ঢাকা মেডিক্যালের ফটকে অটোরিকশায় কিশোরীর লাশ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালের বাগান গেটে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরীর (১৫) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালক ফুলসুর মিয়াকে আটক করা হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বাগানগেটে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে সেটি উদ্ধার করে। শুক্রবার পর্যন্ত তার পরিচয় জানা যায়নি। লাশ পড়ে আছে হাসপাতাল মর্গে। শনিবার ময়নাতদন্ত হবে বলে মর্গ সূত্র জানিয়েছে।
 
এ দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, হাসপাতালের বাগানগেটে রূপালি রঙের একটি প্রাইভেট অটোরিকশার মধ্যে (ঢাকা মেট্রো দ ১১-০৬৯১) লাশটি ছিল। 
 
চালকের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, মিরপুর-১২ বাস স্টেশন থেকে নারী-পুরুষসহ মোট তিনজন চাদর দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় এই কিশোরীকে নিয়ে অটোরিকশায় (১৫)  উঠেন। তখন তারা জানায়, কিশোরী খুবই অসুস্থ, তাই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চালক তাদের কথামতো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন এবং হাসপাতালের বাগানগেটে ভিতরে সিএনজিটি রাখেন। তখন ওই তিন যাত্রী চিকিৎসক ডেকে আনার কথা বলে সিএনজিতে কিশোরীকে রেখে ভিতরে চলে যান। এরপর তারা আর ফিরে আসেননি। চালক কিশোরীর লাশ নিয়ে সেখানেই দাঁড়িয়েছিলেন। 
 
বাচ্চু মিয়া বলেন, ওই কিশোরীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নাক দিয়ে রক্তও ঝরছিল।তার পরনে ছিল রঙিন সালোয়ার কামিজ। তাকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে বলে লাশ দেখে মনে হয়েছে।
 
পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অটোরিকশার চালককে আটক করা হয়েছে। শাহবাগ থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান এসআই বাচ্চু। তবে এ ব্যাপারে শাহবাগ থানায় ফোনে যোগাযোগ করা হলে ডিউটি অফিসার বা থানার ওসিসহ অন্য কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ডিউটি অফিসারের টেলিফোন রিসিভ করেন অন্য একজন। তিনি পরিচয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ডিউটি অফিসার বিশ্রামে আছেন। পরে যোগাযোগ করেন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই