট এফেয়ার্স সম্পাদক রাহুল রাহা, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, সাংবাদিক জুলফিকার মানিক, ডিবিসি চ্যানেলের নিউজ এডিটর প্রনব সাহা, জনকণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক স্বদেশ রায়, সমকালের সহ-সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত, সুভাষ সিংহ রায়, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া, নির্মল রোজারিও, ডা. অসীম রঞ্জন বড়ূয়া, চারুউত্তম বড়ূয়া, প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ূয়া, ডা. উত্তম কুমার বড়ূয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চিন্ময় মুত্সুদ্দি।

শাহরিয়ার কবীর বলেন, উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, প্রচার করা হচ্ছে বৌদ্ধরা মুসলমানদের তাড়িয়ে দিচ্ছে। জামাত-বিএনপি ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে যা করছে তা বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গা বিষয়ে আজ সমগ্র বিশ্ব বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।

মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমগুলোর একটি অংশ অনেক নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তবে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে সাংবাদিকদের জ্ঞান নির্ভর হওয়ার পাশাপাশি দেশপ্রেমিক হওয়া চাই।

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, এ সংকটকে পুঁজি করে মিডিয়ার মাধ্যমে কেউ কেউ উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এতে মূলধারার গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকতে হবে।

শ্যামল দত্ত বলেন, রামু এবং নাসিরনগরের হামলার ঘটনা ঘটেছে ফেসবুকের মাধ্যমে। রামুতে এখন বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী ৩৭ হাজার থেকে ১৪ হাজারে নেমে এসেছে। মূলধারার গণমাধ্যমের জবাবদিহিতার জায়গা রয়েছে। অথচ সোস্যাল মিডিয়ার তা নেই। তাই রোহিঙ্গাসহ সাম্প্রদায়িক সংঘাত মোকাবিলায় সোস্যাল মিডিয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।

আশিস সৈকত বলেন, যে কোনো ইস্যুতে উদ্দেশ্যমূলক অপসাংবাদিকতা করলে মূলধারার গণমাধ্যম টেকসই অবস্থান তৈরি করতে পারে না। অতীতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কারো কারো ক্ষেত্রে এ চিত্র দেখা গেছে। তাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব বিষয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে।

সুকোমল বড়ূয়া বলেন, সত্যনিষ্ঠতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গণমাধ্যমকে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। সার্বজনিন দৃষ্টিভঙ্গির উপরও জোর দেন তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু