ইলিশ প্রজননের জন্য উত্তরবঙ্গের অন্যতম মোহনা সিরাজগঞ্জের চৌহালীর যমুনায় নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এখন পর্যাপ্ত ইলিশ মিলছে জালে। প্রায় ৪/৫শ' হাত লম্বা জাল ফেলা আর উঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলছে মণ মণ মাছ। এজন্য দিন-রাত উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়েই মাছ আহরণ করছে দুই সহস্রাধিক জেলে।
বাড়িতে গিয়ে সময় নষ্ট না করে ইলিশ ধরায় ব্যস্ত এসব জেলেদের নাওয়া-খাওয়া হচ্ছে মাছ ধরা নৌকায়। প্রবীণ জেলেরা জানিয়েছে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে এবার বেড়েছে বড় ইলিশের প্রচুরতা। এদিকে আগামী পহেলা নভেম্বর থেকে টানা ৮ মাস জ্যাটকা নিধন বন্ধে সবার সহযোগিতা দাবী এবং এবার ইলিশের ব্যাপক বিস্তারের কথা জানিয়ে চৌহালীর মোহনার প্রজনন কেন্দ্র ৭০/৮০ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছাড়ায় আগামী বছর বাড়বে ১০ গুন মাছ। এমনটি জানিয়েছে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ।
আমাদের গর্বের ধন সুস্বাদু ইলিশ মাছের টুকরো বাঙালির পাতে আজীবন জড়িয়ে রাখতে গত ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ডিমওয়ালা মা ইলিশ ধরা বন্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে যমুনা নদীর দক্ষিণে চৌহালীর ব্রিদাশুরিয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার জুড়ে হাজারো শত-শত নৌকা নিয়ে ইলিশ ধরা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সরজমিনে উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের বারবালা, চাঁদপুর, বোয়ালকান্দি, স্থলচর, চালুহারা, মিস্ত্রীগাঁতী, উমরপুর, ঘোরজান, বাঘুটিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়। নদী জুড়ে কেবলই জেলেদের মাছ ধরা নৌকার সমারহ। জাল, দড়ি, নৌকা নিয়ে ছেলে-বুড়ো সবাই এখন মাছ শিকারে ব্যস্ত। এদের জাল ফেলতে, কেইবা জাল তুলে মাছ ছাড়াতে ব্যস্ত। ৪শ থেকে ৬শ হাত লম্বা জাল গুলোতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ধরা পড়ছে মণকে মণ ইলিশ মাছ। যার আকার প্রায় ৪শ গ্রাম থেকে এক দেড় কেজি ওজন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও চৌহালী উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী শফিকুল ইসলাম জানান, এবার যমুনায় প্রায় ৭০/৮০ শতাংশ মাছ ডিম ছেড়েছে। আগামী বছর প্রায় দশ গুণ মাছ বাড়বে। সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ ও তৃনমূল পর্যায়ে সবার সহযোগিতায় তা বাস্তবায়নে বাঙালির অতীত ঐতিহ্য মাছে ভাতে বাঙালি প্রবাদ আবারো ফিরে এসেছে। এখন জ্যাটকা মাছ রক্ষায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় কালীন ছোট ছোট জাটকা ইলিশ মাছ বড় হতে দিতে তা নিধন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এ সময়কালীনও একইভাবে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে কারেন্ট জাল ও ঘের জালের বিরুদ্ধে।
ইত্তেফাক/জামান