ফরিদপুরের মধুখালীতে এ বছর রোপা আমনে হঠাত্ করে কারেন্ট পোকার আক্রমণে চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় চলতি বছর রোপা-আমন রোপনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানের উত্পাদন বিপর্যয়ের আশংকা করছেন চাষিরা। ধান পাকতে আর বেশি দিন না লাগলেও পাকার আগেই কারেন্ট পোকার আক্রমণে পোকা লাগার দুই দিনেই গাছ মরে শুকিয়ে ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে দ্রুতই।
এ বছর অতিবৃষ্টির ফলে এলাকার চাষীরা মরিচসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হওয়ায় তারা মরিচ এবং পাট কেটে দ্রুত রোপা আমন রোপন করেন। কিন্ত ধান পেকে ঘরে উঠানোর আগেই কারেন্ট পোকার আক্রমণে চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার বাগাট, নওপাড়া এলাকার বেশ কয়েকটি মাঠে সরেজমিনে দেখা যায়, ধানের করুণ অবস্থা। অনেক চাষী কি করবেন তা বুঝে উঠার আগেই গাছ দ্রুত মরে শুকিয়ে যেতে দেখছেন। অনেকই নষ্ট অংশ কেটে ফেলছেন।
চাষীরা জানান, খুবই ছোট ছোট কালো ধরনের পোকা ধানের বাইল ও গাছে ছেয়ে গেছে খুব কাছে থেকে দেখা যায়। তারা সময়মত কৃষি অফিসের লোক মাঠে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলা কৃষি অফিসার খালেদা পারভীন জানান, আবহাওয়ার কারণে এ ধরনের হচ্ছে। এ বছর সারাদেশে এ ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা যাচ্ছে। আমরা খবর পেয়ে বুধবার বিভিন্ন মাঠে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। তারা সকলেই চাষীদের সাথে মাঠে কাজ করছেন এবং পোকা দমনে পিলার নিট, প্লেনাম, সপসিমসহ বিভিন্ন ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। দু‘একদিনের মধেই এর প্রতিকার হবে বলে তিনি আশা করছেন। এ ছাড়াও ফরিদপুর জেলার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা গোপাল কৃঞ্চ দাস এ মুহূর্তে নওপাড়া ও বাগাটের বিভিন্ন মাঠে রয়েছেন।
জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা গোপাল কৃঞ্চ দাস জানান, কামারখালী মছলন্দপুর মাঠে চাষীদের নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। এটা মূলত বাদামী গাছ ফড়িং বলা হয়। কিন্তু চাষীরা কারেন্ট পোকা হিসেবেই জানেন। মূলত বর্তমান আবহাওয়াটাই পোকার অনুকূলে। যে কারণে পোকা দ্রুত আক্রমণ করতে সক্ষম হচ্ছে। তাকে সকল কৃষক যদি একযোগে পোকা দমনের ওষুধ দুইবার স্প্রে করেন তবে ৫/৬ দিনের মধ্যে পোকা দমন সম্ভব। তাতে ক্ষতিও তেমন হবে না। যাদের জমিতে পোকা আক্রমনের মাঝা মাঝি পর্যায়ে স্প্রে করছেন তাদের ক্ষতি একতৃতীয়াংশ হবে। আমরা চাষীদের নিয়ে কাজ করছি।
চলতি বছর উপজেলায় একটি পৌরসভা ও এগারটি ইউনিয়নে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭হাজার ৫‘শ হেক্টর জমিতে। কিন্ত এবছর টানা হালকা ও ভারী বর্ষণে কিছু জমির ফসল ক্ষতি হওয়ার কৃষব এবছর আগাম রোপআমন ঝুকে পড়ে। ফলে এবছর রোপা আমনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট ৮ হাজার ৪‘শ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করা হয়। গত ২০১৬-১৭ মৌসুমে এ উপজেলায় মোট রোপা আমনের টার্গেট ছিল ৭হাজার ৬৩১ হেক্টর। আর অর্জিত হয়েছিল ৭হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে।
ইত্তেফাক/এএম।