উপকথা

আফ্রিকান লোককাহিনি সাপের বুদ্ধি

 

আফ্রিকার এক বিরাট বন। বনে রাজ্যের পশুপাখি। একদিন এক সুন্দর হরিণ বনে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। হরিণ আচমকা এক ডাক শুনতে পায়। বনের মাঝে বড় এক গাছের ডালের নিচে এক বিশাল বাঘ। গাছের ডাল-চাপায় বাঘের প্রাণ যাওয়ার দশা।

‘এমনটা কিভাবে হলো?’ বাঘকে শুধোয় হরিণ।

‘গাছের-চাপায় এক মস্ত ফাঁদে আটকা পড়েছি’, বাঘ করুণ গলায় জানায়। ‘শীঘ্রই গাছের ডালটা সরাও। নয়তো মারা যাব!’

বাঘকে বাঁচাতে অ-রাজি হরিণ বলে, ‘ডালটা বেশ শক্ত।’

বাঘ নরম সুরে বারবার হরিণের কাছে মিনতি জানায়। পুরস্কার দেয়ার কথাও বলে।

হরিণ শক্ত শিং দিয়ে কয়েক ধাক্কায় ডালটা সরিয়ে বাঘকে মুক্ত করে।

বাঘ ছাড়া পেয়ে হরিণকে বলে, ‘এবার তোমায় খাব।’

‘তোমার জীবন বাঁচানোর এ কেমন পুরস্কার?’ ভয়-পাওয়া হরিণ শুধোয়।

‘কিসের পুরস্কার!’ বাঘ বলে। ‘খিদেয় মারা যাই, এমনটা তুমি চাও না। সারাটা দিন না খেয়ে আছি।’

হরিণ বলে, ‘এটা ঠিক নয়। বনের সবাই তোমায় খারাপ বলবে। বরং কোনো প্রাণীকে জিজ্ঞেস করে বিষয়টি ঠিক করি।’

বনে এক বুড়ো সাপের দেখা পায় হরিণ ও বাঘ।

বাঘ আর হরিণের কথা শুনে সাপ বলে, ‘হরিণ তোমার জীবন রক্ষা করেছে। আবার খিদেয় বনের রাজা বাঘ মারা যেতে পারে না। ঘটনার জায়গায় গিয়েই বরং বিষয়টার বিচার করা যাক।’

ঘটনার জায়গায় গিয়ে বুড়ো সাপ বলল, ‘এবার আমাকে দেখাও ঘটনাটা কী হয়েছে?’

সাপকে দেখাতে হরিণ বাঘের ওপর গাছের ডাল ফেলে।

‘হরিণ, এবার বাঘকে মুক্ত করো।’ সাপ বলে।

‘আমি ভীষণ ক্লান্ত।’ হরিণের জবাব।

‘তাহলে আমার কিবা করার আছে।’ সাপ বলে।

ডাল-চাপা বেচারা বাঘ! আবারও বনের কোনো প্রাণীর সাহায্যের আশায় থাকে।

রূপান্তর : কুতুব আজাদ