যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় গৃহবধূ ও তার ভাইকে পিটিয়ে আহত

 
দুই লাখ টাকা যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় গৃহবধূ জহুরা বেগম (২২) ও তার বড় ভাই ইব্রাহিম মিয়াকে (২৫) রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
 
আহত জহুরা ও ইব্রাহিম উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের চন্দনপাট (ময়নার চওড়া) গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোর্শেদ আলী সন্তান। আহতদের আদিতমারী থানা পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
 
সোমবার রাতে গৃহবধূ জহুরা বেগম বাদী হয়ে তার স্বামী সাদ্দাম হোসেন (২৭), শাশুড়ি জোহরা বেগম (৫৫) সহ ৯ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আহতরা বর্তমানে আদিতমারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 
মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ বছর পূর্বে উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের চন্দনপাট (ময়নার চওড়া) গ্রামের সহিদ আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৭) এর সাথে বিয়ে হয় জহুরা বেগমের। বিয়ের সময় মেয়ের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোর্শেদ আলী যৌতুক হিসেবে জামাইকে দুটি গরু ও নগদ কিছু টাকা দেন। এরই মধ্যে এ দম্পতির ঘরে একটি ছেলে সন্তান আসে। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে আবারও দুই লাখ টাকার জন্য বিভিন্ন সময়ে চাপ প্রয়োগ করেন ছেলের পরিবার। কিন্তু এ টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় গৃহবধূ জহুরা বেগমের উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস বৈঠক হয়েছে বলে বাদীর পরিবার জানান।
 
আরও জানা যায়, এদিকে সোমবার বিকেলে আবারও দুই লাখ টাকার জন্য গৃহবধূকে চাপ প্রয়োগ করলে টাকা দিতে অস্বীকার করায় লোহার রড নিয়ে গৃহবধূ জহুরা বেগমকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে বোনকে উদ্ধার করতে গেলে বড় ভাই ইব্রাহিম মিয়াকেও লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মারপিট করা হয়। এতেই ক্ষান্ত থাকেননি ছেলের পরিবারের লোকজন। লোহার রড গরম করে ইব্রাহিমের পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখম করা হয়। এলাকাবাসী উদ্ধার করতে গেলে তাদেরকে ধাওয়া করা হয়। খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় দু'জনকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করান। আর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছেলের পরিবারের লোকজন সটকে পড়েন।
 
মেয়ের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোর্শেদ আলী কান্না জড়িত কণ্ঠে ইত্তেফাককে জানান, যৌতুকের কারণে আমার মেয়ে ও ছেলেকে যেভাবে পিটিয়ে আহত করেছে, কোন মানুষ এধরনের কাজ করতে পারে না। আমি এর সুস্থ বিচার চাই।
 
আদিতমারী হাসপাতালের সহকারী চিকিৎসক আব্দুস ছালাম শেখ জানান, গৃহবধূ জহুরা ও ইব্রাহিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে তাদের সময় লাগবে বলে দাবী করেন তিনি। আদিতমারী থানার ওসি হরেশ্বর রায় মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পুলিশ তদন্ত করছে।
 
ইত্তেফাক/জামান