জাতির মধ্যে লুকায়িত গতির সঞ্চার হয়েছে

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, জাতির মধ্যে লুকায়িত গতির সঞ্চার হয়েছে। আমাদের ক্ষমতাকে এখন আর কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। বেসরকারি খাত অর্থনীতিতে নতুন প্রাণপ্রবাহ সৃষ্টি করেছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্ম অর্থনীতির হাল ধরেছে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব। অনেকে যানজট দেখে সমালোচনা করেন। কিন্তু এই যানজট কেন হচ্ছে সেটা আমাদের দেখতে হবে। ঢাকায় আগে রিকশাজট হতো। কিন্তু এখন আর সে ধরনের যানজট হয় না। কার, বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানের কারণে যানজট হয় যেগুলোর মাধ্যমে যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পণ্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যায়। আমরা যদি দেশপ্রেমিক হই তাহলে এই যানজট দেখে কেন সমালোচনা করবো। এই যানজটের অর্থ দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। অর্থনীতিতে প্রাণ প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামের কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে অনেকে সমালোচনা করেন। কিন্তু তারা কি দেখেন না চট্টগ্রামে এখন অনেক ফ্লাইওভার হয়েছে। অথচ ২০ বছর আগে চট্টগ্রামে কী ছিল। আর এখন কি হয়েছে। তারা এই পরিবর্তনটাকে দেখছেন না, দেখেন শুধু যানজট।

গতকাল মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরের নবনির্মিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় গবেষণাগার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রইছউল আলম মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে   বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ ও পরিবেশ অধিদপ্তর-চট্টগ্রামের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক মো. মকবুল হোসেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক, জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজাদ দোভাষ, কেন্দ্রীয় সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নাসির উদ্দিন তালুকদার, চট্টগ্রাম মহানগর নেতা ডা. বেলাল, জাতীয় ছাত্র সমাজ ইন্দুরকানি উপজেলা শাখার সভাপতি মজনু হোসেন রনিসহ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক, শিল্প-কারখানা মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক গবেষণাগার স্থাপনকে সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমদানি পণ্য পরীক্ষার জন্য এখন আর অন্য কোথাও যেতে হবে না। চট্টগ্রামের এই গবেষণাগারেই তা পরীক্ষা করা যাবে। শিপব্রেকিং মালিকদের পক্ষ থেকে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের প্রতি লক্ষ্য রাখার অনুরোধ করলে মন্ত্রী বলেন, আপনারাও দূষণহীন জাহাজ কাটার জন্য আনবেন। তিনি বলেন, আজকে আপনি পরিস্কার জাহাজ না আনলেও আগামীতে আপনার সন্তানরা দূষণমুক্ত জাহাজ আনবে। তিনি পরিবেশ দূষণ সৃষ্টিকারী কলকারখানা মালিকদের বিষাক্ত বর্জ্য নিষ্কাসনের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড, ডায়িং কারখানাসহ যারা বিভিন্ন কলকারখানা স্থাপন করেন তারা এমন বিষ কেন ছড়িয়ে দেবেন যার দ্বারা তার নিজের ক্ষতি না হলেও তার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনসহ অন্যের ক্ষতি হবে। ২০ বছর আগেও বায়ু দূষণের কথা কেউ শুনেছেন কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু এটা নিয়ে এখন সারা বিশ্বে কি তুলকালাম চলছে। যারা কলকারখানার দূষিত বর্জ্য নিষ্কাসন করে আগে টাকাপয়সা দিয়ে ম্যানেজ করা যেত। এখন আর তা পারবে না। এটা একটা অনেক বড় অর্জন। সরকার এখন আর সেইভাবে নেই। অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিবেশ দেখার দায়িত্ব শুধু পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নয়। সব সরকারই পরিবেশের গুরুত্ব দেন। এই কারণে আমাদের একটি জাতীয় কমিটি আছে। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই কমিটির চেয়ারম্যান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রইছউল আলম মণ্ডল পরিবেশ রক্ষায় শিল্পোদ্যোক্তাদেরকে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, চট্টগ্রামের মধ্যে এটিই সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ ল্যাব যা এই অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও অনেক কাজে আসবে।

উল্লেখ্য, ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই গবেষণাগার প্রতিষ্ঠায় অর্থের জোগান দিয়েছে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট। এই গবেষণাগারের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব পরিবীক্ষণ, সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, আন্তঃদেশীয় পানির গুণাগুণ, বায়ুর মানমাত্রা, মাটির গুণাগুণ, খাদ্য দূষণ, চিংড়ির গুণগত মান পরিবীক্ষণ পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের গবেষণা কর্ম পরিচালিত হবে।

ইত্তেফাক/নূহু