পিরোজপুরের খানাকুনিয়ারি-পোরগোলার দু’টি সেতু ভেঙে জনদুর্ভোগ

সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের খানাকুনিয়ারি-পোরগোলা সড়কের ভোরা ও একপাই জুজখোলা নামক স্থানের লোহার নির্মিত দু’টি সেতু ভেঙে খালে পড়ে গেছে। এতে ছয় গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে আছেন। পোরগোলা-ভোরা গ্রামে যাওয়ার সেতুটি একবছর আগে এবং একপাই জুজখোলা গ্রামে যাওয়ার সেতুটি আট বছর আগে ভেঙে যায়। জেলা সদর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরত্বে ওই ভেঙে পড়া সেতু দুটি পুনঃনির্মাণ না হওয়ায়  ভোরা, পোরগোলা, পশ্চিম কদমতলা, রাজারকাঠী, একপাই জুজখোলা ও বাগমারা গ্রামের হাজার, হাজার মানুষ জেলা সদর ও কদমতলা বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের জন্য বিপত্তিতে আছেন। এসব গ্রামের স্কুল ও কলেজের শত শত শিক্ষার্থী পিরোজপুর শহরের কলেজ, স্কুলসহ মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে চরম সমস্যায় পড়েছেন।

কদমতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মাওলানা দ্বীন ইসলাম জানান, খানাকুনিয়ারি খালের উপর গুদিঘাটার স্থানে নির্মিত লোহার সেতুটি গতবছরের ২৮ অক্টোবর বিকেলে ভেঙে পড়ে। এ সেতুটি ২০০১ সালে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মাণ করেছিল। ভেঙে পড়ার পর কিছু দিন নৌকায় লোকজনের খাল পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। পরে সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। অপরদিকে খানাকুনিয়ারি মাদ্রাসার সামনের খালের উপর থাকা লোহার সেতুটি গত আট বছর আগে ভেঙে যায়। দীর্ঘদিনেও এ সেতুটি আর নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

খানাকুনিয়ারি মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী ইনতিয়াজ, নূরে জান্নাত, আমিনা, শিমা ও ফাহিমা জানায়, সাঁকো পার হতে তাদের ভয় হয়। খরস্রোতা খালে শিশু শ্রেণি থেকে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সাঁকো পারাপারে ভয় পায়। বিশেষ করে ছাত্রীরা থাকে আতঙ্কে। সেতু ভেঙে খালে পড়ে থাকার ব্যাপারে কদমতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হানিফ খান জানান, ‘ভেঙে পড়া সেতু নির্মাণ আমাদের পরিষদের আওতায় নয়। তবে আমি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ারকে বলেছি। বিষয়টি আমাদের এমপিকেও জানিয়েছি।’ তিনি আরো জানান, শুধু এ দুটি সেতু নয়, গত আট/নয় মাস আগে একই এলাকার জুজখোলা নতুন হাটের খালের ওপরের লোহার ফ্রেমের ঢালাই সেতুটিও ভেঙে পড়েছে।

পিরোজপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, সদর উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতুগুলোর একটি তালিকা এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সে তালিকায় কদমতলা ইউনিয়নের সেতুগুলোরও নাম রয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু