আগামীকাল উন্মোচিত হতে যাচ্ছে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’র দ্বিতীয় আসরের পর্দা। সারাদেশে ৪৪টি জেলা ও ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাড়ে চার মাসব্যাপী অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে উঠে আসে ১৩০০ আবেদন। এদের মধ্য থেকে ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয় এবং চুড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনীত হয় ৫০টি সংগঠন। ১৯ অক্টোবর বাছাইকৃত ১০০টি সংগঠনের প্রতিটি থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি আসবেন সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্রে। অনুষ্ঠানস্থলেই তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
২০ অক্টোবর সকালে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হবে। বিকালে থাকবে মতবিনিময়। ২১ অক্টোবর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়। সামাজিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন এবং ক্রীড়া উন্নয়ন এই তিনটি বিভাগে মনোনীত পঞ্চাশটি সংগঠনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।
সংগঠনের নাম: স্বপ্নদেখো সমাজ কল্যাণ সংস্থা
যশোরের হাশিমপুরে সমাজ গঠনে কৈশোর থেকে কাজ করছেন স্বপ্নদেখো সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি জহির ইকবাল নান্নু। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে সমমনা কয়েকজন নিয়ে তিনি শুরু করেন স্বপ্নদেখো’র কার্যক্রম। বর্তমানে ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
অসহায় প্রতিবন্ধী, ছিন্নমূল নারী-শিশুসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে স্বপ্নদেখো। এ ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে ধূমপান ও মাদক-বিরোধী কার্যক্রমও পরিচালনা করে সংগঠনটি। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলা, সামাজিক বনায়ন ও জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করে স্বপ্নদেখো।
এখন পর্যন্ত ২১জন প্রতিবন্ধীকে সহায়তার পাশাপাশি ৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ সমাজ সচেতনতামূলক আরো বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে স্বপ্নদেখো।
IMG0
বরিশাল ইয়ুথ সোসাইটি
নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে বরিশাল ইয়ুথ সোসাইটি। ফয়েজ বেলাল ও তার সমমনা কয়েকজন মিলে শুরু করে এই সংগঠনটির কার্যক্রম। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় সংগঠনটি তার ১০ হাজার সদস্য ও ৮০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্য চালু হওয়া এই সংগঠনটি পরবর্তীতে অসহায় নারীদের সহায়তার জন্যও কাজ শুরু করে। তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ লাভ করে বর্তমানে ১৯ জন নারী কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে সক্ষম হয়েছে।
এই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ২৫৭টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করেছে বরিশাল ইয়ুথ সোসাইটি। এর পাশাপাশি সহিংসতার শিকার ১০৯ নারীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা প্রদান করেছে। নারী শিক্ষা নিয়েও কাজ করছে বরিশাল ইয়ুথ সোসাইটি। তাদের বৃত্তি পেয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে ১৪ জন এসএসসি ও ৭ জন এইচএসসি শিক্ষার্থী।
দুর্বার ফাউন্ডেশন
কুমিল্লা দক্ষিণ সদর এলাকার রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পথ-শিশুদের আবাসস্থলকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম শুরু করে দুর্বার ফাউন্ডেশন। সমাজের সবচাইতে অবহেলিত এই শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রাথমিক সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে দুর্বার ফাউন্ডেশন। মোঃ. আরিফুর রহমান চৌধুরী ও তার বন্ধুরা মিলে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে সংগঠনটি ১২৫০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে আরো বিস্তর পরিসরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে কুমিল্লা স্টেশন, কুমিল্লা শহর ও লাকসাম রেলওয়ে জংশনে বসবাস করা পথ শিশুদের ৯০ ভাগ সরাসরি দুর্বার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে। তাদের মধ্যে ৯৯ ভাগ শিশু বর্তমানে মাদকদ্রব্য গ্রহণ বন্ধ করেছে। এর পাশাপাশি শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্তি দিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে সংগঠনটি। যার মাধ্যমে বর্তমানে ৭৫ ভাগ শিশু অর্থ আয় করছে। এর পাশাপাশি রোগীদের জন্য রক্ত সরবরাহ, বাল্য বিবাহরোধ ও মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা সৃষ্টিসহ বেশ কিছু সমাজ গঠন মূলক কাজ করে যাচ্ছে দুর্বার ফাউন্ডেশন। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ২টি বিদ্যালয়কে বাল্যবিবাহ মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছে সংগঠনটি। পথশিশু, বাল্যবিবাহ ও মাদকমুক্ত দুর্বার বাংলাদেশ গড়াই সংগঠনটির লক্ষ্য।
কাকতাড়ুয়া
কাকতাড়ুয়ার যাত্রা শুরু ২০১৩ সালে। খলিলুর রহমান ফয়সাল ও তার বন্ধুরা মিলে সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শুরু করে তাদের কার্যক্রম। ক্যামেরার লেন্সকে ব্যবহার করে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, বৈষম্যের বাধা ভেঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা কার্যক্রম সিলেট অঞ্চলে পরিচালনা করছে কাকতাড়ুয়া। এরই মধ্যে স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে সংগঠনটি। সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে কিছু শর্ট ফিল্ম ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও করেছে সংগঠনটি। এ ছাড়াও ক্যামেরার লেন্স ব্যবহার করে আমাদের পৃথিবীকে তরুণদের সামনে ভিন্নরূপে উপস্থাপনের জন্য সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন কাকতাড়ুয়া। সমাজের সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষাগুলো ক্যামেরার মাধ্যমেই খুঁজে পায় কাকতাড়ুয়া। তাদের লক্ষ্য বসবাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা।
আই পজিটিভ
২০১১ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে পথ চলা শুরু করে আই পজিটিভ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজ গঠনের ইচ্ছা থেকে মোঃ. শফিক পারভেজ ও তার পরিচিত কয়েকজন মিলে এই সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করেন। শিশু-কিশোর ও তরুণ-যুবাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা, বিশ্বাস ও ভিত্তি ছড়িয়ে দেয়া তাদের মূল কাজ। শফিক পারভেজ বিশ্বাস করেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনুপ্রেরণা খুঁজে পাবে দেশের তরুণ সমাজ। আর সে কারণেই তার সংগঠন মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে মুক্ত আলোচনা, প্রতিযোগীতা ও সেমিনার আয়োজন করে। এর পাশাপাশি আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার প্লান বিষয়ক সেমিনার, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও পরামর্শ প্রদানসহ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে আই পজিটিভ। এ ছাড়াও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও সেমিনারের আয়োজন করে সংগঠনটি। নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি, নৈতিক মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পন্ন করে গড়ে তোলা আই পজিটিভের লক্ষ্য।
কুইজার্ড
দেশের তরুণদের জ্ঞান পিপাসু করে তোলার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে খন্দকার মাহফুজ সালেহিন প্রতিষ্ঠা করেন কুইজার্ড। বর্তমানে তাদের সঙ্গে দৈনিক সম্পর্ক রাখে ১০০০ থেকে ১৫০০ মানুষ। কুইজার্ডের মাধ্যমে প্রকাশিত কুইজ, আর্টিকেল বেশ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কুইজার্ডের উদ্যোক্তাদের কাছে জয় বাংলা একটি চেতনা। যা তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে কুইজার্ড।
স্লোগান একাত্তুর।
IMG1
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৮ সাল গঠন কার্যক্রম শুরু হয় স্লোগান৭১ নামের সংগঠনটির। ‘ন্যায়যুদ্ধে বাঙ্গালী’ স্লোগান নিয়ে সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে। ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির বাহিরে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক সংগঠন হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির বিপক্ষে কাজ করে যাচ্ছে স্লোগান ৭১। বর্তমানে তাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। ২০০৮ সালে সুদীপ্ত সরকার রনি (প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক), কাজল আব্দুল্লাহ, সুলতান মাহমুদ চমন ও জেসির হাত ধরে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে যার বর্তমান প্রধান হিসেবে আছেন ভূঁইয়া মোঃ. ফয়জুল্লাহ মানিক। সংগঠনটি প্রতি বছর ১৪, ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর 'রক্তে রাঙ্গা বিজয় আমার' নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক অধিকাংশ সংগঠন অংশ গ্রহণ করে।
স্বাধীন
দিনাজপুর
'টু ডু গুড ইজ আওয়ার রিলিজিওন' এই স্লোগান নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে দিনাজপুর অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে 'স্বাধীন'। সংগঠনটির মোট সদস্য ২৫০ জনের বেশি। ২০১০, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সেরা রক্তদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংক পুরষ্কার লাভ করে সংগঠনটি। তাদের অধিকাংশ সদস্য স্কুল ও কলেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রত্যয়, সিলেট
সিলেটে অবহেলিত চা শ্রমিক এবং স্থানীয় অসহায় দরিদ্রদের নিয়ে ও তাদের সন্তানদের নিয়ে কাজ ২০১৬ সাল থেকে কাজ করছে 'প্রত্যয়' মানবসেবা মূলক সংগঠন। মোঃ. মিফতা আহমেদ রিটনের পরিচালনায় বর্তমানে ৫৫ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সমাজ সচেতনতামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। তাদের চালানো ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থেকে ২০০ জন দরিদ্র রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি স্থানীয় ঝড়ে পড়া স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্যও কাজ করছে সংগঠনটি। সিলেটের এই অঞ্চলকে মাদকমুক্ত করতে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দূরীকরণে বেশ কিছু ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে তারা।
ব্রেইভ, চাঁদপুর
চাঁদপুরের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে ডিজিটাল বাংলাদেশের বিকাশ ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য ২০১৩ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে 'বি রিলেটেড টু অডিও ভিজুয়াল এডুকেশন (ব্রেইভ)। বর্তমানে চাঁদপুর ও এর আশেপাশের এলাকার স্কুল কলেজগুলোর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংগঠনটির পক্ষ থেকে অডিও ভিজুয়াল ও আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি এ সকল শিক্ষার্থীদের ফ্রিল্যান্সিং কাজ শিখিয়ে আয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে ব্রেইভ। 'আমরা দরিদ্র নই, আমরা কর্মদক্ষ' এমন চেতনা নিয়ে দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এই সংগঠনের মাধ্যমে ১ হাজারের বেশি তরুণ আইসিটি খাতে প্রশিক্ষণ লাভ করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চায় ব্রেইভ।
আমার স্কুল, গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় হরিজন জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুল মুখী করতে এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৪ সালে 'আমার স্কুল' প্রতিষ্ঠা করে রাজেশ বাসফোড়। ৯ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুল মুখী করাসহ বাল্যবিবাহ রোধ এবং হরিজন জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক ও সাংস্কৃতিক কার্যাবলীয় মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছে 'আমার স্কুল'। এখন পর্যন্ত ২৭ জনের বেশি ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে শিক্ষা ও অর্থ সহায়তা দিয়ে স্কুল মুখী করেছে সংগঠনটি। পিছিয়ে থাকা হরিজন গোষ্ঠীকে মূলধারায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা সংগঠনটির মূল লক্ষ্য।
ইচ্ছা পূরণ, সিলেট
'পথ শিশু' ধারণাটি এই দেশের বুক থেকে মুছে ফেলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ২০১৪ সালে শুরু হয় ইচ্ছে পূরণ সামাজিক সংগঠনের কার্যক্রম। রুমা আক্তারের নেতৃত্বে শুরু থেকেই সিলেট রেল স্টেশন ও তার আশেপাশে থাকা সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু ও নারীর শিক্ষা ও নিরাপদে থাকার অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে ইচ্ছে পূরণ। এই সুবিধা বঞ্চিতদের শিক্ষা পাবার ইচ্ছা পূরণে সংগঠনটি স্টেশনে স্থাপন করেছে ভ্রাম্যমাণ স্কুল। এ ছাড়াও বয়স্ক নারী শিক্ষার ব্যবস্থা, হতদরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র, ইফতার ও খাদ্য বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার আয়োজন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সংগঠনটি। পথশিশুদের অধিকার রক্ষা ও নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে কাজ করে যেতে দৃঢ় প্রত্যয়ী 'ইচ্ছে পূরণ'।
কল্লোল ফাউন্ডেশন- নট ওকে
নাটোর সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা হিসেবে ২০১২ সালে নাটোরের গুরুদাসপুরে কার্যক্রম শুরু করে কল্লোল ফাউন্ডেশন। ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট এই সংগঠন জেলার নির্দিষ্ট অঞ্চলে অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্রদের তালিকা তৈরি করে এবং তাদের সঙ্গে নির্দিষ্ট দিনে বৈঠকের আয়োজন করে। ০১৭১১৪১৮১৩৭ কতগুলো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সন্তানদের স্কুলে প্রেরণের গুরুত্ব, বাল্য বিবাহ রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, জলবায়ু পরিবর্তন ও করণীয়, সামাজিক বনায়নসহ এমন আরো বিবিধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এই সমস্যাগুলো থেকে সমাজকে দূরে রাখার সুবিধা, কার্যকর উপায় ও সমাজ গঠনে সম্মেলিত ভূমিকা সম্পর্কে এখানে সকলকে জানানো হয়।
পতেঙ্গা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠন, চট্টগ্রাম
মোঃ. সেলিমের নেতৃত্ব ২০০৯ সাল থেকে নিজ এলাকার প্রতিবন্ধীদের সক্ষম করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে পতেঙ্গা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠন। পতেঙ্গা এলাকায় প্রাথমিক জরিপের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের চিহ্নিত করার পর তাদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শিক্ষার জন্য উৎসাহ প্রদান, অসহায় ও দরিদ্র প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সাহায্য ও বৃত্তি প্রদান এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা প্রদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এখন পর্যন্ত আমরা সহায়তা প্রদান করেছি পতেঙ্গা এলাকার ১০০ জনের বেশি প্রতিবন্ধী ও তাদের পরিবারকে। আমাদের লক্ষ্য সকল প্রতিবন্ধীদের কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা।
IMG2
কথন সাংস্কৃতিক সংসদ (কসাস), ঝিনাইদহ
২০২৫ সালের মধ্যে ঝিনাইদহকে দেশের সংস্কৃতি চর্চার প্রধান নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে কথক সাংস্কৃতিক সংসদ (কসাস)। ২০০৮ সালে যাত্রাশুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৫ জন সদস্যকে নিয়ে চলছে সংগঠনটির সাংস্কৃতিক আন্দোলন। সংগঠনটির বর্তমান প্রধান হিসেবে আছেন উম্মে সায়মা জয়া। ঝিনাইদহের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মুক্তভাবেও আবৃত্তি, নাচ, গান ও বিতর্ক কর্মশালা এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে কসাস। এ ছাড়াও জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও সহায়তা প্রদান করে সংগঠনটি। সংগঠনের এই মূল আন্দোলনের পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরি, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান, সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসহ সমাজ সচেতনতা মূলক বিবিধ কার্যক্রম করে চলেছে সংগঠনটি। ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জাতীয় দিবসগুলো উদযাপনের পাশাপাশি মাস ব্যাপী একুশে বইমেলার আয়োজন করা হয়।
মুক্ত সাংস্কৃতিক সংঘ, পঞ্চগড়
পঞ্চগড় বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাল্য বিবাহ, যৌতুক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মোঃ. রিজওয়ান চৌধুরী প্রিন্সে। র সংগঠন মুক্ত সাংস্কৃতিক সংঘ। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু পর থেকে নিজ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সেখানকার সমস্যা চিহ্নিত করণ ও তা সমাধানে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নাটীকা প্রদর্শন ও নাচ-গানের আয়োজন করে আসছে মুক্ত সাংস্কৃতিক সংঘ। এখন পর্যন্ত সংগঠনের সচেতনতা কার্যক্রমে অনুপ্রেরণীত হয়ে ২৩টি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়াও স্কুল কলেজে গিয়ে সভা ও সাংস্কৃতিক কাজের মাধ্যমে সামাজিক শিক্ষা দেয়ার কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। পঞ্চগড় উপজেলায় অবস্থিত অধিকাংশ স্কুলে এই সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংগঠনটি। সেই সঙ্গে গান, অভিনয়, নাচ ইত্যাদি শেখার ক্ষেত্রেও সহায়তা করে মুক্ত সাংস্কৃতিক সংঘ। সম্প্রতি ভারতের আগ্রায় আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবে ১২ সদস্যের একটি দল নিয়ে নাটক প্রদর্শন করে এই সংগঠনের অভিনেতারা। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে সচেতন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে মুক্ত সাংস্কৃতিক সংঘ।
ইনোভেটর বইপড়া উৎসব, সিলেট
দেশের নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাসের শিক্ষা দেয়া, বই পড়ার অভ্যাস তৈরি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিকশিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৬ সালে শুরু হয় ইনোভেটর বইপড়া উৎসাব। অক্টোবর নভেম্বর মাসে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে প্রতি বছর ডিসেম্বরে বিজয়ের মাসে তরুণদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয় এবং তা পাঠ শেষে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মার্চ মাসে আরেকটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতি বছর স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১০০০ থেকে ১২০০ জনকে নিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করি আমরা।
শ্যামনগর ফুটবল একাডেমী, সাতক্ষীরা
মোঃ. আক্তার হোসেনের নেতৃত্ব বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা শ্যামনগরে ২০০৮ সাল থেকে চলছে ক্রীড়া শিক্ষা কার্যক্রম যার সাংগঠনিক নাম শ্যামনগর ফুটবল একাডেমী। বর্তমানে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে একাডেমির মোট সদস্য সংখ্যা ১৭০ জনের বেশি। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, সুস্থ বিনোদন ও জাতীয় মানের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই একাডেমি গঠন করা হয়। এখানে নিয়মিত খেলা চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রাম ও ইউনিয়নে টুর্নামেন্টের মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করা হয়। প্রতি মাসে শুধু ফুটবল নয়, তার পাশাপাশি ভলিবল খেলারও আয়োজন করে এই একাডেমি। বর্তমানে এই ক্রীড়া একাডেমি থেকে ২ জন খেলোয়াড় অনুর্ধ্ব-১৬ বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছে। বিকেএসপিতে প্রেরণ করা হয়েছে এলাকার আরো ৬ জন খেলোয়াড়কে। এ ছাড়াও সামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে ২ জন এবং কলকাতার মোহন বাগান ফুটবল একাডেমিতে খেলার সুযোগ পেয়েছে এই একাডেমির একজন সদস্য। শক্তিশালী জাতীয় দল পাওয়ার লক্ষ্যে খেলোয়াড় তৈরি এই একাডেমি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।
আমরা মানুষ ফাউন্ডেশন, ঢাকা
‘প্রতিটি মানুষ স্ব-শিক্ষিত হবে, দেশকে জানবে, মুক্তিযুদ্ধকে জানবে। দেশ গঠনে সকলে ভূমিকা রাখবে।‘ এমনই এক প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আমরা মানুষ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির প্রধান শামীমা ইসলাম তুষ্টির নেতৃত্বে ২০১৬ সাল থেকে কাজ করছে সংগঠনটি। লক্ষ্য তিনটি- নতুন প্রজন্মের মাঝে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকশিত করা, শিশুর জন্য শিক্ষা, দরিদ্রতা হ্রাস এবং বেকারত্ব হ্রাস। আর তা বাস্তবায়নে তিনটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। এর মধ্যে ‘মুক্তির ইতিহাস শোনো’ প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশি কোন সংগঠন হিসেবে ৭১টি স্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যাচ্ছে আমরা মানুষ ফাউন্ডেশন। এই মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে নতুন প্রজন্ম যেন অনুপ্রেরণা পায় সেই লক্ষ্যে এই কার্যক্রম পরিচালনা। দ্বিতীয়টি ‘স্মাইল প্রজেক্ট’। এর আওতায় সংগঠনটি অধিকার বঞ্চিত ২০ শিশুর দায়িত্ব নিয়েছে যাদের কেজি ওয়ান থেকে শুরু করে চাকরি লাভের আগ পর্যন্ত সহায়তা করে যাবে সংগঠনটি। অন্যদিকে ‘রোড টু ০% আনইম্পলয়মেন্ট প্রজেক্ট’-এর অধীনে এখন পর্যন্ত দুটি পরিবারকে সেলাই মেশিন কিনে দিয়েছে সংগঠনটি। অপর এক জনকে কিনে দেয়া হয়েছে রিকশা। ভবিষ্যতে এই প্রজেক্টগুলোর অধীনে আরও বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায় সংগঠনটি।
শ্রীপুর উপজেলা ইয়ুথ ফোরাম, গাজীপুর
'সকল নারী মত প্রকাশ করবে, স্বাধীন দেশে স্বাধীন জীবনযাপন করবে'- এমনই এক লক্ষ্য নিয়ে ২০১৬ সালে সাহিদা আক্তার স্বর্ণা শুরু করে শ্রীপুর উপজেলা ইয়ুথ ফোরামের কার্যক্রম। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ২৫ জন। এই ফোরাম আয়োজিত জনসচেতনতা কার্যক্রম ও সংগঠনটির সরাসরি হস্তক্ষেপে ১০০টির বেশি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। সংগঠনের তৎপরতায় উক্ত অঞ্চলে বাল্য বিবাহ দেয়ার কথা বর্তমানে ভাবতেই পারে না অধিকাংশ অভিভাবক। সংগঠনটির সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে ঝরে পর শিক্ষার্থীর হার বিশেষত ঝরে পড়া নারী শিক্ষার্থীর হার অনেক কমে গেছে। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিও'র সহায়তায় শ্রীপুরে নারীর প্রতি হওয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে এই যুব সংঘ।
আলোকবর্তিকা, বাগেরহাট
'সমান অধিকার ও সম্মানে বাঁচুক প্রতিটি মানুষ' এই স্লোগান নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে আলোকবর্তিকা। মোঃ. সুরুজ খানের নেতৃত্ব সংগঠনটিতে নিরলস-ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ১৩৩ জন স্বেচ্ছাসেবক। তাদের লক্ষ্য- অসহায় ও দরিদ্রদের বিনামূল্যে রক্তদানের ব্যবস্থা করা, সুবিধা বঞ্চিত ও দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান, শিক্ষার্থীদের লেখা নিয়ে ম্যাগাজিন প্রকাশ, চিকিৎসা বঞ্চিতদের যথাসাধ্য চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং স্থানীয় সরকারকে সহায়তা প্রদান। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সংগঠন সৃষ্টির পর থেকে এখন পর্যন্ত স্থানীয় ১৩ হাজার মানুষের ব্লাড গ্রুপিং এবং ডাটাবেজ সংরক্ষণ এবং বিনামূল্যে ৭৫ ব্যাগ রক্ত দরিদ্র রোগীকে প্রদান করেছে সংগঠনটি। বিগত তিন বছর ঈদে দরিদ্র শিশুদের বস্ত্র বিতরণ এবং দরিদ্র শিশুদের ফ্রি ক্লাস ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের কাজ করে যাচ্ছে আলোকবর্তিকা। শিক্ষার্থীদের লেখা নিয়ে তৃতীয়বারের মত প্রকাশ হতে যাচ্ছে আলোকবর্তিকা ম্যাগাজিন। এ ছাড়াও পরিবেশ দূষণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থানীয় বাজারে ৫০টি ডাস্টবিন স্থাপন করেছে আলোকবর্তিকা।
প্রাধিকার, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাণীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালে কার্যক্রম শুরু করে প্রাধিকার। প্রাণী কল্যাণের মাধ্যমে অধিকার নিশ্চিত করা এবং জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে ছাত্রদের অরাজনৈতিক সংগঠন। দুটি পৃথক বোর্ডের মাধ্যমে সংগঠনটি পরিচালিত হয়। এর মধ্যে এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য নিয়মিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থ প্রদান করেন। অন্যদিকে নিয়মিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬৫ শিক্ষার্থী। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে সংগঠনটির সঙ্গে জড়িতদের প্রাধিকার সাপোর্টার হিসেবে অবহিত করা হয়। প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি তারা আহত হলে চিকিৎসা প্রদান করে প্রাধিকার। কোন প্রাণী লোকালয়ে ধরা পরলে তাকে উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগকে জানানো হয়। বিভিন্ন এনজিও ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোলাবোরেশনে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক এই সংগঠনটি।
উই ডট ফাউন্ডেশন, ঢাকা
অসহায়ত্ব শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভোকেশনাল ট্রেনিং ও কর্মক্ষেত্রে তৈরির জন্য কাজ করছে উই ফাউন্ডেশন (উই ডট ফাউন্ডেশন)। ২০১১ সালে মোঃ. আসিব মুস্তাবা আকরাম সংগঠনটি তৈরির জন্য কাজ শরু করে যা সরকারি নিবন্ধন পায় ২০১৩ সালে। বর্তমানে মহাখালী টিএনটি বস্তিতে এবং বগুড়া জামিল নগরে এই সংগঠনটির স্কুল স্থাপন করা হয়েছে যেখানে ১৩০ জন শিশু লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই স্কুলগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর শিক্ষার্থীদের সরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সংগঠনটি ৪ জন শিক্ষার্থীকে সরকারি স্কুলে ভর্তি করতে পেরেছে। এর পাশাপাশি সংগঠনের হেলথ সার্ভিস ক্যাম্পেইন রয়েছে যেখানে চিকিৎসকেরা ৪ হাজার ৪৪৬ জনকে সরাসরি চিকিৎসা প্রদান করেছে। সংগঠনটি এই চিকিৎসা প্রাপ্তদের প্রাথমিক ওষুধগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে। এ ছাড়াও এই কার্যক্রমের আওতায় চিকিৎসা পেয়েছে ৮৮৯টি পরিবার।
অপরাজিত আলোর মিছিল, রংপুর
শিশু শিক্ষা নিয়ে ২০১৪ সাল থেকে রংপুর অঞ্চলে কাজ করছে 'অপরাজিত আলোর মিছিল' মোছা. নাজমুন নাহারের নেতৃত্বে বর্তমানে ৬৫ জন স্বেচ্ছাসেবক নিরালসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটিতে। রংপুর অঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতে কাজ শুরু করে সংগঠনটি। প্রাথমিক পর্যায়ে ৬ জন শিশুকে নিয়ে কাজ শুরু করলেও বর্তমানে তাদের মাধ্যমে ১৫০ জন সুবিধা বঞ্চিত শিশু শিক্ষা সহায়তা লাভ করছে। এই শিশুদের জন্য নিয়মিত ক্লাস নেয়া, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, খেলধূলার উপকরণ সরবরাহ এবং ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এই শিশুদের পোশাক উপহার দেয় সংগঠনটি। এর পাশাপাশি মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে অপরাজিত আলোর মিছিল। রংপুরে যেনো কোন সুবিধা বঞ্চিত শিশু না থাকে, সেই জন্য কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
ইকোনোমিকেল ওপেন স্কাউট গ্রুপ, ঢাকা
ইকোনোমিকেল ওপেন স্কাউট গ্রুপ ১৯৯৮ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে ৬০ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ স্কাইট থেকে প্রদত্ত সমাজ সেবামূলক বিবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি। ইকোনোমিকেল ওপেন স্কাউট গ্রুপ এখন পর্যন্ত ২০টি টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। তাদের উল্লেখ্য যোগ্য অপর একটি কাজ হলো- ক্যান্সার আক্রান্স শিশুদের মানসিক সহায়তা প্রদান ও তাদের অভিভাবকদের কাউন্সিলিং। এ ছাড়াও নিয়মিত স্কাইট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুই ঈদে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীসেবা, বিশ্ব ইজতেমায় সেবাদান, হজ ক্যাম্পে সেবাদানসহ বিভিন্ন দিবস উদযাপন করে সংগঠনটি।
প্যারেন্ট এজিং ফাউন্ডেশন, ঢাকা
তরুণ বা যুবক থাকাকালে দেশকে যারা নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে গেছে, বর্তমানে বৃদ্ধি হয়ে যাওয়া সেই মানুষগুলোর অধিকার রক্ষায় ২০১৬ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্যারেন্ট এজিং ফাউন্ডেশন। জি এম আদলের নেতৃত্ব বর্তমানে ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এই সংগঠনটির মাধ্যমে অসহায় বৃদ্ধদের স্বাস্থ্য রক্ষা, বৃদ্ধাশ্রমে ভ্রমণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে বৃদ্ধদের শিক্ষাদানসহ বিবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জীবনের শেষ ভাগে এসে নিজ সমাজে সম্মান নিয়ে এসব বৃদ্ধদের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে প্যারেন্টস এজিং ফাউন্ডেশন। তাদের সংগঠনের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের বেশি বৃদ্ধকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। সংগঠনটির নতুন প্রজেক্ট হিসেবে ‘উদাহরণ-১’ এর কাজ শেষ হয়েছে। এখানে একজন বৃদ্ধের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে সংগঠনটি। বর্তমানে অপর একজন বৃদ্ধকে নিয়ে ‘উদাহরণ-২’ এর কাজ শুরু করা হয়েছে।
শালিণ্য, বরিশাল
নতুন প্রজন্মকে সংগঠিত করে সৃজনী ক্যাম্প, গণিত উৎসব বা বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৮ সালে পথ চলা শুরু করে শালিণ্য। বর্তমানে ১ হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে বরিশাল অঞ্চলে চারুকলা, বিতর্ক, স্কাউটিং, সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্যসহ আরো বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। শালিণ্য'র কার্যক্রমে এই এলাকার ১ হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি সুবিধা ভোগ করছে। ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২১টি জেনারেল কোর্স সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি। প্রতিটি জেনারেল কোর্সে সংযুক্ত ছিলেন ৫ জন ট্রেইনার ও ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী। সাধারণ সদস্যদের জন্য এই কোর্সগুলো ১ বছর মেয়াদী যা তিনভাগে বিভক্ত। প্রিপ্রেরিটরি ট্রেনিং কোর্স (৩মাস), প্রাক্টিক্যাল ট্রেনিং কোর্স , ফাইনাল ট্রেনিং কোর্স। সফলভাবে ট্রেনিং সম্পন্ন করার পর ১০টি সমাজসেবামূলক কাজ এবং আরো কিছু বিষয় দেখে এই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রদান করা হয় শালিণ্য শিশু শিক্ষার্থী অ্যাওয়ার্ড। এ ছাড়াও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদান করা হয় শালিণ্য একনিষ্ঠ কর্মী অ্যাওয়ার্ড।
শ্রম কল্যাণ পাবলিক পাঠাগার, নীলফামারী
সমাজ গঠনে নিজ ইউনিয়নে শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে ২০১০ সালে শ্রম কল্যাণ পাবলিক পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করে আর. এম তৌফিকুল ইসলাম (মিশুক)। বর্তমানে তার পাঠাগারের সদস্য সংখ্যা ২৫৬ জন। এরই মধ্যে সংগঠনটি তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৯০ ভাগ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে শিক্ষার হার বেড়েছে, কমেছে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার। নিজ ইউনিয়নকে বাংলাদেশের বুকে আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এই চলার পথে ২৩ জন জুয়া খেলোয়াড় আইন রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ। ১০৫টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে রিং স্ল্যাপ বিতরণ, ঈদে ৬০ হতদরিদ্র পরিবারের কাছে সেমাই-চিনি পৌঁছে দেয়া, শীতে ১০ পরিবারকে কম্বল প্রদান করেছে সংগঠনটি। শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতি বছর পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবক ফোরাম, খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়িতে নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবক ফোরামের প্রধান মোঃ. রানা হামিদ। ২০০৬ সাল থেকে শুরু হওয়া তার এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৫০ জন ঝরে পড়া শিশুকে আবারো স্কুলে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে তার সংগঠন স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবক ফোরাম। এর পাশাপাশি স্বাক্ষরতার জ্ঞান লাভ করেছেন ৮০ জন নিরক্ষর মানুষ। ৫০ জন দরিদ্র শিক্ষার্থী পেয়েছেন শিক্ষা উপকরণ। এর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ৫ হাজার বৃক্ষ রোপণ, ঈদে ৭০ জনের বেশি এতিম ও দুস্থদের বস্ত্র প্রদান, শীত বস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণ, নারীর প্রতি সহিংসতা হ্রাসে সেমিনার আয়োজন ও লিফলেট বিতরণসহ মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রতি বছর ৫০-৬০ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করে সংগঠনটি। এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৬০ জন।
ল্যাম্পপোস্ট, ঠাকুরগাঁও
সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার তাড়না থেকে ২০১৪ সালে ল্যাম্পপোস্ট সংগঠন নিয়ে যাত্রা শুরু করেন মোঃ. আব্দুল্লাহ আল মহিউদ্দিন। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলার সর্ববৃহৎ ফেসবুক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে এই সংগঠনটির মাধ্যমে ফেসবুকে যার সদস্য সংখ্যা ৩১ হাজার জনেরও বেশি। সংগঠনের অধীনে বর্তমানে ১০টির বেশি চলমান কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো সুবিধা বঞ্চিত ১১৩ শিশুর জন্য নৈশ শিক্ষা কার্যক্রম। বাৎসরিক কার্যক্রম হিসেবে সংগঠনটি জুন থেকে শুরু করে এক মাস পর্যন্ত বৃক্ষরোপণ করে। চলতি বছর পর্যন্ত স্থানীয় পৌর সভায় তারা ৪০০ কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগিয়ে 'মিশন লাল সবুজ-২০২৫' এর সূচনা করেছে। এ ছাড়াও বিনামূল্যে সংবাদপত্র পাঠের দুটি স্ট্যান্ড এবং একটি পল্লী পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে যেখানে প্রতিদিন ৪০ জন দৈনিক সংবাদ পত্র পড়েন এবং ল্যাম্পপোস্ট অপরাজিতার মাধ্যমে অনলাইনে আইনি সহায়তা প্রদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। সম্প্রতি আদিবাসীদের আইসিটি ট্রেনিং প্রদানের একটি কার্যক্রমও শুরু করতে যাচ্ছে ল্যাম্পপোস্ট।
কেআইএন (কিন, সিলেট
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন কেআইএন (কিন)। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্বে আছেন মোঃ. হোসেন আহমদ নিশান। সংগঠনটির ২৪ জন এক্সিকিউটিভ এবং ১ হাজার জনের বেশি সাধারণ সদস্য রয়েছে। সমাজের গরীব ও দুস্থদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। ২০০৪ সালে কিন স্কুল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিগত ১৩ বছরে ১৫০ জন শিশুকে শিক্ষা প্রদান করা হয়। কিন সংগঠনটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম রক্তদান কর্মসূচি। বছরে দুটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ডোনার বৃদ্ধি ও সিলেটের হাসপাতালগুলোর প্রয়োজন অনুসারে বিনামূল্যে রক্ত সরবরাহে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। প্রতি বছর স্থানীয়ভাবে ৩০০-৪০০ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করে এই সংগঠনটি। এর পাশাপাশি শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণ এবং সমাজ সচেতনতামূলক বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করে কিন।
ডি ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব (ডিইসি), চট্টগ্রাম
আইসিটি খাতে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে ডি ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব (ডিইসি)। ১০৮ সদস্যের এই সংগঠনটির নেতৃত্বে আছেন সোমেন কোনঙ্গো। চট্টগ্রামে সংগঠনটি এখন পর্যন্ত ১০০টির বেশি সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছে। প্রতিটি ওয়ার্কশপ ও সেমিনারে ৪০ জন করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। তরুণদের ক্যারিয়ার ডেভলোপমেন্ট নিয়েও কাজ করছে সংগঠনটি। ফেসবুক বেজড প্লাটফর্মের মাধ্যমে এনগেজমেন্ট তৈরি করে এ সকল ওয়ার্কশপ ও সেমিনারের অংশগ্রহণকারীদের সংগ্রহ করে ডিইসি।
লাইফ অফ নেচার, নওগাঁ
মানুষ ও তার সমাজকে রক্ষা করতে হলে পরিবেশ রক্ষাও আবশ্যক। আর সে কারণেই পরিবেশ রক্ষার ব্রোত নিয়ে গঠিত সংগঠনের নাম লাইফ অপ নেচার। ২০১১ সালে নিবেদিতা সরকার ও তার সমমনা কয়েকজন নারী মিলে এই সংগঠনটি চালু করেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত নওগাঁ ও এর আশপাশের এলাকা মিলিয়ে মোট ২০০টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি বিষয়ে সভার আয়োজন করে। ১৫ সদস্যের এই সংগঠনটি এখনো নিয়মিত এ সকল স্কুলগুলোতে ভ্রমণ করে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে ৯০ ভাগের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে সরাসরি তারা সংযুক্ত হতে পেরেছে। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও বাল্য বিবাহ রোধেও সচেতনতামূলক সভা ও সেমিনারের আয়োজন করে চলেছে সংগঠনটি।
অগ্রগামী-নট ডান, চট্টগ্রাম
২০১৪ সালে বিজয় দিবসে তানজিল রশিদের হাত ধরে চট্টগ্রামের বদ্দারহাটে আত্মপ্রকাশ ঘটে 'অগ্রগাহী'র। পজিটিভ বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তার সংগঠন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে নিজের সমবয়সী বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন সংগঠনটি। পকেট মানি ও স্কুল পর্যায়ে ক্যাম্পেইন চালিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন। কিন্তু সমাজের অসহায় মানুষকে সাহায্যের দৃঢ় ইচ্ছা থাকায় এখন পর্যন্ত ২২ হাজার মানুষকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরাসরি ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে অগ্রগাহী। ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে তারা। এ ছাড়াও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা প্রদান করেছে ১ হাজারের বেশি পরিবারকে।
শতাধিক কিশোর ও তরুণ সদস্য নিয়ে গঠিত সংগঠনটি এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের অধিক কিশোর ও তরুণদের কর্মক্ষম করে তুলতে পেরেছি। তারা বর্তমানে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
পূর্বাশার আলো, চট্টগ্রাম
পথশিশু ও এতিমদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করে পূর্বাশার আলো। ফয়সাল বিন কাশেমের নেতৃত্বে বর্তমানে ২৫০ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সংগঠনটিতে। এতিম ও পথশিশুদের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, পরামর্শ প্রদান ও মেধাবীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে সংগঠনটি। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা প্রদান করছে পূর্বাশার আলো। এ ছাড়াও নিয়মিত বিরতিতে সংগঠনটি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করছে। সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জন্য তিনটি বিভাগে মোট ১২ জন এই ক্যাম্প পরিচালনা করেন। বিভাগগুলো হল দাঁত, চোখ এবং সাধারণ মেডিসিন বিভাগ। এখন পর্যন্ত ৫০০টির বেশি পরিবার এই মেডিকেল ক্যাম্প থেকে সহায়তা পেয়েছে।
শেপরো ফাউন্ডেশন, ঢাকা (কুড়িগ্রাম)
শিক্ষা সুবিধা বঞ্চিত শিশুদেরকে শিক্ষিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে শেপরো ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি বর্তমানে ১২০টি পরিবারের শিশুদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান করছে। কুড়িগ্রামে যাত্রাপুরে খাসের চর এলাকায় সংগঠনটির স্কুল রয়েছে। চরের শিক্ষা বঞ্চিত শিশুরা স্কুলটিতে পড়ালেখা করছে।
তরুণ সংঘ, দিনাজপুর
দিনাজপুরে সামাজিক উন্নয়নকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালে তরুণ সংঘ গঠন করেন শাহরিয়ার মোহাম্মদ জালাল। এরপর স্থানীয়ভাবে পাঠাগার স্থাপন, অসহায় ও দুস্থদের সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহায়তা প্রদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। বর্তমানে যুব সংঘের সদস্য সংখ্যা ২০জন। সংগঠনটি ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সময়ের মধ্যে ৪টি টিকা দান কর্মসূচি পালনন করেছে। এছাড়াও স্থানীয় একজন কিডনি রোগীর সহায়তায় ইভেন্টের আয়োজন ও অর্থ সংগ্রহের কাজ করেছে যুব সংঘ। স্থানীয়ভাবে ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন, বই পড়াসহ ছোট ছোট বেশ কিছু প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নতুন প্রজন্মকে খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে তরুণ সংঘ। তাদের আশা, সকল সামাজিক সমস্যা কাটিয়ে একদিন বিশ্বের বুকে মাথা উচি করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।
হুইসেল বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম
পরিবর্তনে বিশ্বাস করে হুইসেল বাংলাদেশ। তারা পরিবর্তন করতে চায় মূল্যবোধ। আর সে কারণেই সংগঠনটি ‘বই টোকাই’ কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরাতন বই সংগ্রহ করে গড়ে তুলছে পাঠাগার। লক্ষ্য দেশের প্রতিটি জেলায় এমন একটি করে পাঠাগার স্থাপন। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির বর্তমানে কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৮৪ জন। কিন্তু এ ছাড়াও তারা হুইসেল ব্লাড লিংক প্রজেক্টের মাধ্যমে সংযুক্ত আরো ৫০ হাজারের বেশি তরুণের সঙ্গে। সংগঠনটির এই প্রজেক্টের অধীনে প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন স্থানে বিশেষত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং করে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে মানুষকে রক্ত অনুদানে অনুপ্রেরণা প্রদান করা হয়। বর্তমানে চট্টগ্রামের বাহিরেও সিলেট ও ঢাকার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চলছে সংগঠনটির কার্যক্রম।
জুমফুল থিয়েটার, রাঙ্গামাটি
রাঙ্গামাটিতে নতুন প্রজন্মের মাঝে সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটানোর ইচ্ছা থেকে ২০১৫ সালে জুমফুল থিয়েটার গঠন করেন নিরুপম চাকমা। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ২৫০ জন। প্রতি সপ্তাহে নাটক মঞ্চস্থ, গান ও নাচের আয়োজন করে এই সংগঠনটি। তাদের লক্ষ্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন নতুন সাংস্কৃতিক কর্মী সৃষ্টি। নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তরুণ ও যুবাদের মাদক ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। সংগঠনটির মঞ্চ নাটক বর্তমানে বেতারে নিয়মিত ভিত্তিতে প্রচারিত হচ্ছে। শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সাংস্কৃতিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করে সংগঠনটি।
থিয়েটার মুরারি চাঁদ, সিলেট
সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে বিশ্বাস করে থিয়েটার মুরারি চাঁদ। গোলাম মাহদীর নেতৃত্বে ২০১৩ সালে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে যার বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৭৫ জন। সংগঠনটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সিলেট কেসি কলেজের অডিটরিয়াম সংস্কার ও শহীদ মিনার সংস্কারে অবদান রেখেছে। এখনো সংগঠনটির প্রযোজনায় ১২টি পথ নাটকসহ ১৮টির বেশি নাটক সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মঞ্চস্থ হচ্ছে। সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
চৌপাশ নাট্যাঞ্চল, বগুড়া
শিল্পচর্চার মাধ্যমে সমাজে গণ সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে চৌপাশ নাট্যাঞ্চল। রাজা ফকিরের নেতৃত্বে বর্তমানে সংগঠনটির মূল কার্যক্রমে সংযুক্ত আছে ২৩ জন। পথ নাটকসহ বিভিন্ন স্থানে নাটক মঞ্চস্থ করে তারা জন সচেতনতা সৃষ্টি করে। গড়ে প্রতি মাসে একটি করে নাটক মঞ্চস্থ করে সংগঠনটি। এর মধ্যে তাদের পথ নাটক ৮টি এবং মঞ্চস্থ করার মত বড় নাটক ৬টি বগুড়াসহ আরো বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে তাদের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক পথ নাটক উইপোকা প্রদর্শন করা হয়েছে মোট ৯ বার। এ ছাড়াও সংগঠনটি বিশেষ দিবসগুলোতে নাটক মঞ্চস্থ করে। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস, নববর্ষ, জাতীয় শোক দিবস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম দিবসে নাটক মঞ্চস্থ করে সংগঠনটি।
রাঙ্গাটুঙ্গি ইউনাইটেড উইমেন ফুটবল একাডেমি, রংপুর
সুবিধাবঞ্চিত ও গ্রামে অবহেলিত মেয়েদের ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৪ সালে রাঙ্গাটুঙ্গি ইউনাইটেড উইমেন ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন হান্না হেমরম। ২৩ সদস্যের এই নারী ফুটবল ক্লাবটি নিবিড় প্রশিক্ষণ ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় দলে এই একাডেমি থেকে আদুরি খেলার সুযোগ লাভ করেছেন যা গ্রামের অন্য মেয়েদেরও এগিয়ে আসতে সাহস যোগাচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে এই অঞ্চলে বড় ভূমিকা পালন করছে ক্লাবটি।
মডেল লাইফ স্টোক এডভান্সমেন্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা
পশু-পাখি পালনের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ সম্ভব। এই পশুপাখি পালনের ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় বাঁধা তাদের অসুখ ও অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা। আর সে কারণেই নারী-পুরষকে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে মডেল লাইফ স্টোক এডভান্সমেন্ট ফাউন্ডেশন। ২০১৫ সালে এই সংগঠনটি চালু করেন ডা. সালমা সুলতান। এরপর থেকে পশু-পাখি পালন, রোগ নিরাময়ে চিকিৎসা, রোগ সনাক্তকরণসহ এমন বিভিন্ন বিষয়ে ১ বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান করে চলেছে মডেল লাইফ স্টোক এডভান্সমেন্ট ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটি আশা করে, তাদের এই কার্যক্রম দরিদ্রতা ও বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সহায়তা ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে সংগঠনটির মোট সদস্য ৩৭৫ জন।
জাগরণ ক্লাব, সাতক্ষীরা
সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি লক্ষ্য ২০১২ সালে সাতক্ষীরা কার্যক্রম শুরু করে জাগরণ ক্লাব। বিগত বছরগুলোতে এই ক্লাবের উদ্যোগে ৫০টির বেশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করে শিক্ষার্থীদের নিজ স্কুলে ফেরত যাওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রক্তদান কর্মসূচী, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করে সংগঠনটি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন প্রজন্মকে সংযুক্ত করতেও কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
সাপোর্টিং পিউপাল অ্যান্ড রিবিল্ডিং কমিউনিটিস (এসপিএআরসি), রাঙ্গামাটি
নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে সাপোর্টিং পিউপাল অ্যান্ড রিবিল্ডিং কমিউনিটিস (এসপিএআরসি)। বর্তমানে ৫০ জন সদস্য সংগঠনটির। নারী ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার, শিশু অধিকারসহ আরো বেশ কিছু বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
ওয়াকর্স ফর হিউম্যানিটি, ঢাকা
সকলের শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে 'ওয়াকর্স ফর হিউম্যানিটি'। শিক্ষা সহায়তার অংশ হিসেবে অবহেলিত বা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করে সংগঠনটি। এর পাশাপাশি প্রান্তিক অঞ্চলের প্রতিবন্ধী ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে গল্পের বই পৌছে দিতে সংগঠনটির আছে বই বাড়ি লাইব্রেরি। এ ছাড়াও বিনামূল্যে রক্ত সংগ্রহ ও সরবারাহের কাজ করে সংগঠনটি।
হুইল চেয়ার ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডব্লিউসিডব্লিউএবি)
গাজীপুর
পঙ্গু হওয়া বা পঙ্গুত্ব নিয়ে জন্মানো কিশোর-তরুণ-যুবাদের জন্য ২০১৫ সালে হুইল চেয়ার ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডব্লিউসিডব্লিউএবি)-এর কার্যক্রম শুরু করে মো. মহসিন। বর্তমানে এই সংগঠনটির সদস্য ১৫০ জন। এই স্বেচ্ছাসেবকেরা জেলা পর্যায়ে গিয়ে বিভীন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। সেখানে ক্রীড়া উপকরণ ও টেকনিক্যাল সহায়থা প্রদান করা হয় এবং পঙ্গুদের মধ্যে ক্রিকেটে পারদর্শী খেলোয়াড়দের বাছাই করে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মানব কল্যাণকামী অনাথালয়, নেত্রকোনা
সমাজে পিছিয়ে পড়া সকল শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করে মানব কল্যাণকামী অনাথালয়। বর্তমানে এই সংগঠনটির মোট সদস্য ১২৫ জন। বিগত ২০ বছর যাবৎ অনাথ ও এতিম শিশুদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। বর্তমানে সংগঠনটির ছায়ার বড় হয়ে উঠছে ১১২ জন অনাথ শিশু। তাদের শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সংগঠনটির মাধ্যমে।
উত্তরণ বাংলাদেশ, মৌলভিবাজার
চা বাগানের সঙ্গে জড়িত পিছিয়ে পড়া মৌলভিবাজারের বিশেষ একটি জনগোষ্ঠীর উন্নয়ণকল্পে ২০১৩ সালে উত্তরণের কার্যক্রম শুরু করেন অনুময় বর্মা। এই অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখপড়ার মানোন্নয়ন ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে 'ইন্টার টি গার্ডেন অলিম্পিয়াড' আয়োজন করে সংগঠনটি। সেই সঙ্গে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি, শিক্ষা পরামর্শ প্রদান ও বাল্য বিবাহ রোধে কাজ করে উত্তরণ। সংগঠনটির কার্যক্রমের মাধ্যমে এরই মধ্যে উক্ত অঞ্চলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়েছে। জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে ভালো ফলাফল করছে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে মৌলভীবাজারের এই পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সুযোগ পেয়েছে।
শিশু বিকাশ, নওগাঁ
সেচ্ছাসেবামূলক শিশু সংগঠন হিসেবে ২০১০ সালে ২০ জনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে শিশু বিকাশ। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ২০০ জন। সংগঠনটি তার সদস্যদের অর্থায়নে ২০১১ সালে ৪২ শিশুকে অক্ষরজ্ঞান দান এবং ১২ জন শিশুকে স্কুলে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়। এই ১২ জনের মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে প্রতি মাসে শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করে সংগঠনের সদস্যরা। এই উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে 'প্রজেক্ট খাতা-কল' যার মাধ্যমে অনুপ্রেরণা পেয়ে নিজ সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহীত হয়েছে অভিভাবকগণ।
মানব কল্যাণ ইউনিট, খুলনা
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে যেই ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এক ইচ্ছা থেকে ২০০৮ সালে মানব কল্যাণ ইউনিট গঠন করেন মো. আল আমিন ফরহাদ। সংগঠনটির উদ্যোগে ২ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় কৃত্রিম সুন্দরবন সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন পর্যণ্ত ৪০০ এতিম শিক্ষার্থীকে অর্থ ও শিক্ষা উপকরণ সহায়তা করে আসছে সংগঠনটি। এ ছাড়াও ৪ জন প্রতিবন্ধীদের সর্বিক ব্যয়ভার বহন করছে সংহঠনটি। অত্র অঞ্চলে রোগীদের রক্তের চাহিদা পূরণে ৭১২ জনের একটি ডোনার টিম রয়েছে সংগঠনটির। এই সংখ্যা আরো বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনের সদস্যরা।
ইত্তেফাক/আনিসুর