চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও কোন কোন স্কুল খোলা আকাশের নিচে, গাছের নিচে অথবা টিনের ছাউনি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি জেনেও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে।
১৯৯৬ সালে নির্মিত হয় উপজেলার রামদাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন। নির্মাণের মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে ২০১০ সালেই বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। একই বছর নির্মিত হয় আনোয়ারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ঐ বিদ্যালয়ের ভবনটিও নির্মাণের ১৫ বছরের মধ্যেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ঐ বছরে আরো কয়েকটি ভবন নির্মাণের ১৫ বছরের মধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও তার প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্রাদি উপজেলা শিক্ষা অফিসে সংরক্ষিত নেই। ১৯৯৬ সালে নির্মিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশক’টি পাকা ভবন ২০১৬ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয়েছে।
সরেজমিনে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা বিদ্যালয় ভবনগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ভবনের ছাদে বড় বড় ফাটল, ছাদের আস্তর খসে খসে পড়ছে, রড বেরিয়ে আছে। কোনটির আবার ছাদের বিশাল অংশ ধসে পড়ে যাবার কারণে ছাদ দিয়ে আকাশ দেখা যাচ্ছে।
১৯৯৬ সালে নির্মিত পাকা ভবন ২০১৬ সালেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা এমন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে কয়েকটি হলো- দক্ষিণ চরমাছুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়ুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর লুধুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছেংগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিতারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তিপল্লী সরকরি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০ ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪ ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোট চরকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২৫ সুজাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আবুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরপাথালিয়া প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়, কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব লালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর মান্দারতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এ সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নির্মাণের মাত্র ২০ বছরের মধ্যেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আরো কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এনামূল হক জানান, সরেজমিনে গিয়ে দেখে-শুনেই আমরা পাকা ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে থাকি। তবে একটি পাকা ভবন কমপক্ষে ৫০ বছর টিকে থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক ভবনই ব্যবহারের অনুপযোগী। তবে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু