যশোরের কেশবপুরে মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা শতাধিক সরকারি রাস্তা ঘেরের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করায় হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামীণ সড়ক।
এছাড়া ওই সমস্ত ঘের মালিকরা ২১টি সরকারি খালের পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে মাছের ঘের করায় ওই উপজেলায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিল জলাশয়গুলোতে আউশ, আমান আবাদ হচ্ছে না, অন্যদিকে হাজার হাজার হতদরিদ্র পরিবার বিলে মাছ শিকার করতে ব্যর্থ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
কেশবপুর পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে ছোট বড় মিলে প্রায় ২হাজার বিল, জলাশয় রয়েছে। এসব বিলগুলোর মধ্যে বিল বলদহালি, টেপুর বিল, বিল গরালিয়া, পদ্মবিল, ঘোচ মারার বিল, কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিল, হাজোয়ার বিল, বিল খুকশিয়া, বোয়ালিয়ার বিল, বিষ্ণুপুর বিল উল্লেখযোগ্য। আশির দশকে এসব বিলের মাছ শিকার করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো হাজারও জেলে সম্প্রদায়।
এছাড়া বিলগুলোর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকায় ধান, পাট, মুশুড়ি, শাক সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল আবাদ হতো। নব্বই এর দশকে এসব বিল, খাল, নদীর অববাহিকা দখল করে সমাজের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এলাকার ধর্ণাঢ্য ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে নাম মাত্র কিছু কৃষকের হারি দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। এ সময় ঘের মালিকরা গ্রামীণ প্রধান সড়কগুলো ঘেরের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করে মাছ চাষ শুরু করেন। ফলে বিলের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে সম্প্রদায় ও হতদরিদ্র মানুষ বিলে মাছ শিকার করতে ব্যর্থ হয়ে বাধ্য হয় অন্যপথ বেছে নিতে।
IMG0
এসব ঘের মালিকরা ঘেরের বাঁধ হিসেবে সরকারি রাস্তা ব্যবহার করায় এ উপজেলার প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ শতাধিক পাকা ও ইটের সোলিং সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে যশোর সাতক্ষীরা মহাসড়কসহ কেশবপুর পাঁজিয়া সড়ক, কেশবপুর ভেরচী সড়ক, কেশবপুর ফতেপুর সড়ক, কলাগাছী চুকনগর সড়ক, মঙ্গলকোট হিজলডাঙ্গা সড়ক, মঙ্গলকোট পাঁচপোতা সড়ক, বাকাবরশি গড়ভাঙ্গা সড়ক, মজিদপুর লক্ষ্মীনাথকাটি সড়ক, কেশবপুর ত্রিমোহিনী সড়ক, ত্রিমোহিনী সাগরদাঁড়ি সড়কসহ অর্ধশত পাকা সড়ক, মনোহরনগর বাকডাঙ্গা সড়ক, ব্যাসডাঙ্গা ইমাননগর সড়ক, শ্রীফলা মঙ্গলকোট সড়ক, সাবদিয়া বাজিতপুর সড়কসহ ৭০টি ইটের সোলিং সড়ক ধসে নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারণে এসব সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষ, হাটুরেসহ ছোট বড় যানবাহন চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুর আলী জানান, ঘের মালিকরা সড়ক অবৈধভাবে বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করে মাছ চাষ করার ফলে সড়কের পার্শ্বের ঢাল ও সোল্ডারসহ পিচের রাস্তা ভেঙে গেছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী সড়ক থেকে ৬ ফুট দূরত্বে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষের জন্য পত্র দেয়া হলেও ঘের মালিকরা তা অমান্য করে সড়কের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে চলেছে। এসব সড়কের দু'পাশে ঢাল না থাকায় কোন ঠিকাদার সংস্কার করতে চান না।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর কবীর বলেন, কেশবপুর উপজেলায় ৪ হাজার ৬১৭টি মাছের ঘের রয়েছে। যার মধ্যে ৬ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমি জলাকার রয়েছে। ঘের মালিকরা ২১টি সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষ করছেন। তবে ঘের সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা হয়েছে। যা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তখন আর ঘের মালিকরা ইচ্ছামত ঘের করতে পারবে না।
ইত্তেফাক/জামান