মানিকগঞ্জ এডিসি জেনারেল মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। বৃত্তের বাইরে গিয়ে প্রতিনিয়ত তিনি ছুটছেন মানুষ গড়ার পিছনে। জেলায় যোগদানের পর থেকে তার কর্মস্থলসহ প্রতিটি রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও দরিদ্র ও মেধাবীদের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন সবসময়।
প্রতিটি মানুষ ছোটবেলা থেকে নৈতিক মূল্যবোধে বলীয়ান হয়ে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক এমনটি চান শাহরিয়ার। নিজেরও এমন ইচ্ছা ছিল। যে কারনে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি স্কাউটস, খেলাঘর ও নাট্যসংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেকে শুদ্ধরুপে তৈরীর চেষ্টা করেন।
এডিসি শাহরিয়ারের প্রাথমিক শিক্ষা কুমিল্লা, চট্টগ্রামও নোয়াখালীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক নোয়াখালী হতে সমাপ্তের পর উচ্চ শিক্ষার্থে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ে দর্শন শাস্ত্রে মাস্টার এ ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ হতে এম.এস.এস. ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিজিডি ইন ম্যাক্রোইকোনমিক এনালাইসিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিজিডি ইন আইটি, আইএমসিবি হতে পিজিডি ইন ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট ডিগ্রী অর্জন করেন।
পরবর্তীতে দক্ষিন কোরিয়ার সিউলে কেওআইসিএ স্কলারস্পীদের মাধ্যমে কেএআইএসটিএ ফিন্যান্স এমবিএ -তে লেখাপড়া করেন। বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল এ অধ্যায়নরত। তিনি লন্ডন, তুরস্ক ও ভারতে বৈদেশিক প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা একদা ঢাকা কলেজের শিক্ষক এই কর্মকর্তা ২০তম বিসিএস এ ইডুকেশন ক্যাডার ছিলেন।
পরবর্তীতে ২২তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করে ২০০৩ সালে ময়মনসিংহ জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে এসি ল্যান্ড, ময়মনসিংহ সদর। বরিশাল ডিসি অফিসে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর পরিকল্পনা বিভাগ ও আইএমইডি বিভাগে সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১৫ সালে তিনি সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলী হন। কদিনেই সুনামগঞ্জে শিশু, কিশোর, তরুনদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন তৈরী করেন। সুনামগঞ্জ ডিবেটিং সোসাইটি, সুনামগঞ্জ জাগরনী, মুক্ত স্কাউটস, রংধনু সামাজিক সংগঠন ও সুনামগঞ্জ ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব প্রতিষ্ঠান করেন। সেগুলো আজ বীজ থেকে চারা গাছে রুপান্তরিত হয়ে ক্রমে বেড়ে উঠেছে।
যার বদৌলতে এ বছর হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলায় প্রথম সুনামগঞ্জ বিতর্ক উৎসব আয়োজিত হয়। ২০১৬ সালে মানিকগঞ্জ জেলায় পদায়নের পর হতে এই কর্মকর্তা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মানিকগঞ্জ জেলা ক্রিড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালনকালে তার সময়ে একটি সুন্দর ক্রীড়া কমিটি তৈরী করেন। তিনি মানিকগঞ্জ আসার পর হতে আইসিটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নৈপুন্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। এ জেলায় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় লার্নিং এন্ড আর্নিং ফেয়ার, ফেসবুক মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে নতুনত্বের ছায়া রাখেন।
এক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য এ বছরের উন্নয়ন মেলা মানিকগঞ্জ বাসী দীর্ঘ দিন মনে রাখবে। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে একনিষ্ঠাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এমন নজির আছে এ কর্মকর্তা রাত ১১ টায় গিয়ে হাজির হয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন। তিনি বিশেষ করে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সচেতনমূলক গ্রামীন উঠান বৈঠকে অফিস সময়ের পর বিভিন্ন সভায় প্রদত্ত বক্তব্য মানুষের মনে দোলা দিয়েছে।
জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিষ্টাচার, জেলা ব্রান্ডিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিরলস কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন শিক্ষার উন্নয়নে তার কর্মকান্ড চোখে পড়ার মত। মানিকগঞ্জ জেলায় যোগদানের পর প্রায় প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিজিট করেন। এ সময় শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত গাওয়া, ছাত্রছাত্রীদের উচ্চারণের প্রতি আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে নিজেই শুদ্ধ উচ্চারনের প্রশিক্ষন ক্লাস করেন। এছাড়া বই হতে প্রশ্ন নির্ধারনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল শিক্ষার মনোনিবেশ করে তোলেন।
মানিকগঞ্জের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিতর্ক দল গঠন ও প্রাথমিক প্রেকটিস, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাব, স্কাউট ও রোভার স্কাউট দল গঠনেও তার চেষ্টা অব্যাহত।
মানিকগঞ্জ জেলা স্কাউটস কমিশনার হিসেবে তার নেতৃত্বে মানিকগঞ্জের প্রাথমিক ২৮ টি বিদ্যালয়ের মাস্টারের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের রিয়েসার্স কোর্স হয়। এছাড়াও জেলা প্রশাসকের নির্দেশ মত ডে-ক্যাম্পসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
এই কর্মকর্তা মানিকগঞ্জে যোগদানের পরপরই সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে মানিকগঞ্জ আইসিটি ক্লাব গঠন করেন। যার হাত ধরে আজ মানিকগঞ্জে দুশতাধিক ফ্রিল্যান্সার তৈরী হয়েছে। তার অন্যতম কাজের মধ্যে মানিকগঞ্জ অদম্য মুক্ত রোভার স্কাউট তথা এর প্রতিষ্ঠা যার মাধ্যমে “বিহদ কুঞ্জ” প্রকল্পের বাস্তবায়নে পাখীর নিরাপদ আবাস গ্রীন, সাইক্লিং এ দেশপ্রেমসহ মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারনা অব্যাহত রয়েছে।
শিশু কিশোর নিয়ে গঠন করেছেন দিশারী ফাউন্ডেশন যার মাধ্যমে মানিকগঞ্জ এর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছ্ত্রাীদের মধ্যে স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং পহেলা বৈশাখে দেয়াল পত্রিকার আয়োজন করা হয়। দিশারী ফাইন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতি মাসে শহরের বেউথা বস্তির শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে বই খাতা বিতরণ করা হয়।
তার উদ্যোগে গঠিত মানিকগঞ্জ তাইকোয়ান্দো ক্লাব এ শিশু-কিশোরদের তাইকোয়ান্দো প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারী শিশু পরিবারের ছেলে ও মেয়েদের পৃথকভাবে তিনি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেছেন।
তার নেতৃত্বে মানিকগঞ্জে মানিকগঞ্জ ড্রামা আর্কেল নামে একটি নাট্য সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে। যারা ইতোমধ্যে মাদকবিরোধী একটি নাটকের কাজ করেছেন। এছাড়া শিক্ষকদের বিভিন্ন ইনোভিয়েটিভ আইডিয়া, সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে তার উদ্যোগে সম্প্রতি তিনি টিচার্চ ড্রিম নামক অনলাইন গ্রপ সৃষ্টি করেছে।
তিনি জানান, অতিসত্বর মানিকগঞ্জ ডিবেটিং সোসাইটি, মানিকগঞ্জ সাইন্স ক্লাব ও মানিকগঞ্জ ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব গঠন করা হবে। এছাড়া সপ্তাহে দুইদিন করে বেউথা সরকারী শিশু পরিবারে দুইদিন ক্লাশ নেন। সর্বোপরি মানুষ গড়ার কাজে নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রাখছেন।
ইত্তেফাক/নূহু