যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট থাকার কারণে স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনও বন্ধ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ডাক্তারদের অবহেলা, উদাসীনতার কারণে কেশবপুরের মানুষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিমুখ হওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাক্তাররা বিশেষ করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের জন্য আসা কোন রোগীকে অপারেশন বা চিকিৎসা সেবা না দিয়ে অধিক পরীক্ষা নিরীক্ষার অজুহাতে শহরে তাদের নিজস্ব চেম্বারে নিয়ে যান। পয়সা পান না বলে ডাক্তাররা মূলত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন অপারেশন করেন না বলে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ।
যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্যবর্তী স্থান হওয়ায় কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্ব অপরিসীম। পশ্চিমে কলারোয়া, দক্ষিণে ডুমুরিয়া ও তালা, উত্তরে মনিরামপুর উপজেলার অবস্থান সন্নিকটে হওয়ায় এ ৪ টি উপজেলার অধিকাংশ দরিদ্র শ্রেণির মানুষের চিকিৎসা ও অপারেশনের জন্য কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগমন ঘটে। কিন্তু সেখানে ভাল চিকিৎসা সেবা ও অপারেশন না হওয়ায় তারা কম খরচে শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন ও অপারেশন করিয়ে থাকেন।
উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুল গণি গাজীর স্ত্রী শিউলী বেগম, ভাণ্ডারখোলা গ্রামের মৃত পীর আলীর মেয়ে সাজেদা খাতুন, মধ্যকুল গ্রামের সুশান্ত সরকারের স্ত্রী পূর্ণিমা সরকার জানান, তাদের প্রসব বেদনা শুরু হলে গত ১৫ অক্টোবর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কোন ডাক্তার তাদেরকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের শহরের মডার্ন, কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকে নিয়ে সিজারিয়ান করা হয়। গত ১৯ অক্টোবর ভালুকঘর গ্রামের মাহাবুবুর রহমানের স্ত্রী পারভীনা খাতুন ও ফতেপুর গ্রামের মফিদুল ইসলামের স্ত্রী ফতেমা খাতুন এরা দুজনই অন্তঃসত্ত্বা। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হন। এছাড়া বাউশলা গ্রামের জোহর সরদারের ছেলে জসিম উদ্দিন এলার্জি জনিত রোগের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি কমিশন বাণিজ্যের আশায় তার রক্তের পরীক্ষা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধি এবং ঔষধের দোকানগুলি থেকে অবাক হবার মত তথ্য পাওয়া গেছে। ৭১টি ঔষধ কোম্পানির প্রতি মাসে কেশবপুর শহরের ঔষধের দোকানগুলিতে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা থাকে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং তা পূরণ হয় প্রতিমাসে। বিক্রয় প্রতিনিধিদের তথ্যে আরও জানা যায় অনেক মাসে চাহিদা মাফিক ঔষধ তারা সরবরাহ করতে পারেন না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসালটেন্টসহ ৩২ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নসহ আছে ১২ জন। জনবল সংকট এবং সার্জন না থাকায় অপারেশন করা হয় না। কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন বন্ধ রয়েছে। তবে দুই এক দিনের মধ্যে ৩ জন চিকিৎসক যোগদান করবেন। তখন হয়ত অপারেশন করা হবে।
কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ এম আমীর হোসেন জানান, জনবল সঙ্কটের কারণে কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবা একেবারে ভঙ্গুর। ২০০০ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর মনে হয়েছিল এখানকার মানুষ ভাল স্বাস্থ্য সেবা পাবেন কিন্তু এখানে কোন কনসালটেন্ট, সার্জনকে নিয়োগ না দেয়ায় মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ইত্তেফাক/জামান