কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ভিন্নধর্মী প্লাটফর্মের গল্প

 

বিশ্ববিদ্যালয় নিজেকে উপস্থাপনের জায়গা। একাডেমিক ক্লাস, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন তৈরি ও উপস্থাপন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নিয়মিত অনুষঙ্গ। কিন্তু নিজের সবগুলো কাজ নিজে করতে পারে না অনেকেই। বন্ধু বা বড়ো ভাইদের উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। আবির ভালো প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারে, জানে না কীভাবে উপস্থাপন করতে হয়। রনি ভালো বাঁশি বাজাতে জানে কিন্তু জানে না নিজের প্রেজেন্টেশনটা কীভাবে তৈরি করবে। আবার রাফি কম্পিউটার ব্যবহারে বেশ দক্ষ, জানে খুঁটিনাটি সবকিছু। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি হবে নতুন নতুন জ্ঞান।

শিক্ষাজীবন শেষে কেউ করবে মাল্টিন্যাশনাল বা গ্লোবাল করপোরেশনের জব আবার কেউ হতে চাইবে করপোরেট টাইকুন। এজন্য একাডেমিক পড়াশোনা ছাড়াও ভালো দখল থাকতে হবে কম্পিউটার এপ্লিকেশনে। থাকতে হবে মানসম্পন্ন জীবনবৃত্তান্ত। অনেকেই জানে না জীবনবৃত্তান্ত কীভাবে আকর্ষণীয় করা যায়। এ ভাবনা থেকেই নিজের জানা বিষয়গুলো ক্যাম্পাসের সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং অন্যের জানা বিষয় নিজে আয়ত্ত করতে ‘শিখবো, শেখাবো’ স্লোগানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার বিষয়ক সংগঠন ইনসাইট-এর উদ্যোগে যাত্রা শুরু করেছে ভিন্নধর্মী প্লাটফর্ম প্রজেক্ট ইশকুল। নিজেদের দক্ষতাগুলো একে অপরের মাঝে বিনিময়ের মাধ্যমে জ্ঞানকে উন্মুক্ত করাই প্রজেক্ট ইশকুলের মূল লক্ষ্য।

জ্ঞান বিনিময়ের এ আন্দোলন পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দিতে ১৯টি বিভাগ থেকে অনলাইন ভাইভার মাধ্যমে বাছাই করা হয় ডিপার্টমেন্ট অ্যাম্বাসেডর এবং তাদের মাধ্যমে আগ্রহের ভিত্তিতে নেওয়া হয় শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসের আগ্রহী যে কেউ শিখতে বা শেখাতে পারে। আর কোর্সগুলো শিখতেও রাখা হয়েছে নামমাত্র ফি, ৫২ টাকা। এভাবে প্রাপ্ত অর্থের একটা নির্দিষ্ট অংশ ব্যয় করা হবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য।

সম্প্রতি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে প্রজেক্ট ইশকুল। যার পয়লা ক্লাসে মাস্টারমশাই হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী।