মনপুরায় জলবায়ুজনিত বিপদাপন্নতা হ্রাসে বাংলাদেশের উপকুলে বনায়ন ও পুনঃবনায়ন কমিউনিটি ভিত্তিক অভিযোজন শীর্ষক একটি প্রকল্পের কার্যক্রম উদ্ভোধন করা হয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি)র যৌথ উদ্যোগে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি(জিইএফ)এর সহযোগীতায় এ প্রকল্পের মেয়াদ চার বছর।
বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত ও পরামর্শের জন্য এই কার্যক্রম আয়োজন করা হয়।
উদ্ধাধনী সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহাগ হাওলাদারের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্ভোধনী অধিবেশনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প ব্যাবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনপুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিসেস শেলিনা আকতার চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান, মনপুরা ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন।
অনুষ্ঠানে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন আহম্মদ, ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাকির হোসেন, ৪নং দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিযন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অলিউল্যাহ কাজল, ইউএনডিপির আইসিবিএ-এআর প্রকল্পের কমিউনিকেশন অফিসার কবীর হোসেন, জেলা পর্যায়ে কর্মরত কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েট মোঃশফিকুল ইসলাম, মনপুরা উপজেলা ইউএনডিপি বাংলাদেশ সিডিএ মোঃ কামরুজ্জামান কিরন বক্তব্য রাখেন।
উপকূলীয় প্রেক্ষাপটে ম্যানগ্রোভ বনায়নকে জলবায়ুর বিপদপন্নতা রোধ ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব থেকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জান-মাল রক্ষার মোক্ষম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ১৯৬০ সাল থেকে পাঁচ দশকে প্রায় ২০০,০০০ হেক্টর উপকূলীয় জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করছে।
উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনীর প্রতিবন্ধকতাসমূহ জীবিকার বৈচিত্রায়নের সীমাবদ্ধতা, উপকূলের বনায়নে বৃক্ষ প্রজাতির বৈচিত্র্যায়নে সীমাবদ্ধতা, সংশ্লিষ্টদের মাঝে দুর্বলসমন্বয়, সবুজ বেষ্টনী ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের সীমিত অংশগ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেসীমিত অর্থায়ন ইত্যাদি দূরীকরণ ও উপকূলবাসীর বিপদাপন্নতা প্রশমনে জাতিসংঘ উন্নয়নকর্মসূচি (ইউএনডিপি) ২০০৯ সাল থেকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত’ উপকূলীয় বনায়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের স্থানীয় ভিত্তিক অভিযোজন (সিবিএসিসিএফ) নামে গৃহীত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলের ৯ হাজার হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়েছে ও ২০,০০০ অতিদরিদ্র পরিবারে জীবিকায়নের বৈচিত্র্যতা আনায়ন করা হয়েছে।
এ পর্যায় ৬০ হাজার অতিদরিদ্র উপকূলবাসীর জলবায়ু সহনশীল বৈচিত্র্যময় জীবিকায়ন সহায়তা প্রদান ও ৬৫০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বনায়নের জন্য বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বনায়ন ও পূন:বনায়নে অভিযোজন কর্মসূচি (আইসিবিএ-এআর) প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে ।
প্রকল্পটি ভোলার মনপুরা, চরফ্যাশন ও তজুমদ্দিন উপজেলাসহ নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুর জেলার ৯টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে।
পরিবেশ ও বনমন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্তাবধানে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের ৭টি বিভাগ,মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর বাংলাদেশ বনবিভাগ, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, ভূমি মন্ত্রণালয়, কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগ, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানিউন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এ সময় সকল দপ্তরের দাপ্তরিক প্রধানগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউপি সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু