আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রে ক্রিকেটার চয়ন

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্য সন্দেহে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বাংলাদেশ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় জি-কেটামাইন নামক মাদক স্পেনে পাচার করত বলে র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওষুধের উপাদান হিসেবে ব্যবহূত কেটামাইন একটি উচ্চমাত্রার মাদক।

গত সোমবার রাতে র্যাব-১ এর একটি দল পল্লবী দ্বিতীয় পর্বের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের সি-ব্লকের ১৮৭ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ১৪৫টি বোতলে রাখা মোট প্রায় দেড় লিটার জি কেটামাইন, ৩৪টি সাদা তোয়ালের মধ্যে মোট তিন কেজি চারশ’ গ্রাম জি কেটামাইন, ১৮০টি খালি বোতল, পাঁচটি তোয়ালে ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ৩৪টি কেটামাইন যুক্ত তোয়ালের মধ্যে ১৮টি তোয়ালে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাচারের চেষ্টা চলছিল। সেগুলো একটি কুরিয়ার সার্ভিস অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান চয়ন প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগের একজন খেলোয়াড়। অপর দুই গ্রেফতারকৃত হলেন, মীর মঞ্জুর মোর্শেদ সানি ও হাবিবুল্লাহ খান। সানী লন্ডন থেকে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে দেশে ব্যবসা করছেন। তার বন্ধু মাহমুদুল হাসান (চয়ন) ও হাবিবুল্লাহ খান বেসরকারি একটি ব্যাংকে চাকরি করেন।

গতকাল মঙ্গলবার কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে তিনজনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন র্যাব কর্মকর্তারা। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গ্রেফতারকৃত চক্রটি অভিনব কৌশলে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে মাদক চোরাচালান করে আসছিল। এর আগে তারা গত পাঁচ মাস ধরে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পেনে জি-কেটামাইন মাদক পাচারের জন্য সংঘবদ্ধ হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মীর মঞ্জুর মোর্শেদের ভাই মাহাদী মঞ্জুর মান্না প্রায় ১৫ বছর ধরে স্পেনে অবস্থান করছেন। তিনি স্পেনে ইন্টারনেট কলিং ব্যবসার সাথে যুক্ত। ব্যবসায়িক সূত্রে তার সাথে স্পেনের নাগরিক আরামডো গঞ্জালিও’র সাথে পরিচয় হয়। তারা দুইজন মাদক কেটামাইন স্পেনে পাচারের পরিকল্পনা করে।

গ্রেফতারকৃতরা র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের জানিয়েছে, জি-কেটামাইন নামক নিষিদ্ধ এই মাদকটি দেশের বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করা হয়। চক্রটি দুই মাসে চারটি চালান স্পেনে প্রেরণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। জানা যায়, জি-কেটামাইন মাদকদ্রব্যটির চাহিদা ইউরোপীয় দেশে হেরোইন অথবা কোকেনের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু