`আপনার মেয়েটিকে শ্বশুর বাড়িতে যেমন দেখতে চান, আপনার বাড়িতে বউ হয়ে আসা অন্য মেয়েটিকে সেভাবেই রাখুন’

‘আপনার মেয়েটিকে শ্বশুর বাড়িতে যেমন দেখতে চান, আপনার বাড়িতে বউ হয়ে আসা অন্য মেয়েটিকে সেভাবেই রাখুন- নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এমন স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন টাঙিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত এবং আলোচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স) মো. মনিরুজ্জামান।  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের দ্বায়িত্বে থাকার সময় তিনি এভাবেই সচেতনতা তৈরি করেন। সম্প্রতি এআইজি মো. মনিরুজ্জামান ও ব্যারিস্টার মোস্তাক আহমেদের এক সাদামাটা আলাপচারিতা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

 

১ | কেমন আছেন ? 

 

আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি | 

 

২ | আপনি নিঃসন্দেহে একজন সফল মানুষ। শিক্ষা জীবনে ভাল রেজাল্ট করেছেন, বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ অফিসার হয়েছেন। জীবনের কোন স্তরে এসে মনে হয়েছে আপনি একজন সফল মানুষ? 

 

আসলে সফলতা টার্মটিই আপেক্ষিক। একজন মানুষ তার জীবনে সফল বা অসফল এটি পরিমাপের কোনো গাণিতিক মানদণ্ড নেই। এটা আসলে উপলব্ধির বিষয়। এক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গিটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম কথা হল আমাকে সফল বা অসফল কে ভাবছে, আমি না অন্যরা। আবার মানুষের জীবনে নানা ডায়মেনশন আছে। আক্ষরিক অর্থে ব্যাপকভাবে সফল বলে সমাজে সুপরিচিত অনেককেই কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। কর্মজীবনে খুব সফল একজন মানুষ হয়তো ব্যক্তি বা পারিবারিক জীবনে একেবারেই ছিবড়ে। ভিন্নভাবে দেখলে ব্যক্তি জীবনে খুব সফল একজন মানুষ হয়তো নিজস্ব গণ্ডির বাইরে নিতান্তই নোবডি। অন্যভাবে যদি ভাবি, নাম, ডাক, অর্থ, প্রতিপত্তি, খ্যাতির বিচারে খুব সফল একজন মানুষ হয়তো একেবারেই অন্তঃসারশূন্য বা নিজের কাছেই অচেনা। প্রচণ্ড জনপ্রিয় কোনো সেলিব্রেটি হয়তো তার স্ত্রী বা স্বামীর কাছেই একেবারেই নিম্ন মানের মানুষ বলে বিবেচিত। সামাজিকভাবে খুব সফল একজন মানুষ একজন ভাল স্বামী/স্ত্রী, বাবা/মা, সন্তান, বন্ধু নাও হতে পারেন। 

 

অন্য দৃষ্টিতে ইহলৌকিক জগতে খুব সফল একজন মানুষ হয়তোবা জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে রাব্বুল আলামিনের নিকট হাজিরা দেয়ার জন্য একেবারেই কনফিডেন্ট না। কাজেই প্রশ্ন হচ্ছে কাকে আমি সফল বলব। আমার কাছে সরল অর্থে সফলতা বিষয়টিই যতটা না বোঝানোর তার চেয়েও বেশি বোঝার বিষয়। 

 

এখন সরাসরি উত্তর দেই। আমি স্ট্রেইট ব্যাটে খেলতে পছন্দ করি। আমি নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট। আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করি। বিবেচনা মতে ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার চেষ্টা করি। পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে দুটি মাত্র কারণে। একটি হলো- হুক্কুল্লাহ্ অর্থাৎ আল্লাহর উপাসনা করার জন্য এবং আরেকটি হল হুক্কুল এবাদ বা সৃষ্টিকুলের সেবার জন্য। সেই বিচারে আমি নিজেকে এখনো সফল দাবি করিনা। আমি সব সময় প্রার্থনা করি- 

 

‘অনন্ত অসীম প্রেমময় প্রভু বিচার দিনের স্বামী

চালাও সে পথে যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি।
যে পথে তোমার চির অভিশাপ,
যে পথে ভ্রান্তি চির পরিতাপ,
মোদেরে কখনো করো নাকো প্রভু তুমি সে পথগামী।’
 
রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে সত্য ও সঠিক পথের নির্দেশনা দিন, ক্ষমা করুন এবং আত্মোপলব্ধির তৌফিক দিন। সেই অর্থে আমরা আসলে সফলতার পথের, আলোর পথের যাত্রী। আমার দৃষ্টিতে it’s a voyage and not a destination. 
 
৩। কারো স্বপ্ন গাড়ি কেনা, কারো বিশাল বাড়ি। আপনার কি কোনো স্বপ্ন আছে যা এখনো পূরণ হয়নি? 
 
ভাই এটা কি বললেন? আমি কি এতোটাই কাঙাল যে, অপূর্ণ কোনো স্বপ্ন আমার থাকবে না। নিজেকে আমি প্রায়োগিক অর্থে একজন স্বপ্ন দেখা আগন্তুক হিসেবে বিবেচনা করি। A man without dream and hope is of no use- কথাটি আমি ভিতর থেকে বিশ্বাস করি। আমার অনেক স্বপ্নই অপূর্ণ রয়ে গেছে। যে কারণে আমি এই পৃথিবীতে এসেছি তার কতটুকু পূরণ করতে পেরেছি। 
 
কাব্য করে নয়, সত্যিকারের তাড়না থেকেই বলছি- এই বাংলাদেশকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। আমি আমার জীবদ্দশাতেই এ দেশটিকে বাংলাদেশ পুলিশের ভিশন স্টেটমেন্ট অনুযায়ী বাংলাদেশকে বাসযোগ্য এবং কর্মযোগ্য দেখতে চাই। একজন বাবা হিসেবে স্বপ্ন আমার সন্তানেরা মানুষের মত মানুষ হবে, নিজগুণে নিজের চারপাশকে আলোকিত করবে। একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে আমার স্বপ্ন বাংলাদেশ পুলিশ বাংলাদেশের মানুষের আস্থা, শ্রদ্ধা ও সম্মানের জায়গাটি পাকাপোক্ত করবে। 
 
অপূর্ণ স্বপ্ন বলতে গেলে রুনা লায়লার গানের কলিটাই ভেসে আসে। আমার অনেক ঋণ আছে। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব, পরিজনদের কাছে। আমি মনে করি- এ সমাজের অনেকের কাছেই আমার অনেক ঋণ আছে। মানুষ হিসেবে আমার প্রথম স্বপ্ন যতটা সম্ভব দায় মুক্তির, ঋণ মুক্তির, যদিও জানি এটা পুরোপুরি সম্ভব নয়। স্বপ্ন ছাড়া কি মানুষ বাঁচতে পারে? মার্টিন লুথার কিং বা নেলসন ম্যান্ডেলারা বৈরী পরিস্থিতেও স্বপ্ন না দেখতেন বা স্বপ্নে অটল না থাকতেন তাহলে আমাদের সকলকেই হয়তোবা এখনো আমাদের মেধা বা যোগ্যতা নয়, গায়ের রঙ দিয়েই বিচার করা হত। এপিজে আব্দুল কালামের মত আমি এমন স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করি যা আমাকে ঘুমাতে দেয় না।  
 
৪। আপনার কি এমন কোনো কষ্ট আছে যার জন্য এখনো ঘুম ভেঙে যায়? 
 
কষ্ট মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কষ্ট মানুষের জীবনকে পরিপূর্ণ করে, বিশুদ্ধতা দান করে। মানুষ হিসেবে অবশ্যই আমার অনেক কষ্ট আছে। কষ্টে ঘুম ভেঙে যায় এটা বললে হয়তো অত্যুক্তি হবে। এতটা না হলেও কিছু কষ্ট তো আছেই। কষ্ট পাওয়া ছাড়া কি কেউ জীবনে সফল হয়েছেন? যে অর্থেই বলি না কেন প্রতিটি অর্জনের পিছনেই কোনো না কোনো কষ্ট, অপ্রাপ্তি বা বেদনা রয়েছে। কষ্ট মানুষের জীবনকে সুন্দর করে। সব কষ্টতো শেয়ার করা য়ায় না, হয়তো শোভনও নয়। কিছু বিষয় না হয় একটু অজানাই থাকল | 
 
৫। আগামী ১০ বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান? 
 
আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই অদৃষ্টবাদী একজন মানুষ। আগামী ১০ বছর কেন ১০ সেকেন্ডও যে বাঁচব তার কি গ্যারান্টি? যদি বেঁচে থাকি তাহলে লক্ষ্যে অটুট থাকার চেষ্টা করব। আমার মত অতি সাধারণ সামান্য একজন মানুষকে নিজের পরিবার, পরিজন, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, সমাজ ও দেশের জন্য কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো। যদি বেঁচে থাকি, নিজেকে সুস্থ্য, কর্মক্ষম এবং আত্মনির্ভরশীল দেখতে চাই। আগামী ১০ বছর মানুষ হিসেবে আমার দায়বদ্ধতার জায়গাগুলোতে আরো বেশি অবদান রাখার মত পরিবেশ, পরিসরে নিজেকে দেখাতে পারলে ভাল লাগবে। 
 
৬। আপনার এবং আপনার সন্তানের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পান? কেন? 
 
আমার এবং আমার সন্তানদের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখতে পাই। এই পার্থক্য ভাল-মন্দ মিলিয়েই। আমাদের শৈশবে কৈশোরে ভীতির জায়গা, অস্বস্তির জায়গা বেশি ছিল। সে তুলনায় আমার বাচ্চারা অনেকটাই ভীতিহীন, মুক্ত পরিবেশে বড় হচ্ছে। আমাদের ছোট বেলাতে অনটন, চাহিদা ও যোগানের বিপ্রতীপ সম্পর্কটা বড় বেশি দৃশ্যমান ছিল। সেজন্য আমি অনেক কষ্ট সহিষ্ণু ছিলাম ছোট বেলাতেই। আমরা খুব অল্পতেই তুষ্ট হতে পারতাম। শেয়ার করাটা ছিল আজন্ম শিক্ষা। শৈশব কৈশোরের প্রাইভেসি শব্দটার সঙ্গে আমরা পরিচিত ছিলাম না। আত্মনির্ভরশীলতা আমাদের শিখতে হয়নি ওটা ছিল বাই ডিফল্ট। আমার বাচ্চাদের আমি সব সময় সব কিছু চাইলেই যে পাওয়া যায় না এমন একটা কালচারে রাখতে চেষ্টা করি। ওরা অনেক বেশি কনফিডেন্ট, কিছুটা ডিপেনডেন্টও বটে। এটা ওদের দোষ নয় এটা মূলতঃ পারিপার্শ্বিকতার প্রভাব। আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন ১০ মাইল সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করতাম। এখনতো এটা আমরা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কল্পনাও করতে পারি না। এখনকার বাচ্চারা শেয়ার করতে জানে না- কারণ ওরাতো যৌথ পরিবার বা অনেক ভাই-বোনের ঝক্কি ঝামেলা দেখেনি। ডিম ভাগ করে খাওয়ার কথা যদি বলা হয় ওরা অবাক হবে। আর আমাদের সময় এটি ছিল নিত্যদিনের হিসেব। কাজেই আমাদের সঙ্গে ওদের হিসাব মিলবে না, মেলাতে যাওয়া হয়তো ঠিকও হবে না। এখনকার বাচ্চারা আমাদের থেকে অনেক দিক দিয়েই এগিয়ে। ওরা পড়ে বেশি, বুঝে বা জানেও বেশি। আবার অনেক দিক দিয়েই পিছিয়ে যেমন হৃদয়বৃত্তি, শেয়ারিং ইত্যাদি। ওরা এ যুগের সন্তান। যুগটাই ওদের গতিপথ বদলে দিয়েছে। এটাকে ভালো বা মন্দের বিচারে মূল্যায়ন কঠিন। 
 
৭। আপনি একজন সেলিব্রেটি পুলিশ অফিসার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি থাকাকালীন সামাজিক উন্নয়নে অনেক ভূমিকা রেখেছিলেন। এটা নিয়ে আপনি অনেকবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন। কিভাবে সম্ভব হলো? 
 
প্রথমত, আমি নিজেকে কখনো সেলিব্রেটি ভাবি না। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি সরকারি কর্মচারীদের সেলিব্রেটি হওয়ার চেষ্টাও করা উচিৎ নয়। আমি দায়িত্বপালনকে ঈমান ও আমলের অংশ মনে করি। আমার উপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব আমি সকল অংশীজনকে নিয়ে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিপালনের চেষ্টা করেছি। এরপরেও একজন সচেতন মানুষ হিসাবে, নিজের গণ্ডির মধ্যে মানুষ হিসেবে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব ভালবেসে পালন করার চেষ্টা করেছি। আমি বিশ্বাস করি মানুষ ভালবেসে, অন্তর থেকে উৎসারিত দায়িত্ববোধ নিয়ে কোনো চেষ্টা করলে তার ফলাফল ভাল হয়। 
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার হিসেবে আমি দেশের একটি ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ সময়ে আড়াই বছরের অধিক সময় পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করেছি। আমি সব সময় ভাবতাম ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বাসযোগ্য এবং কর্মযোগ্য রাখা আমার দায়িত্ব। এখানকার ৪০ লাখ মানুষের সম্মান, সম্পদ রক্ষার, নিরাপত্তার ও স্বস্তিদানের দায়িত্ব আমার ও আমাদের। আমি আমার দায়িত্ব সবাইকে নিয়ে পালনের চেষ্টা করেছি। মানুষের ভালবাসা ছিল, আল্লাহ্পাকের রহমত ছিল- এজন্য হয়তো এটি মানুষের নজর কেড়েছে। 
 
একটা উদাহরন দেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নারী নির্যাতন এবং এ সংক্রান্ত মামলা খুব বেশি হত। এসপি হিসেবে আমি খুব লজ্জা পেতাম। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রচলিত কার্যক্রমের পাশাপাশি কিছু অপ্রচলিত ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলাম। নানা ধরনের উদ্ভাবনী কৌশলের প্রয়োগ ঘটাতে চাইলাম আমরা সবাই মিলেই। এরই একটা অংশ ছিল স্লোগানের মাধ্যমে গণসচেতনতা। এমনি একটি লিফলেট ছিল, ‘আপনি আপনার মেয়েটিকে শ্বশুড় বাড়িতে যেমনটি দেখতে চান, আপনার বাড়িতে বউ হয়ে আসা অন্য মেয়েটিকে সেভাবেই রাখুন।’ আপাতদৃষ্টিতে অত্যন্ত অকাব্যিক এই স্লোগানটি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে তো বটেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাইরেও বহু মানুষের ব্যাপক নজর কাড়তে সক্ষম হয়। 
 
আমরা প্রচুর ফল পেতে শুরু করি। নারী নির্যাতন নিয়ে মানুষ, অংশীজনেরা ভিন্নভাবে ভাবতে থাকেন। এই স্লোগানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। কথায় বলে না charity begins at home. এই ধারণা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। মানুষ বুঝতে পারে থানা পুলিশ বা কোর্ট কাচারি নয়, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করতে হলে ঘর মানে নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। 
 
ট্রাডিশনাল পুলিশিংকে গণমুখী, সেবামূলক করার চেষ্টা করেছি। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয় আমি যখন যেখানে দায়িত্ব পালন করেছি-মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। 
 
প্রসঙ্গত, বলি রান্না কমবেশি সবাই করেন, যার রান্নায় ভালবাসা থাকে তার রান্নাই সুস্বাদু হয়। আমি জীবনের সবক্ষেত্রেই দায়িত্বের সঙ্গে ভালবাসা মেশানোর চেষ্টা করি। এটাই যৎসামান্য সাফল্যের অন্যতম ফ্যাক্টর বলে মনে করি। 
 
৮। যারা এখন স্কুল, কলেজে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে তাদের ব্যাপারে কিছু বলুন? 
 
মৌসুমী ভৌমিক আমার খুব প্রিয় শিল্পী। মৌসুমী ভৌমিকের একটি গান আমার খুব প্রিয়। স্বপ্ন দেখবো বলে দুহাত পেতেছি, স্বপ্ন দেখবো বলে তোমাদের কাছে ছুটে এসেছি। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীরা তথা তরুণরাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পত্তি এবং সম্পদ। তরুণদের প্রতি আমার বক্তব্য একটাই। দেশ অনেক এগিয়ে গেছে এবং দ্রুত আরো এগিয়ে যাবে। আমি স্বপ্ন দেখি আমাদের তরুণরা অনেক বড় করে স্বপ্ন দেখবে। তারা খালি চাকরির চিন্তা না করে এন্টারপ্রেইনরশিপ ডেভলপ করবে। তরুণরা স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করবে, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ভাল মানুষ, হৃদয়বান মানুষ হওয়ার চেষ্টা করবে। আমি স্বপ্ন দেখি কথায় না বড় হয়ে এরা কাজে বড় হবে, েএদের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন যে সোনার বাংলা সেটি বাস্তবায়িত হবে। মানুষ হচ্ছে অসীম সম্ভাবনাময় একটি প্রাণি। সুযোগ এসেছে- মানুষ হবার। এরা অনেক বড় হবে, নিজের পরিবারের ও আশেপাশের মানুষের দায়িত্ব নেবে। এরা পরগাছা নয়, বটবৃক্ষ হবে। আশ্রয় দিবে, আশ্রিত হবে না।
 
৯। বাংলাদেশ পুলিশের একটি খারাপ এবং একটি ভাল দিক বলুন? 
 
পুলিশিং বিশ্বের সর্বত্রই একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের একটি মধ্যম আয়ের মাল্টিডাইমেনশনাল সোসাইটিতে পুলিশিং আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং। ব্যক্তিগত জীবনে গর্ব করার মত বেশি কিছু আমার নেই। তারপরও একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। আমার প্রিয় একটি উক্তি হচ্ছে I am a police officer by choice, not by chance. 
 
খুব সহজে পুলিশের একটি ভাল এবং একটি খারাপ দিক বলা কঠিন। ভালবাসি বলেই খারাপটি দিয়ে শুরু করি। বাংলাদেশ পুলিশের একটি দুর্বল দিক হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ এখনো কাঙ্খিত পর্যায়ে জনসন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেনি, আমাদেরকে বহুদূর যেতে হবে বলে আমি মনে করি। 
 
বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদাই জনতার পাশে ছিল, কখনোই জাতির সঙ্গে বেঈমানি করেনি। বাংলাদেশ পুলিশ এদেশের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছে। ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে শত্রু সেনার কামান মর্টারের বিরুদ্ধে অসীম সাহসে নিজেদের সামান্য থ্রি নট থ্রি নিয়ে যুদ্ধ করেছে। এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের বৃহত্তম গৌরব। বাংলাদেশ পুলিশ সে গৌরবের গর্বিত অংশীদার। স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের অবদান জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে বলে আমি মনে করি।
 
আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে পাঠকদেরকে নিরন্তর শুভকামনা জানাই। রাব্বুলআলামিন আমাদের সবার মঙ্গল করুন।
 
১০ | ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ |
 
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ, দোয়া করবেন আমার জন্য |
 
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি