টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক মায়ের বিরুদ্ধে তার এক দিনের শিশুকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বামী বিদেশ থাকায় পরকীয়ার কারণে জন্ম নেওয়া সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বামীর পরিবার অভিযোগ করেছে। ঘটনার পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের টাকিয়া কদমা উত্তরপাড়া গ্রামে এ অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
জানা গেছে, তরফপুর ইউনিয়নের টাকিয়া কদমা উত্তরপাড়া গ্রামের মানিক হোসেনের স্ত্রীর নাম রিনা বেগম। মানিক দীর্ঘদিন ধরে কাতারে থাকেন। স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তার স্ত্রী রিনা বেগম পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন। ঘটনা জানাজানি হলে গতকাল রবিবার রিনা বেগম তার ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি মুশুরিয়াঘোনা গ্রামে আসে। ঐ বাড়িতে আজ সোমবার সন্তান প্রসব হলে রিনা বেগম সন্তানকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে। বাড়ির লোকজন ঘটনাটি টের পেয়ে রিনা বেগম ও শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে সন্ধ্যায় শিশুটি মারা যায়।
পুলিশ খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
এ ব্যাপারে গৃহবধুর স্বামী মানিকের পিতা মো. বজলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে মানিক বিদেশ থাকে। পুত্রবধুর যে সন্তান হয়েছে তা অবৈধ। সন্তান হওয়ায় জানাজানি হবে বিধায় তার পুত্রবধু রিনা বেগম সন্তানকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। শিশু হত্যার ঘটনায় তারা মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তারা পাষণ্ড রিনা বেগমকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে গৃহবধু রিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মির্জাপুর থানার উপ পরিদর্শক (তদন্তকারী কর্মকর্তা) মো. আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু