কেশবপুরে গত তিন দিনের ভারী বর্ষণে আবারো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে পুকুর, ফসল ও সবজির ক্ষেত। সড়কের চলাচল বিচ্ছিন্নসহ দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যেই পানিবন্দী মানুষেরা যশোর-সাতক্ষীরা সড়কসহ বিভিন্ন উচু স্থানে আশ্রয় নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হরিহর নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেশবপুর পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে ভারি বর্ষণ হয়েছে। কাঁচা ঘরবাড়ি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
পৌর এলাকার মধ্যকূল, হাবাসপোল, বাজিতপুর, ভোগতী নরেন্দ্রপুর, আলতাপোল, ভবানিপুর, বালিয়াডাঙ্গা, রামচন্দ্রপুর, ব্যাসডাঙ্গা, সুজাপুর, বেলোকাটী, সাগরদত্তকাটি, বাগডাঙ্গা মনোহরনগর, রাজনগর বাঁকাবর্শি, মাগুরাডাঙ্গা, মহাদেবপুর, ফতেপুর, বিষ্ণুপুর, কুশলদিয়াসহ ১১টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তলিয়ে গেছে ৮০০ পুকুর ৪০ হেক্টরে ফসলি জমি ও ১০ হেক্টর সবজির ক্ষেত। ধান হাটা, হলুদ হাটা, মাছ হাটা, কাঁচা বাজার, পাঁজিয়া সড়ক, কেশবপুর-বড়েঙ্গো সড়ক তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর আগে গত ১৯ জুলাই থেকে আগষ্ট পর্যন্ত বন্যার কারণে ৪০ হাজার পরিবার যশোর-সাতক্ষীরা সড়কসহ ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রায় নিয়েছিল। মধ্যকুল গ্রামের আলিম, আশরাফ, সাখাওয়াত, ছালেহা, শিরিনা, সুফিয়াসহ অনেকেই জানান, গত আগস্ট মাসে ভয়াবহ বন্যায় বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তার পরে আশ্রায় নিয়েছিলাম। গত ১ মাস আগে বাড়ি ফিরেছি। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই গত ১৯ অক্টোবর থেকে ৩ দিনের ভারী বর্ষণে আবারও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। প্রতিদিন পানি বড়ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আবারও বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে হবে। রামচন্দ্রপুর গ্রামের শুকুর সালাম জানান, বন্যার পানিতে বাড়ি ঘর তলিয়ে গেছে। রাতে সাপ ও পোকা মাকড়ের ভয়ে ঘুমাতে পারিনা। সুজাপুর গ্রামের মজিবর জানান, ভারী বর্ষণে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় সময়মত স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে যেতে পারছে না। সাহাপাড়ার সমীর অধিকারী, মনু দে জানান, ভারী বর্ষণে প্রায় ১৫/২০টি বাড়িতে হাটু পানি জমে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, ৩ দিনে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকের ৪০ হেক্টর ধান ও ১০ হেক্টর সবজি ক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা এস. এম আলমগীর কবীর জানান, ৩ দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮০০ পুকুর ভেসে গিয়ে ৫৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল বলেন, অতিবৃষ্টি ও হরিহর নদের জোয়ারের পানিতে দ্বিতীয় দফায় পৌর এলাকার মধ্যকুল, হাবাসপোল, ভবানীপুর, সাহাপাড়া জলাবদ্ধতা হয়েছে। এতে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৮০০ পরিবার। ওই সমস্ত এলাকায় গ্রামীণ সড়কে পানি উঠে আসায় মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে।
ইত্তেফাক/এএম।