রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের বারমাইল সেখেরপাড়া গ্রাম থেকে লাশ দুইটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ বলছে, স্বামী-স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মৃতরা হলেন- ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সামিউল ইসলাম সনি (২৫) ও তার স্ত্রী জিন্নাতুন নেসা নিপা (২১)। সামিউল ইসলাম সনি উপজেলার প্রেমতলী বাজারে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করতেন। আগের দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর ১০ মাস আগে উপজেলার ফরাদপুর স্কুল পাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে জিন্নাতুন নেসা নিপাকে বিয়ে করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সামিউল ইসলাম সনি জিন্নাতুন নেসা নিপার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ে করেন। সামিউল ইসলাম সনি মাদকাশক্ত ছিলেন। আর এই কারণে আগের দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়।
প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের প্রথমে মেনে না নিলেও ছয় মাস আগে জিন্নাতুন নেসা নিপাকে ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিয়ে বাড়িতে তুলে সামিউল ইসলাম সনির বাবা মা। এরপর থেকেই সামিউল ইসলাম সনি স্ত্রী নিপাকে নিয়ে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাগ করে জিন্নাতুন নেসা নিপা তার পিতার বাড়িতে চলে যায়। পরে আবার স্বামীর বাড়িতে আসে জিন্নাতুন নেসা নিপা। রবিবার দুপুর ২টার দিকে সনির খালা তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখেন সনির বাবা মা নেই। সনির ঘরে ঢুকে দেখেন তাদের স্বামী-স্ত্রীর লাশ। এ সময় এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে।
এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি জানান, নিপার লাশ ঘরের মেঝেতে পড়েছিল। আর নিপার ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় সনির লাশ ঝুলছিল ঘরের তীরের সাথে। নিপার গলাতেও ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে নিপা প্রথমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে এবং পরে সনি স্ত্রীর লাশ নামিয়ে নিজে আত্মহত্যা করে। তবে আত্মহত্যার কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে সামিউল ইসলাম সনির বাবা-মা পলাতক রয়েছেন। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এমআই