নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন শাহাদাত-ই আল-হিকমার প্রতিষ্ঠাতা কাওসার হুসাইন সিদ্দিকীকে (৪০) দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কার্যকলাপ পরিচালনার দায়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জুলফিকার উল্লাহ মঙ্গলবার বিকেলে এ রায় ঘোষণা করেন।
কাওসার রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার হড়গ্রাম গোরস্থানপাড়া মহল্লার শমসের আলীর ছেলে। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাজমুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, কাওসারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন আদালত। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে আরও তিনমাস কারাভোগ করতে হবে। কাওসার আগে থেকেই কারাগারে ছিলেন। রায় ঘোষণা উপলক্ষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। আদালত তার উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন। পরে তাকে আবার কারাগারে নেয়া হয়।
আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জানান, ২০০২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি নগরীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শাহাদাত-ই আল হিকমা নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেন কাওসার হুসাইন। ওই সংবাদ সম্মেলনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপ’ উল্লেখ করে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়া হয়। পরে এসব বিষয়ে প্রচার চালাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরীজুড়ে পোস্টার লাগানো হয়। এ নিয়ে ওই সময় নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে পুলিশ। পরবর্তীতে শাহাদাত-ই আল-হিকমাকে জঙ্গি সংগঠন আখ্যায়িত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার।
এরপর ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাওসারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়। পরদিন নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার বিকেলে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
ইত্তেফাক/আরকেজি