নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংকটের জন্য দায়ী দেশটির ক্ষমতাসীন নেত্রী অং সান সু চি। সমপ্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ‘আপ ফ্রন্ট’ অনুষ্ঠানে একান্ত সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, সু চি সেনাবাহিনীর উপর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি। উল্টো সেনা নিপীড়নকে বৈধতা দিয়েছেন। তার পদত্যাগ করা উচিত। তিনি শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন। সারা বিশ্ব এতোদিন তাকে সম্মান জানিয়ে এসেছে। অথচ সু চি নিজ দেশের মানুষদের গণহত্যায় নিজের নাম জড়াচ্ছেন।
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নে ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গারা সেখানে (মিয়ানমারে) জন্মগ্রহণ করেছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেখানে অবস্থান করছে। দেশ যখন স্বাধীন হয়েছে, তখন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই দেশটির নাগরিক হয়ে গেছে। তারা সেখানে রাজনীতিতে অংশ নিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায়ও স্থান পেয়েছে। কিন্তু হঠাত্ করে ১৯৮২ সালে মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা বলল, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়।
সু চিকে কতোটুকু দোষ দেওয়া যায় এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউনূস বলেন, আমি তাকেই (সু চি) শতভাগ দায়ী করব। কারণ তিনিই তো নেত্রী। তিনি বলতে পারেন, সেনাবাহিনী তাকে চাপে রেখেছে, তাহলে তো তার পদত্যাগ করা উচিত। কারণ তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না।
সু চিকে সেনাবাহিনীর মদদদাতা আখ্যা দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, তিনি সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। বলেছেন, রোহিঙ্গারা পালিয়ে যাওয়ার কারণ তিনি জানেন না। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যাকে অস্বীকার করছেন, নির্যাতনের অভিযোগকে তিনি মিথ্যা বলছেন। তিনি সব দায় নিজের ঘাড়ে নিয়েছেন। তাই শুধু সেনাবাহিনীর দোষ নয়, সু চি’ও দায়ী। তাকেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।
ড. ইউনূস বলেন, দ্রুততম সময়ে এই সমস্যা সমাধান করতে না পারলে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলটি সন্ত্রাসবাদের আখড়া হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্কও এখানে কাজ শুরু করবে।
‘অচিরেই রোহিঙ্গা সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান দরকার’
উখিয়া থেকে চট্টগ্রাম অফিসের আজহার মাহমুদ জানান, মিয়ানমারে গণহত্যা ও সন্ত্রাস তদন্তে নাগরিক কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি শামসুল হুদা বলেছেন, মিয়ানমার নিজেদের স্বার্থ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠাীকে আাামদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা দীর্ঘ সময় রোহিঙ্গাদের ভার বহন করতে পারব না। অচিরেই এই সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান দরকার। সহিংসতার জন্য বাংলাদেশের যে ক্ষতি হয়েছে আন্তর্জাতিক আইনে মামলা করে তার ক্ষতিপূরণ দাবি করা উচিত।
আজ আসছেন জর্ডানের রানি : আজ সোমবার জর্ডানের রানি রানিয়া আল আব্দুল্লাহ উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা রয়েছে। রানিয়া ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) সদস্য।
রাখাইনে বিক্ষোভ, রোহিঙ্গা ফেরানো ঠেকানোর ঘোষণা : সারা বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যখন রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে সোচ্চার হচ্ছে তখন এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি ঠেকিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সেদেশের উগ্রপন্থি বৌদ্ধরা। গতকাল রাখাইনের সিট্যুতে এক প্রতিবাদ বিক্ষোভে তারা এই ঘোষণা দেন।
ইত্তেফাক/আনিসুর