কেশবপুরে মত্স্য ঘের ব্যবসায়ীরা শতাধিক সরকারি রাস্তা ঘেরের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করে সাড়ে চার হাজার মাছের ঘের করেছে। এতে হুমকিতে পড়েছে শতাধিক গ্রামীণ সড়ক।
এদিকে ওই ঘের মালিকরা ২১টি সরকারি খালের পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে মাছের ঘের করায় উপজেলায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী আকার ধারণ করেছে। ফলে একদিকে যেমন বিল জলাশয়গুলোতে আউশ, আমন আবাদ হচ্ছে না অন্যদিকে হাজার হাজার হতদরিদ্র পরিবার বিলে মাছ শিকার করতে ব্যর্থ হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কেশবপুর পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলে প্রায় দুই হাজার বিল ও জলাশয় রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে এসব বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে সমাজের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মাছ চাষ শুরু করেন। ওই সময় ঘের মালিকরা গ্রামীণ প্রধান সড়কগুলো ঘেরের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করে মাছ চাষ শুরু করেন। ফলে বিলের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে সম্প্রদায় ও হতদরিদ্র মানুষ বিলে মাছ শিকার করতে ব্যর্থ হয়ে বাধ্য হয় অন্য পথ বেছে নিতে।
২০০০ সাল থেকে এসব বিলের ওপর নির্ভরশীল কৃষকরা ঘের মালিকদের হাত থেকে বিল উদ্ধার করতে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। কিন্তু ঘের মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে আন্দোলনরত কৃষকদের বিভিন্ন মামলায় ঢুকিয়ে হয়রানি করে বলে কৃষকদের অভিযোগ।
এসব ঘের মালিকরা ঘেরের বাঁধ হিসেবে সরকারি রাস্তা ব্যবহার করায় এ উপজেলার প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ শতাধিক পাকা ও ইটের সোলিং সড়ক হুমকিতে পড়েছে। এর মধ্যে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কসহ কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়ক, কেশবপুর-ভেরচী সড়ক, কেশবপুর-ফতেপুর সড়ক, কলাগাছী-চুকনগর সড়ক, মঙ্গলকোট-হিজলডাঙ্গা সড়ক, মঙ্গলকোট-পাঁচপোতা সড়ক, বাকাবরশি-গড়ভাঙ্গা সড়ক, মজিদপুর-লক্ষ্মীনাথকাটি সড়ক, কেশবপুর-ত্রিমোহিনী সড়ক, ত্রিমোহিনী-সাগরদাঁড়ি সড়কসহ অর্ধশত পাকা সড়ক, মনোহরনগর-বাকডাঙ্গা সড়ক, ব্যাসডাঙ্গা-ইমাননগর সড়ক, শ্রীফলা-মঙ্গলকোট সড়ক, সাবদিয়া-বাজিতপুর সড়কসহ ৭০টি ইটের সোলিং সড়ক ধসে নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারণে এসব সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষ ও ছোট-বড় যানবাহন চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুর আলী জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী সড়ক থেকে ছয় ফুট দূরত্বে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষের জন্য পত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘের মালিকরা তা অমান্য করে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি করে চলেছে। এসব সড়কের দুই পাশে ঢাল না থাকায় কোনো ঠিকাদার সংস্কার করতে চান না।
ইত্তেফাক/নূহু