'বাংলাদেশের তরুণদেরকে চিন্তা চেতনায় উন্নত দেশের তরুণদের মতো হতে হবে'

বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এদেশের জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশ তরুণ প্রজন্ম। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম সৃষ্টিশীল ও আশাবাদী। বিভিন্ন কাজে, উদ্দ্যোগে তারা সমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে চিন্তা চেতনায় উন্নত দেশের তরুণদের মতো হতে হবে বলে মনে করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর স্কুল অব বিজনেস এর চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এস.এম আরিফুজ্জামান।
 
শনিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডব্লিউ.ও.সি আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন কমিউনিকেশনস স্কিল অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেছেন।
 
তিনি বলেন যে, দেশে বর্তমানে উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যাও অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু ভালোমানের মানবসম্পদ সেভাবে তৈরি হচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, স্বাধীনতার ছেচল্লিশ বছর পরও বাংলাদেশে কার্যত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন পদগুলোতে বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটরা তাদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। যদিও এর অনেক পদে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আধিক্য লক্ষ্য করার মতো। এমনকি স্থানীয় অনেক কোম্পানির ঊর্ধ্বতন পদগুলোতেও আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের কর্মক্ষমতা আশানুরূপ নয়। এমতাবস্থায় অনেক স্থানীয় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ অনেকটা বাধ্য হয়ে বেশি বেতন দিয়ে বিদেশিদের নিয়োগ দিচ্ছে এবং তাদের ওপর নির্ভর করছে। আপাত দৃষ্টিতে তাদের পারফরম্যান্স ভালো মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে তারা ভালো কিনা এটা বোঝার কোনো উপায় নেই কেননা তারা অল্প কিছুদিন কাজ করে অন্য কোনো দেশে কাজ নিয়ে চলে যায়। ফলে আমাদের তরুণ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। একমাত্র ব্যাংকিং ছাড়া অন্য কোনো সেক্টরে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার ট্রাক বলে কিছু নেই। এ কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা একরকম লক্ষ্যহীনভাবেই তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
 
এ অবস্থা থেকে বের হতে মানব সম্পদ উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য প্রথম থেকেই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের দিকে আকর্ষিত করতে হবে। এর পরে তাদের বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা অর্জন এবং তার গুরুত্ব সম্বন্ধে অবহিত করতে হবে যাতে তারা উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।
 
ইত্তেফাক/রেজা