কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া পৌরশহর এখন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। নিত্যদিনের ভয়াবহ যানজটে অচলাবস্থা চলছে পৌরশহরের চিরিঙ্গা-সোসাইটি এলাকায়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলে আসছে টানা যানজট। এ অবস্থার কারণে বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন যানজট নিরসনে বারবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আসলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। একইভাবে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশও যানজট নিরসন করতে শতভাগ চেষ্টা করেও রীতিমত হিমসিম খাচ্ছেন বলে দাবী করেছেন সার্জেন্ট মো.নিজাম উদ্দিন।
চকরিয়া শহর থেকে যানজট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ ইতোপূর্বে সকল ধরণের যানবাহন সমূহের কাউন্টার শহর এলাকা থেকে বাস টার্মিনালে সরিয়ে নেয়ার জন্য তাগাদা দেয়া হলেও বাস্তবে তা কেউ আমলে নিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের কতিপয় নেতাদের অলিখিত বাণিজ্যের কারণে বর্তমানে পৌরশহরের ব্যস্ততম এলাকাটি যানজটের কবলে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া পৌরশহরের বাণিজ্যিক এলাকার চিরিঙ্গা-সোসাইটি এলাকায় ফুটপাতের ওপর ভাসমান দোকান স্থাপন করে বেচাবিক্রি ও পরিবহন কাউন্টার গড়ে তুলে যাত্রী উঠানামা করার কারণে মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ছোট-বড় পরিবহনের একাধিক অবৈধ কাউন্টার স্থাপন করে গাড়ি গুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা থামিয়ে রেখে যাত্রী উঠানামা করার কারণে পৌরশহরের অন্তত এক কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন তীব্র যানজটে পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে যাত্রী সাধারণ থেকে শিক্ষার্থী, পথচারীসহ সর্বশ্রেণীর মানুষ। পৌরশহরে যানজটের এমন অবস্থা বিদ্যমান থাকলেও ঠিক তার উল্টো চিত্র রয়েছে চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনালের।
চকরিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র বশিরুল আইয়ুব বলেন, চকরিয়া শহরের যানজট নিরসনকল্পে ২০০৯ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন বিএমডিএফ'র সহযোগিতায় চকরিয়া পৌরসভার অর্থায়নে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় আধুনিকমানের একটি বাসটার্মিনাল। শুরু থেকে পৌরসভার পক্ষ থেকে নির্মিত চকরিয়া শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাসটার্মিনালে বিভিন্ন পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাউন্টার সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হলেও অনেকে তা আমলে নিচ্ছে না। ফলে সেই থেকে এখনো যানজট থেকে নিস্তার পাচ্ছেনা শহরের বাণিজ্যিক জনপদ।
জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, চকরিয়া শহরকে যানজট মুক্ত করতে ইতোপূর্বে অনেকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিছুদিন সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করলেও আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তিনি বলেন, আসলে যানজট নিরসনের ব্যাপারটি সংশ্লিষ্ট সকলের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে। পৌরসভার মেয়র ও পরিবহন সেক্টরের সংশ্লিষ্টরা আন্তরিকভাবে কাজ করলে এই সমস্যাটি স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন এবং দায়িত্ববান হলে যানজটের এ সমস্যা থেকে চকরিয়াবাসী মুক্ত হতো। তারপরও বর্তমান প্রেক্ষাপটে শহরের যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/জামান