আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিচার বিলম্বিত করতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতের সমালোচনা করছেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের ইয়ুথ ক্লাব মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন আদালত তাকে হেনস্থা করেছে। কিন্তু শুধু আমি কেন, সবাই বলবে উনি (খালেদা জিয়া) বারবার আদালতে অনুপস্থিত থেকে, আদালতের কাছ থেকে একের পর এক সময় নিয়ে আদালতকে হেনস্থা করেছেন। বিচারিক কার্যক্রমকে বিলম্বিত করতেই এটা করা হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া ১৫০ বারেরও বেশি সময় নেওয়ার পাশাপাশি ৮ মাস মামলার বিচারকে বিলম্বিত করেছেন। এ দলের লোকরা আদালতে গিয়েও আদালতের প্রতি অনাস্থা দেখায়। তারা আদালতের মধ্যে হাতাহাতি করে।
পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস প্রাঙ্গণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ ঘটনা আইনের প্রতি দলটির শ্রদ্ধার অভাব হিসেবে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপির আইনজীবীদের হাতাহাতি প্রমাণ করে আইনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নেই। তারা ক্ষমতায় গেলে কী অবস্থা হবে সেটা সবাই বুঝতে পারছে। দেশের অনেক সংবাদ মাধ্যম আওয়ামী লীগের প্রতি সুবিচার করছে না অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে নেতাকর্মীরা সংবর্ধনা জানিয়েছেন। সংবর্ধনায় আমাদের কোনো নেতাকর্মী কি রাস্তায় এসেছেন? বিএনপির যে পরিমাণ নেতাকর্মী খালেদাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিল, তার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনায় অনেক বেশি মানুষ উপস্থিত ছিল। তারপরও কেউ রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান তুলে আমাদের নির্দেশ অমান্য করেননি। অথচ ওইদিন বিএনপির নেতাকর্মীরা অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, রাস্তা দখল করে মিছিল করেছে, বিশৃঙ্খলা করেছে। এরা ক্ষমতা পেলে কী করবে- এটা দেশের জনগণ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের দেশে ফেরা নিয়ে বুধবার বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় যে জনদুর্ভোগ হয়েছে, সাংবাদিকরা তা যথাযথভাবে তুলে ধরেননি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকে যদি এটা আওয়ামী লীগের হতো, তাহলে বলত রাস্তায় সীমাহীন জনদুর্ভোগ; আওয়ামী লীগের বেলায় এ ধরনের রিপোর্ট করা হয়, আর বিএনপির বেলায় দেখলাম সেটা তারা ভুলে গেছেন। কারো কারো বেলায় জনদুর্ভোগকেও তারা গ্রাহ্য করেন না, আওয়ামী লীগ হলে বলেন, লীগ দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বেলায় পান থেকে চুন খসলে বিশাল সংবাদ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। আমি সংবাদিকতা করেছি, আমি কখনো মিডিয়াকে আক্রমণ করে কথা বলি না; শুধু বলব সুবিচার করবেন। আমাদের প্রশংসা লিখবেন, সমালোচনা করবেন- গঠনমূলক সমালোচনা, শুদ্ধ করে। পক্ষপাতিত্ব করা বোধহয় সঠিক নয়।
আওয়ামী লীগ জনদুর্ভোগ তৈরি করেনি দাবি করে গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা অনুরোধ করব যা সত্য তা বলুন, আমাদের বিরুদ্ধের বিষয় বলুন, আমরা স্বাগত জানাই। জনদুর্ভোগ আমরা করিনি, সে কথার কেউ প্রশংসা করেননি। কিন্তু পরশুদিন জনদুর্ভোগ হলেও সেটা অনেকেই চেপে গেছেন। এটাতো সুবিচার নয়, এটাতো বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতা নয়। এতে আমার একটু কষ্ট লাগল, সেজন্য বলেছি।
নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া আওয়ামী লীগের প্রস্তাবে সেনাবাহিনী মোতায়নের বিরোধিতা ছিল না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসারের। এসব বাহিনী স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। কিন্তু সেনাবাহিনীর কাজ বহি:শত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। যেখানে প্রয়োজন হবে, ইসি আইন অনুযায়ী সেখানে সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে পারে। আমরা কখনোই বলিনি আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বিএনপি দলীয় স্বার্থে ইসির কাছে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রস্তাবগুলো নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করার স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনী এলাকায় যাদের জনপ্রিয়তা আছে শুধু তাদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। যারা ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন তাদের সম্পর্কেও খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। এসময় নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নারী এবং নতুন ভোটারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লা এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ইত্তেফাক/আনিসুর