জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

৪৪ ব্যাচের ৪ বছর

 

এইতো সেদিন ক্যাম্পাসে এসেছিলাম। দিনটি ছিল ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ শনিবার। সেদিন শুরু হয়েছিল নতুন জীবনের এক বর্ণিল গল্প।             নতুন বন্ধুত্ব, নতুন কিছু মানুষ, নতুন কিছু পাওয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের মাঝেই কখন জানি শেষ হয়ে গেল ৪টি বছর। এই সময়ে এক স্বপ্নের সারথি মিশুকে কেড়ে নিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। আর ৪৪ পরিবারের বাকিদের নিয়ে সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনার মাঝেই শেষ হওয়ার পথে স্নাতক জীবন।

এইতো ৪৮ ব্যাচের মতো আমরাও এ ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার জন্য মুখোমুখি হয়েছিলাম এক ভর্তিযুদ্ধে। অসীম প্রচেষ্টা আর তীব্র আকাঙ্ক্ষার ফলে সেই যুদ্ধে জয়লাভ। তারপর ভর্তি হওয়া ৪৪তম ব্যাচ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমাদের এ ক্যাম্পাসে আগমন ঘটার আগে একে একে এ ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিয়েছে ৩৯টি ব্যাচ। আমরা নবীন হয়ে এসেছিলাম এ ক্যাম্পাসে। মনের মধ্যে ভীষণ ভালোলাগা আর অসীম ভয় নিয়ে পা রেখেছিলাম সংস্কৃতির এ রাজধানীতে। পুরোনো বন্ধুদের ছেড়ে এসে মনটা ছিলো ভীষণরকম খারাপ। ঠিক তখন এমন কিছু বন্ধু তৈরি হয়ে গেল, যাদের স্মৃতি মনের মণিকোঠায় গেঁথে থাকবে আজীবন। তাদের সাথে কাটানো কিছু মুহূর্ত- ‘এ যেমন ক্লাস শেষে শহীদ মিনারে আড্ডা দেওয়া, দল বেঁধে ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করা। হাঁটতে হাঁটতে গলা খুলে গান গাওয়া, বন্ধুরা সবাই এক জায়গায় বসে চা খাওয়া, টাকা তুলে বিল দেওয়া, চাঁদা তুলে বন্ধুদের জন্মদিনের পার্টিগুলো পালন করা।’ এসব যেন রক্তের সাথে মিশে গেছে। তাইতো চারটি বছর চোখের নিমিষেই কেমন করে যেন পার হয়ে গেল।

এত সব স্মৃতিকে মনের গহিনে আরো বেশি ধরে রাখতে ৪র্থ বর্ষপূর্তি উদযাপনের আয়োজন করে ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। জমকালো এই আয়োজনের শুরুতে প্রধান আকর্ষণ ছিল ৪৪ পয়েন্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে হাতির আকৃতি দিয়ে এই পয়েন্ট তৈরি করা হয়। এখানে আড্ডা-গান আর ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে সবসময়। এছাড়া ৪র্থ বর্ষপূর্তি উদযাপনে ২৯ মার্চ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান পুরো ক্যাম্পাসকে মাতিয়ে রাখে। ‘শত ভিড়ে খুঁজে নিস, জাহাঙ্গীরনগর চুয়াল্লিশ’ এই শ্লোগানে সেদিন সবুজের রাজধানী কালো আর হলুদ মিশ্রিত টি-শার্টে সেজেছিল। চারদিকে উল্লাস আর চুয়াল্লিশের জয়ধ্বনি।

বসন্তের কুয়াশা কেটে যখন সূর্যের আলো উদিত হলো তখন থেকে ব্যাচটির শিক্ষার্থীরা জমায়েত হতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দ্বীন মুক্তমঞ্চে। সেখানে ঢোল, তবলার সুরে উল্লাস আর রঙ মাখামাখিতে মেতে উঠে সবাই। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান কেক কেটে ৪র্থ বর্ষপূর্তির উদ্বোধন করেন। কেক কাটা শেষে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালী বের করা হয়। র্যালীটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পদক্ষিণ শেষে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। পরে চিরকালের জন্য হারিয়ে যাওয়া বন্ধু মিশুর স্মরণে মিশু চত্বরে বৃক্ষ রোপণ ও মাগফেরাত কামনায় কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল করা হয়।