সংসার সামলিয়ে ঘরে বসেই আয় করছি

জাকিয়া শারমিন ও কানিজ ফাতেমা। দুজন গৃহবধূ। ঘর সংসার সব সামলান। আবার ঘরে বসেই আয় করেন। স্বাধীন ব্যবসা। নিজেদের টুকটাক কেনাকাটা। কারো কাছে হাত পাততে হয় না তাদের। জাকিয়া বিক্রি করেন ইনডোর প্লান্ট। কানিজের বিক্রির আইটেম হলো পণ্য জৈব সার, মাটি, কোকোডাস্ট ইত্যাদি। আজকাল ঘর, বেলকনি, ছাদে একটুখানি সবুজের সমারোহ চোখে পড়ে। সবজি, ফুল, ফলের গাছ দৃষ্টি কাড়ে। সাকুলেন্ট, ফার্ন, লাকি বাম্বুর মত প্লান্ট বৃদ্ধি করে ঘরের শোভা। সবুজপ্রেমী এই দুই নারী। সবুজের প্রসারে নিরলস কাজ করছেন। বিভিন্ন বাধা, প্রতিবন্ধকতার কোন দেয়ালই তাদের রুখতে পারেনি। নিজের মত তারা এগিয়ে গেছেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসাবে তারা আজ প্রতিষ্ঠিত। তাদের কথা জানাচ্ছেন— মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

জাকিয়া শারমিন

 

বাবা গাছ ভালোবাসতেন। ফলজ, বনজ সব ধরনের গাছ। কলম করতেন। ছোট্ট জাকিয়া অপলক দৃষ্টিতে দেখতেন। বাবার হাত ধরেই তার গাছের প্রতি ভালোবাসা শুরু। বড় হবার পড় শখের বসে গাছ কিনলেন। বিভিন্ন গাছে ঘর ভরে গেলো। হরেক রকম দৃষ্টি নন্দন ইনডোর প্লান্ট। সেখান থেকে কিছু বিক্রিও করলেন। স্থান সংকুলোন হচ্ছিলো না। আবার নতুন কিছু গাছ  কিনলেন। এভাবেই তার ইনডোর প্লান্ট ব্যবসার সূচনা। শখ থেকেই আয়ের শুরু। বাণিজ্যিকভাবে শুরুটা তার ২০১৮ এর এপ্রিলে। এক সময় কিনে গাছ বিক্রি করতেন। এখন নিজেই হরেক রকম গাছের চারা উত্পাদন করেন। খুব দ্রুত বৃক্ষপ্রেমীদের ভালোবাসা পেয়েছি। আস্থা পেয়েছি। মানসন্মত, অক্ষতভাবে গাছ তাদের হাতে পৌঁছে দেই। লাভ মুখ্য নয়। ক্রেতার সন্তুষ্টিই আমার কাছে আসল, বললো জাকিয়া শারমিন। বর্তমানে তিনি দেশি বিদেশি অর্কিড, সাকুলেল্ট, এয়ার প্লান্ট, বিভিন্ন জাতের ইনডোর প্লান্ট বিক্রি করছেন। যত্ন নিয়ে গাছের কিছু উপকরণও তিনি তৈরি করেন। যেমন পটিং মিক্সকেকো চিপস, কেকোপিট, সাকুলেল্ট, ক্যাকটাস সয়েল বিক্রি করেন। নার্সারি হলো তার গাছ সংগ্রহের উত্স। বিদেশ থেকেও প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে আসেন। অনলাইনে তিনি গাছ বিক্রি করেন। চক্কর নামে একটি পেইজ রয়েছে তার। ইনডের প্লান্ট তো প্রায়ই মরে যায়? অতিরিক্ত পানি দেয়া, মোটেই রোদ না দেয়া, দীর্ঘদিন টবের মাটি পরিবর্তন না করা ইনডোর প্লান্ট মরে যাবার অন্যতম কারণ। বললো জাকিয়া শারমিন। পাতা শুকিয়ে গেলে, ফ্যাকাশে হয়ে যেতে থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন। যেনতেন ভাবে গাছ ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে জাকিয়া রাজি নন। কারণ সাকুলেন্টের মত প্লান্ট, প্যকিং ভালো না হলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ঢাকার মিরপুর সাড়ে এগারো, গুলশান-২, বারিধারায় তিনি ক্যাশ অন ডেলিভারি করেন। ঢাকার বাইরে অর্ডার দেয়ার  ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টায় ডেলিভারি করেন। ক্রেতারা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে গাছের দাম পরিশোধ করতে পারেন। ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা হলেই গাছের ব্যবসা শুরু করা যায়। বাইরে খুব একটা যেতে হয় না। ঘরে বসেই এই ব্যবসা করা সম্ভব। রিস্ক খুব নেই। বললেন জাকিয়া শারমিন।

কানিজ ফাতেমা

 

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস। কানিজ ফাতেমা তখন শখে বাগান করতেন। বাগান করতে প্রয়োজন মাটি, কোকোপিট, জৈব সার। ফেসবুক থেকে এগুলো কিনলেন বটে। তবে দাম আকাশচুম্বী। তখনই তার মাথায় এলো বাসায় বসে থেকে তো লাভ নেই। এসব বিক্রি ঘরে বসেই করা সম্ভব। স্বামীকে বললেন। তিনিও সায় দিলেন। ভালো  মাটি, জৈব সারের খুব অভাব। এবিষয়টাও কানিজকে প্রভাবিত করলো। এভাবেই কানিজের কৃষি উপকরণ বিক্রির শুরু। অল্প কদিনে তিনি বৃক্ষপ্রেমীর মন জয় করে নিয়েছেন। মাঝে মাঝে এমনও হয়। অর্ডারের পণ্য দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারি না। সঙ্গীতশিল্পী কনকচাপা, নায়িকা ববিতা, টিভি অভিনেত্রী জয়া আহসান এরকম  খ্যাতিমান শিল্পী আমার পণ্য ক্রয় করেন। বললো কানিজ ফাতেমা। তিনি বর্তমানে  সকল প্রকার জৈব সার, কোচো সার, ট্রাইকোডারমা সার, রেডি মিক্স মাটি, স্পেশাল মিকস মাটি, ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট সয়েল, কোকোপিড, কোকোডাস্ট, হাড়ের গুঁড়া, খৈল ইত্যাদি বিক্রি করেন।

মানুষ আমার এসব কিনে শুধুমাত্র গুণগত মানে সেরা সেজন্য। আমার সকল      পণ্য অর্গানিক। রাসায়নিক ক্ষতিকর কোনো কিছু নেই এতে। বললো কানিজ ফাতেমা। তিনি ইউএলএবি থেকে বিবিএ করেছেন। ফেসবুকে তার Gardening Essentials-BD নামে একটি পেইজ আছে। সেখানে              অর্ডার করা যায়। ঢাকার মধ্যে দ্রুত ডেলিভারী করা হয়। ঢাকার বাইরে কুরিয়ার সার্ভিসে পণ্য পাঠানো হয়। জানালেন তিনি। ছবি দেখে মানুষ মাটি, সার ক্রয় করে। সেক্ষেত্রে মান খারাপ হলে কি করেন? পণ্যের গুণগত মান রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। প্রতিটি  পণ্যের মান নিজ হাতে চেক করি। নিজের ভালো না লাগলে ডেলিভারি করি না। বললেন কানিজ ফাতেমা। তারপরেও ছোটখাটো সমস্যা হতেই পারে। সেজন্য বিক্রিত পণ্য পরিবর্তন বা পণ্যের মূল্য ফেরত দেয়া কানিজের আফটার সেল কম্পেইন-এর             রিকভারি পলিসি।