সবুজে ভরে গেছে বাঁশখালীর চা বাগান, পর্যটকের ভিড়

 
সবুজের সমারোহে ভরে গেছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৈলগাঁও চা বাগান। বর্তমানে চা বাগানে কচি পাতা গজে উঠায় দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকরা দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন এখানে প্রতিনিয়ত। চা উৎপাদনে এই বাগান বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানে রয়েছে।
 
বাঁশখালীতে অবস্থিত ৩ হাজার ৪ শত ৭২ দশমিক ৫৩ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই চা-বাগানটি এক সময়ে সিলেট চা বাগানের অধীনে থাকলেও বিগত ২০১৫ সাল থেকে দেশের অন্যতম এই বাগানটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন সিটি গ্রুপ। প্রতিদিন ৬ শতাধিক শ্রমিক এই চা বাগানে তাদের শ্রমের মাধ্যমে নতুন পাতা উৎপাদন থেকে শুরু করে চা-বাগানের সামগ্রিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
 
বাঁশখালীর চা সারাদেশে মানের দিক দিয়ে ২য় স্থানে অবস্থান করলেও চট্টগ্রামে প্রথম স্থানে রয়েছে বলে জানান চা বাগান কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চা বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে চা-পাতা তোলা না হলেও অপরাপর সময়ে চা-শ্রমিকরা তাদের কর্মঘণ্টা অনুসারে ২৫ কেজি চা পাতা তুলে থাকেন। বর্তমানে তা ১০ কেজির নিচে প্রতি শ্রমিক প্রতিদিন চা পাতা বাগান থেকে তুলে থাকেন।
 
চা বাগানের অভ্যন্তরে ৬ শতাধিক কর্মচারী নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা সহ অন্যান্য সার্বিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে বলে জানান চা-বাগানের ম্যানেজার আবুল বাশার। দেশের ১ম স্থান অধিকারী সিলেটের মধুপুর চা-বাগান। এর পরপরই বাঁশখালীর এই বাগানের অবস্থান। এদিকে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে প্রতিদিন বাগানের সর্বত্র আধুনিক উপায়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করায় প্রতিদিনই নতুন নতুন কচি পাতা গজে উঠছে। বর্তমান শীত মৌসুম আসতে না আসতেই এই চা-বাগানে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন বাগানের নতুন কচি পাতা গজে উঠার দৃশ্য দেখার জন্য।
 
বুধবার বাঁশখালীর বৈলগাঁও পুকুরিয়া সরকার চা বাগান পরিদর্শনকালে বাগানের ম্যানেজার আবুল বাশারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাঁশখালীর এই বিশাল চা বাগানের চা পাতা সারা দেশে সুখ্যাতি রয়েছে। যার ফলে দেশের যত চা বাগান রয়েছে বাঁশখালীর চা বাগানের পাতা মানের দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং চট্টগ্রামে প্রথম স্থানে রয়েছে। এই মানের জন্য চা বাগানের কর্মরতরা প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদন যত বৃদ্ধি পায় সরকার রাজস্ব তত বেশি পায়। বর্তমানে চা পাতার বিক্রিত অর্থ থেকে সরকার ১৫% হারে ভ্যাট পান।
 
তবে তিনি বাগানের কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, চা বাগানের চার পাশে ঘেরা বেড়া না থাকায় প্রতিদিন হাতির পাল চা বাগানে ছুটে আসে। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রায় সময় শঙ্কিত অবস্থায় থাকে। তিনি সরকারি এই রাজস্ব আয়ের অন্যতম চা-বাগানকে আরো বেশি পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
 
এদিকে বাঁশখালীর চা বাগান চট্টগ্রামের একটি আলোকিত পর্যটন স্পট হলেও এই চা বাগানে যাতায়াতের রাস্তাটি যথাযথভাবে সংস্কার না হওয়া ও সরু হওয়ায় পর্যটকদের নানাভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বাঁশখালীর এই আলোকিত পর্যটন স্পট ও চা বাগানের যথাযথ সংরক্ষণ নিরাপত্তা, সরকারি রাজস্ব আদায়ের অন্যতম এই চা বাগানকে সার্বিক সহযোগিতা করবে প্রশাসন এই প্রত্যাশা চা বাগান কর্তৃপক্ষের।
 
ইত্তেফাক/জামান