বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দুই দিনের লাগাতার বর্ষণ আর অমাবস্যার তিথির অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে শত শত মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। বিঘ্ন ঘটেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও চলাচল ব্যবস্থা।
বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবারে চলামান লাগাতার বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দোকান পাঠ বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি কম, সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের কাজ কর্ম বন্ধ হওয়ায় উপক্রম হয়েছে। দিনে রাতে দুবার জোয়ারের পানিতে ডুবে যায় পৌরসভার রাস্তা-ঘাট। পৌরসভার বারইখালী, সরালিয়াসহ উপজেলা বিভিন্ন গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এসব পরিবার পানিবন্দী হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও পৌরসভার হাজারো ঘেরের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। অত্র উপজেলায় বাগদা চিড়িংর ঘের রয়েছে ৮ হাজার ৭৫০টি ও গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে ১১৭০টি। ঘের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, এভাবে লাগার বৃষ্টি ও জোয়ার থাকলে অধিকাংশ মত্স্য ঘের ডুবে যাবে। অনেক পরিবারের বাড়ির পুকুর পানিতে ডুবে গিয়ে মাছ ভেসে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অনুপম রায় জানান, কোনো ফসলের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জোয়ার ভাটার এলাকায় ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা হবে না।
উপজেলা সিনিয়র সহকারী মত্স্য অফিসার ইয়াকিন আলী জানান, কোনো অভিযোগ তাদের কাছে নেই। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ভূক্তভোগীরা ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ করতে এসে সংশ্লিষ্ট অনেক অফিসারকে পায়নি বলে অভিযোগ করেন। তবে ছুটির ফাঁদে পড়ায় তাদেরকে পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
ইত্তেফাক/এএম।