সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যমুনা নদী থেকে প্রতিদিন অবাধে ডিমওয়ালা মা ইলিশ মাছ শিকার করা হচ্ছে। কোনোভাবেই এই ইলিশ নিধন বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই শত শত কেজি মা ইলিশ মেরে স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরকার ১ অক্টেবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ডিমওয়ালা মা ইলিশ মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলার বিভিন্ন এলাকার জেলেরা ইঞ্জিন চালিত শ্যালো নৌকা নিয়ে মৌসুমী ও স্থায়ী জেলে দিনরাত এই ইলিশ নিধনে মেতে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানিয়েছে, তারা পুলিশ, মত্স্য অফিস ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের নৌকা প্রতি ৩ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা করে উেকাচ দিয়ে যমুনা নদীতে ইলিশ শিকার করছে।
ইলিশ শিকার বন্ধে প্রশাসনের অভিযান চললেও তা অনেকটা দুর্বল ও দায়সাড়া গোছের বলে অভিযোগ উঠেছে।ভ সিরাজগঞ্জ জেলা মত্স্য অফিস সূত্রে জানা গেছে ইতিমধ্যেই গত ১ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ২৯ জনকে সাজা দেয়া হয়েছে। আটক করা হয়েছে ২ হাজার ১শ ৯৪ মেট্রিকটন মাছ যা স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেয়া হয়েছে । এসময় ১লাখ ২৮ হাজার মিটার জাল আটক এবং ১ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় । তবে অভিযোগ রয়েছে যে পরিমান জাল ও জেলে আটক হয়েছে প্রতিদিন তার চেয়ে অনেক বেশী জেলে ইলিশ শিকার করছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের চান মিয়া, আবুল হোসেন, তারা মিয়া, বিয়ারার সোনা মিয়া, ইদ্রিস আলীসহ অনেক জেলেই অভিযোগ কওে বলেন সরকার ১লা অক্টোবর থেকে ইলিশ শিকার বন্ধ ঘোষনা করেছে কিন্তু হাজার হাজার জেলের রোজগারের কোন বিকল্প ব্যাবস্থা না করায় । তারা জীবিকার তাগিদেই আর্থিক ক্ষতির ঝুকি নিয়েই যমুনায় ইলিশ শিকারে বাধ্য হচ্ছে । তারা প্রশাসনের হাতে ধরা পরছে এবং জেল জরিমানা হচ্ছে তারপরও তারা বাধ্য হচ্ছে ইলিশ শিকারে । তারা বলেন যদি সরকারীভাবে এই সময় তাদের আর্থিক বা খাদ্য সহায়তার কোন ব্যবস্থা দেয়া হতো তাহলে বর্তমান অবস্থায় পরতে হতো না । এব্যপাওে তারা সরকারের আশু দৃষ্টি কামনা করেছে । তারা বলেন আমরাও চাইনা এই সময় ইলিশ ধরে দেশের ক্ষতি করি কিন্তু পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে এই কাজ করতে হচ্ছে ।
এ ব্যাপারে চৌহালি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদেকুর রহমান ও চৌহালি থানার অফিসার ইনচার্জ আকরাম হোসেন বলেন, আমরা প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে জাল আটক করে পোড়াচ্ছি। জেলেদের ধরে জরিমানা করছি। শুক্রবার চৌহালির এনায়েতপুর ও বেতিল বাজারে দুই দফা অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৬৩ হাজার মিটার কারেন্ট জাল আটক করে পুড়িয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া এক দোকানদারকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের এ অভিযান অব্যহত রয়েছে। উেকাচের ব্যাপারে তারা বলেন এ ধরণের অভিযোগ সত্য নয়। এটি মিথ্যা এবং বানোয়াট। তবে কোন টাউট বাটপার প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে নিয়ে থাকলেও থাকতে পারে। এ ধরণের অভিযোগ তাদের কাছে কেউ করেনি। এ ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা জ্যোতি কণা দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিব সরকার ও শাহজাদপুর থানা অফিসার ইনচার্জ খাজা গোলাম কিবরিয়া বলেন, বেশ কয়েক দিন অভিযান করা হয়েছে। জেলেদের ধরে জরিমানা করা হয়েছে। জাল আটক করে পোড়ানো হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে আরো অভিযান করা হবে। উেকাচের ব্যাপারে তারা বলেন,এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। তারপরেও এ ব্যাপারে খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএম