টানা ৩দিনের ভারী বর্ষণে বন্ধ হয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ৪ শতাধিক চাতালকল। ব্যাহত হচ্ছে চাল উৎপাদন। অন্যদিকে চাতাল বন্ধের কারণে আর্থিক দৈন্যদশায় পড়েছেন ‘কাজ নাই মজুরি নেই’ চুক্তিতে কর্মরত প্রায় ৩০' হাজার শ্রমিক। এ অবস্থায় বাজারে চালের দাম বাড়তে পারে বলে মনে করেছেন অনেকে।
জানা যায়, আশুগঞ্জ উপজেলায় ছোট-বড় ৪শতাধিক চাতালকল রয়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই চাল উৎপাদন কেন্দ্রে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার টন চাল সরবরাহ করা হয়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই চাল সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। ফলে চালের বাজার মূল্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গত ৩দিনের টানা বৃষ্টির কারণে আশুগঞ্জ উপজেলার ৪শতাধিক চাতালকলে সিদ্ধ ও ভিজিয়ে রাখা প্রায় এক লাখ টন ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে চাল উৎপাদন। বর্তমানে ধান চাতালগুলোতে মাঠে ঢেকে এবং হাউজে ভিজিয়ে রাখার কারণে নষ্ট হচ্ছে। কোন চাতালে ধান পচে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ধান শুকিয়ে চাল উৎপাদন করলে মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চালে ভিন্ন রঙ ও দুর্গদ্ধ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তখন এসব চাল বিক্রি করতে হয় অর্ধেক দামে। এতে চাতাল মালিকদের কোটি কোটি টাকা লোকসান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে চালের বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।
উপজেলা চাতালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাজাহান সিরাজ জানান, এবছর চাতালকল মালিকদের দুর্যোগের বছর। ধান সংকটের কারণে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে শতাধিক চাতালকল।
এই সংকটের মুহুর্তে ১২-১৩শ টাকা দরে বাজার থেকে ধান কিনে এখন টানা বৃষ্টির কারণে তা নষ্ট হচ্ছে। এই ভারী বর্ষণ চাতাল মালিকদের ওপর “মরার উপর খরার গা” এর মতো। এমনিতে আশুগঞ্জ মোকামে ধানের আমদানি কম, দাম আকাশ ছোঁয়ার কারণে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত। তদুপরি বিরূপ আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চালের ব্যবসায় ধস নামবে।
এদিকে এসব চাতালে কর্মরত আছেন প্রায় ৩০হাজার শ্রমিক। যাদের নেই নির্দিষ্ট কোন মজুরি। তাদের মজুরি নির্ধারিত হয় একটি ধান শুকানোর মাঠ উঠার ভিত্তিতে। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় একটি মাঠ উঠতে সময় লাগে ২/৩ দিন। কিন্ত বর্তমানে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ধান শুকাতে না পারায় মাঠ উঠনো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চাতাল শ্রমিকরা কোন মজুরি পাচ্ছেন না। ধার-দেনা করে কোন রকমে দিনাতিপাত করছেন তারা।
ইত্তেফাক/আরকেজি